যেকোনো মুহূর্তে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা - রাজনীতি - Premier News Syndicate Limited (PNS)

যেকোনো মুহূর্তে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

  

পিএনএস ডেস্ক :প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদলের নতুন কমিটি। ঘোষণা আসতে পারে যেকোনো সময়। নতুন কমিটির সভাপতি বা সেক্রেটারি ঠিক কে হচ্ছেন- তা এখনও নিশ্চিত জানা যায়নি। কারণ কমিটির চূড়ান্ত তালিকাটি এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। শেষ পর্যন্ত তিনি যাদেরকে মনোনয়ন দেবেন তারাই হবেন ছাত্রদলের আগামী দিনের কাণ্ডারী।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সক্রিয় আন্দোলনে যাওয়া আগেই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা দিতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। কারণ ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির চেইন অব কমান্ড অনেকটা ভেঙে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। তাই সংগঠনের গতিশীলতা আনতে নতুন কমিটির প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নতুন কমিটির সভাপতি বা সেক্রেটারি কে হতে পারে, তা নিয়ে গত কিছু দিন ধরে চূড়ান্তভাবে দলের সিনিয়র নেতা ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে মতামত নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিগত দিনে যারা ক্ষমতাসীনদের অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে আন্দোলন সংগ্রামে সর্বাত্মকভাবে মাঠে ছিলেন এবং সারাদেশের ছাত্রনেতাদের সাথে যাদের যোগাযোগ ভাল এমন নেতাদেরকেই বেছে নিচ্ছেন তিনি বলে জানা গেছে।

ছাত্রদলকে গতিশীল করতে এবং আগামী দিনে রাজপথ কাঁপাতে খুব শিগগিরই যে নতুন কমিটির ঘোষণা আসছে এটি প্রায় নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ ঠিক না হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ঈদের আগেই ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে আসবে বলে সংগঠনটির একাধিক নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দৌড়ঝাঁপ চলছে। কিন্তু কিছুতেই আলোর মুখ দেখছে না নতুন কমিটি। সম্প্রতি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এবার ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বাছাই করেছে সার্চ কমিটি। বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরাই এ কমিটিতে রয়েছেন। তারা অতীতের মতো কোনো বিশেষ অঞ্চলকে প্রাধান্য না দিয়ে স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বাছাই করেছেন। যাতে বিগত কমিটি গঠনের পর যে রকম বিদ্রোহ হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি না হয়। এ জন্য লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটি গঠনের পর পদবঞ্চিতদের সম্ভাব্য বিদ্রোহের আশঙ্কা থাকলেও ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। কারণ ঈদুল আজহার পরে সক্রিয় আন্দোলনে যাওয়ার আগে সব ইউনিট কমিটি গঠনের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন, আংশিক কমিটিগুলোও পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে দলের হাইকমান্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন আমাদের চলমান প্রক্রিয়া। দলকে শক্তিশালী করতে হলেই অবশ্যই সংগঠনগুলোকে ঠিক করতে হবে।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ এটা আমাদের জানা আছে। তবে এটা ঠিক যে নতুন কমিটি গঠন করতে পারলে সংগঠনের গতিশীলতা আসবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, ‘শিগগিরই ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন বলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অবহিত করা হয়েছে।’ তিনি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন বলেও দাবি করেন ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি।

নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, ইখতিয়ার রহমান কবির, আব্দুল ওয়াহাব, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, মামুন বিল্লাহ, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম-সম্পাদক করিম সরকার, মিয়া মোহাম্মদ রাসেল, কাজী মোকতার হোসেন, মিজানুর রহমান সোহাগ, নূরুল হুদা বাবু, আবদুর রহিম হাওলাদার সেতু, আবুল হাসান, মফিজুর রহমান আশিক, শামছুল আলম রানা, মেহবুব মাসুম শান্ত, বায়েজিদ আরেফিন, ওমর ফারুক মুন্না, মির্জা ইয়াসিন, গোলাম মোস্তফা, আরোজ আলী শান্ত, দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আল মেহেদী তালুকদার প্রমুখ।

ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান জানান, ‘বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই আমাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য সক্রিয় আন্দোলন জোরদারে ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন এতো হিসেব করে লাভ নেই, ত্যাগী নেতাদের নিয়ে কমিটি দিয়ে আন্দোলন সফল হওয়ার পর সব হিসেবই করা যাবে। তাই আমরা দ্রুত কমিটি ঘোষণার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’

ছাত্রদলের আরেক সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘চার বছর হতে চললো ছাত্রদলের কমিটি। স্বভাবতই নতুন কমিটির দাবিটা যৌক্তিক। মাঠ পর্যায়ও চাচ্ছে নতুন কমিটির মাধ্যমে নব উদ্দীপনা সৃষ্টি হোক। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান হোক। তবে সব কিছু নির্ভর করছে আমাদের আদর্শিক নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সবাইকে সাংগঠনিক রীতি মেনেই কাজ করতে হবে।’

ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী জানান, ‘তিন বছর আগে করা হয়েছে। ফলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন পার্টির হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিবেন কবে নাগাদ নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন।’

উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি আর মামুনুর রশিদ মামুনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩৬ সদস্যের ‘ঢাউস’ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিলে রাজীব, মামুন ও আকরামকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়।

ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদি কমিটি ঘোষণা করা হয়। সে হিসেবে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর শেষ হয়েছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় পদপ্রত্যাশীরা নতুন কমিটির দাবি আন্দোলন করে আসছে। বর্তমান কমিটির প্রতি অনাস্থা জানানো হয়। নতুন কমিটির দাবিতে ছাত্রদলের এক নেতা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় অনশনও পালন করেন। কিন্তু দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর কমিটি গঠন প্রক্রিয়া থমকে যায়।

পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংগঠনের অনুসারীরা। তাই নতুন কমিটির দাবি আবারও সামনে নিয়ে আসছে সংগঠনের ভেতরের ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সূত্র: ব্রেকিংনিউজ

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech