নির্বাচনী রাজনীতির মাঠে ওরা কারা : অতীতের অর্জন কি?

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : রাজনীতির নামে নির্বাচনী জোটে যাদের দৌড়-ঝাঁপ পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাদের অনেককে দেখে রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হচ্ছে। তাদের ধারণা, এরা রাজনীতি করলে রাজনীতির রাজার নীতি থাকল কই। নির্বাচন এলেই যাদের বিশেষ তৎপরতা দেখা যায়।

আদতেই রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আগে যারা ভাড়ায় খাটত রাজনীতিকদের সভা-সমাবেশে, খোলাসা করে বললে লোক সাপ্লাই দিত, তারা নিজেই এখন রাজনীতিক দলের হোমরা-চোমরা! বরং তারাই এখন সভা-সেমিনার ডেকে কাগজে বাঘ হিসেবে পরিচিতদের জড় করছেন।

এই-সেই-ওই নানা বাহারি নাম ব্যবহার করে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিষয় নির্ধারণ করে তারা টিভি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চেহারা দেখানোর ভালোই কসরৎ করছে। রাজপথের টোকাই মার্কা এদের কথিত দল-সংগঠন নানা জোটে স্থান করে নিতে দেখে বনেদি রাজনীতিকরা রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে যারপরনাই চিন্তিত।

আগে যারা রাজনীতি করতেন, সেটা তারা করতেন একেবারেই জনসেবা হিসেবে। জনমানুষের কল্যাণে যাদের জীবন ও সম্পদ অনেকটা নিবেদিত ছিল। যারা শয়নে-স্বপনে ভাবতেন কী করে মানুষকে মুক্তি দেওয়া যায়, ভালো রাখা যায়। তাদের পাশে সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ানো যায়।

আর আজকের কথিত রাজনীতিকরা সম্পূর্ণ বিপরীত। নিজের জন্য ওদের চাওয়া-পাওয়াটাই যেন মূল। জনকল্যাণ, জনপ্রত্যাশা আর মানুষের জন্য সেবার যে আন্তরিকতা, সেটা খুঁজে পাওয়া যায় না। রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি, লুটপাট, পেশিশক্তি প্রদর্শন আর দখলই যেন তাদের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হালে অনেকে গাপলপারা। শীত এলে পাগলদের যেমন পাগলামী বাড়ে তেমনি নির্বাচন এলে রাজনীতিকদের অনেকেরই যেন হুঁশ থাকে না। এরা দল ভারী করার জন্য আগ-পিছ না ভেবে রাজনীতির নামে আবর্জনাসমদের নিয়ে সর্বনাশা খেলায় নেমে পড়েন।

যে খেলায় অতীতের অজাতশত্রু বন্ধু বনে যান! এমনটা করে রাজনীতিতে শেষ কথা নেই বলে তারা আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন। আর নির্বাচনের আগে দল ভাঙ্গা-গড়ার নামে কোরবানির গরুর মতো নিজেকে বিলিয়ে দেন নীতি-আদর্শহীনরা। যারা এমনটা করে, এদের দ্বারা দেশ ও জাতির কোনো লাভ না হলেও তারা ভাগ্য বদলের অবাধ সুযোগ পাওয়ায় এ তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।

দেশ, জাতি, মানুষের কল্যাণ এবং মঙ্গলের জন্য নয়, কেবল ক্ষমতায় থাকা আর যাওয়ার জন্য সর্বোপরি ক্ষমতার মধু-মণ্ডা-মিঠাই খাওয়ার জন্য তারা এসব করে আর করছে। আর এসব কাগুজে বাঘদের দেশের মানুষের জানা আছে।

জনমানুষের কল্যাণে যারা রাজনীতি করছেন, তাদের কাজে প্রশ্ন- সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিপরীতে কী কী কর্মসূচি তারা পালন করেছেন, গ্যাসের দাম কয়েকগুণ বাড়ার পর কদিন হরতাল করেছেন, শেয়ারবাজার লুটের পর হরতাল দেননি কেন, বিডিআরের পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যার পর কী কী কর্মসূচি পালন করেছেন, সীমান্তের বাংলাদেশীদের নির্বিচারে হত্যার পর কী কর্মসূচি পালন করেছেন- একের পর এক ব্যাংক লুটের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রীয় ব্যাংক লুটের পর কী কর্মসূচি পালন করেছেন!

নির্বাচনী এলে যারা দল, জোট করতে মরিয়া- সে দল ও জোটের অতীতের এ কাজগুলো দেখে জোটে নেওয়া এবং ভোট দেওয়া সময়ের দাবি। সময়ের চাহিদা পূরণে যারা ব্যর্থ, সেসব রাজনীতিক দল ও ব্যক্তিদের প্রতি করুণা ছাড়া গণতন্ত্রকামিদের আর কিছুই করার নেই।

লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech