‘সরকার ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের দিকে এগুচ্ছে’

  


পিএনএস ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে কতটুকু সুস্থ সে খবর জানতেও দিচ্ছে না কারাকর্তৃপক্ষ এমন মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, গত পরশু দিন পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে কারাকর্তৃপক্ষ বাধা দেয়।

অসুস্থতার খবর জানতে পারার পরও তার পরিবারের সদস্যদের কারা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়নি। কারাকর্তৃপক্ষ দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে শুধু উদাসীনই নয়, সরকারের নির্দেশে কোন ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের দিকে এগুচ্ছে কী না তা নিয়ে জনমনে এক বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে?

সোমবার (১৬ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আপনারা জানেন, দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বেশ কিছুদিন আগেই বলেছিলেন যে, বেগম জিয়া ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিং এটাক (টিআইএ) এ ভুগছেন। বারবার উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়টি শুধু এড়িয়েই যাচ্ছে না বরং জাতীয় সংসদে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন।

যিনি প্রায়ই জ্বর আর পায়ের ব্যথায় হাঁটতে পর্যন্ত পারছেন না, দেশনেত্রী কিছুদিন আগে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন, এর পরেও তিনি নানাবিধ রোগে আক্রান্ত, অসুস্থতা নিয়ে তার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ষোলো কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত উৎকন্ঠিত রয়েছেন অথচ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছেন বেগম জিয়ার অসুস্থতা না কি বাহানা।

৭৩ বছর বয়স্ক একজন অসুস্থ নারীর প্রতি নারী প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের ব্যঙ্গোক্তি করা নারী জাতির জন্য কলঙ্ক।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী অসুস্থতা এতটাই গুরুতর যে, তিনি নিচতলায় অপেক্ষমাণ স্বজনদের কথা জানতে পেরেও দোতলার নিজ কক্ষ থেকে নেমে আসতে পারেননি। অথচ এর আগে দোতলায় দেশনেত্রীর পাশের কক্ষে দেখা করার অনুমতি দিতো কিন্তু এবার কারাকর্তৃপক্ষ সরকারের হুকুমে পরিবার-পরিজনদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করলো।

তিনি আরো বলেন, আমি দলের পক্ষ থেকে সরকারের এই নিষ্ঠুর আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি । এবং অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালে তাকে ভর্তি করে সুচিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

এছাড়া, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তি এবং সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে আগামী (২০ জুলাই) শুক্রবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় অথবা প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি’র উদ্যোগে বেলা ৩টায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া একই দাবিতে ঐদিন দেশব্যাপী সকল জেলা, মহানগর ও উপজেলা সদরে বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সমাবেশ সফল করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে ।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech