সুচিকিৎসা নিশ্চিতে বেগম জিয়ার মুক্তি সময়ের দাবি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বর্তমানে জেলে আছেন। আইনজ্ঞদের মতে, উদ্দেশ্যমূলক একটি সাজানো মামলায় তার জেল হয়। বর্তমানে জেলে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটছে। এ অবস্থায় তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। তার চেয়ে বেশি জরুরি ঈদের আগে প্যারোলে হলেও তার মুক্তি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও একটি দলের প্রধানের বাইরেও খালেদা জিয়ার আরো পরিচিতি রয়েছে। তিনি সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি, সেনা প্রধান ও একজন সেক্টর কমান্ডার সর্বোপরি জীবন বাজি রেখে দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী। বছরখানেক আগে যার আদরের ছোট সন্তান মারা যায়। আরেক সন্তান বউ-বাচ্চাসহ দেশের বাইরে। অপঘাতে স্বামীকে হারানোর ঘটনা কার না জানা। একের পর এক হারানোর বেদনায় তিনি এমনিতেই কাতর।

আমাদের দেশের হাল আমলের চিত্র বলে দেয়, রাজনীতি না করলে তিনি ভালো থাকতেন। কোনো সমস্যাই হতো না। সন্তানের বউ-বাচ্চাদের নিয়ে তিনি সুখেই থাকতে পারতেন। কিন্তু না, দেশ ও দলের কথা ভেবে তিনি কষ্টকর জেনেও কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। ফলস্বরূপ ভোগ করতে থাকেন অমানসিক যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ। হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য মামলায় তাকে আসামী করা হয়। যার নির্মম পরিণতিতে আজ তিনি জেলে।

যে মামলা ও কারণে তাকে জেল দেওয়া হয়, সে কারণটা অদ্ভূত। যে টাকা তছরুপ করার দায়ে তার জেল হয়েছে, সে টাকা ব্যাংকে সুদে-আসলে দ্বিগুণ হয়েছে। এটা বেগম জিয়া বা তার পরিবারের কেউ ভোগ করেননি। ভোগ করার সম্ভাবনাও নেই। তার পরও মড়ার উপর খাড়ার ঘায়ের মতো প্রায় প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাকে। এটা তার আপসহীনতার মাসুল বৈকি।

৫ জুন জেলে খালেদা জিয়া মাথাঘুরে পড়ে যান। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দাবি, এটা একধরনের স্ট্রোক। যা থেকে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কার রয়েছে। মিডিয়ায় ব্যাপারটি আসার পর দেশব্যাপী সচেতন জনগোষ্ঠীর মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফলে দাবি উঠে তার সুচিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির। শত নাগরিক জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে সুচিকিৎসা ও মানবিক কারণে ঈদের আগে তার মুক্তির দাবি জানানো হয়।

কার না জানা, খালেদা জিয়া সব সময় মানুষের সঙ্গে ছিলেন। এ বয়সের কাউকে একাকিত্ব মানায় না। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা থেকে শুরু করে দেশ গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের অনেক অবদান রয়েছে। সে জন্য হলেও বয়সের ভারে ন্যূব্জ ও কঠিন রোগে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিতে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সময়ের দাবি। সেটা ঈদের আগে শুধু নয়; বরং এ কাজটা যত দ্রুত করা হবে, ততই মঙ্গল।

লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএসএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech