আওয়ামী লীগ বড় জনসমাগম চায়

  


পিএনএস ডেস্ক: আগামী নির্বাচনের আগে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগম ঘটাতে চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তারই অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে বেছে নেয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে জনসমুদ্রে রূপ দিয়ে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটকে সরকারের জনপ্রিয়তার বিশেষ বার্তাটিও দিতে চায় দলটি। অনুষ্ঠানটি দলীয় কর্মসূচি হলেও এদিন সরকারের জনপ্রিয়তার জানান দিতে পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে ক্ষমতাসীনেরা। ইতোমধ্যে প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি জাঁকজমক করার জন্য নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছে দলটির হাইকমান্ড। তৃণমূল নেতাকর্মীদেরও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎপেণ, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জনসহ গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনেক অর্জন আছে। এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তা ছাড়া শুধু দলীয় নেতাকর্মী নন, প্রধানমন্ত্রীর এই অর্জনের কথা সারা দেশের মানুষের জানা উচিত। দেশের জন্য কে কাজ করছে, কে সুনাম বইয়ে আনছেÑ এটাও জনগণের জানা দরকার। আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ তাদের সুচিন্তিত রায় প্রদান করবে। জনগণ যাতে বিভ্রান্তির মধ্যে না পড়ে সে জন্য এখনই মানুষকে সচেতন করা দরকার বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের সুনাম বৃদ্ধি পায়। আর বিএনপি জোট ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগম ঘটাতে চায় আওয়ামী লীগ। সব শ্রেণী-পেশার মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে দলটি। সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবমহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকবে নজিরবিহীন। এ দিন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ করা হবে।

এ ছাড়া ঢাকার পাশর্^বর্তী মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গণসংবর্ধনায় অংশ নেবেন। বাস, ট্রাক ও রেলপথে নেতাকর্মীরা রাজধানীতে এসে বর্ণিল মিছিলসহকারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হবেন। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের এমপি ছাড়াও সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও মিছিলসহকারে সমাবেশে যোগ দেবেন। বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎপেণে অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ গণসংবর্ধনাকে সাম্প্রতিক সময়ের সর্ববৃহৎ জনসভায় রূপ দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ গত সোমবার গণসংবর্ধনার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ৮ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা জেলাসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দণি, ঢাকার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ এমপিদের নিয়ে যৌথসভা করেছেন। ওই সভায় সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবমহিলা লীগসহ কয়েকটি সংগঠন দফায় দফায় প্রস্তুতি সভাও করছে। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নেতৃত্বে মঞ্চ, মাঠ ও আশপাশের সাজসজ্জা উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের অন্যান্য কাজের দায়িত্বও ইতোমধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

সমাবেশে নিরাপত্তার তত্ত্বাবধানে থাকবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনের তথ্য সংবলিত পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার লাগানো হবে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা সফল করার ল্েয ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। তার নেতৃত্বে সোনারগাঁও থেকে যোগ দেবেন ১০ হাজার নেতাকর্মী। এ ল্েয প্রতিদিনই সোনারগাঁও নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশেষ কর্মিসভা করেছেন তিনি। নেতাকর্মীরা হাসনাতের নেতৃত্বে বাস, মাইক্রোবাস এবং ঘোড়া নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে কর্মিসমাবেশ ছাড়াও ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান সফল করার জন্য আজ শুক্রবার রাজধানীর ফকিরাপুলের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল বুকিং দিয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী রেদওয়ান খান বোরহান। রেদওয়ান খান বোরহান কাল চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আগত নেতাকর্মী ও সেখানে বসবাসরত প্রবাসীদের নিয়ে মিছিলে মিছিলে মুখরিত করতে চান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে চাঁদপুরে আমরা বিভিন্ন ইউনিটের সাথে যৌথসভা সম্পন্ন করেছি। নেত্রী সংবর্ধনা সফল করতে নেতাকর্মীরা দুপুরের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হবে। একইভাবে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ড. জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ হাতি-ঘোড়ার সাথে নৌকা নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হবেন। তার সাথে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীও উপস্থিত থাকবেন।

ঢাকা-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চার পাশে শোডাউন করবেন। এ জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন তিনি। ওয়ারী এলাকা থেকে প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে গণসংবর্ধনায় যোগ দেবেন বলে তিনি জানান। ঢাকা-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হারুনর রশিদ মুন্নার নেতৃত্বে ১০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে ইতোমধ্যে তিনটি প্রস্তুতি সভা করেছি। বেলা ১১টায় সবাই ব্যান্ড-বাজনা নিয়ে মুক্তাঙ্গনে উপস্থিত হবো। সেখান থেকে বেলা ১টায় হারুনর রশিদ মুন্না ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবো।

সংবর্ধনার প্রস্তুতি ও জনসমাগম প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখানে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। তিনি বলেন, অনুষ্ঠান যাতে সুশৃঙ্খল হয় সেজন্য শেষ মুহূর্তে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার জন্য সকাল-বিকেল আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিটিং করছি। আশা করছি, অত্যন্ত সুন্দর, সুচারু ও চমৎকার একটি অনুষ্ঠান হবে।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো: আবু কাওছার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিশাল কর্মীবাহিনী পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেবকের দায়িত্ব পালন করবে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দণি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহে আলম মুরাদ বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ প্রতিটি ইউনিট নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকবে চোখে পড়ার মতো।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech