ড. কামাল অসুস্থতার কারণে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যাচ্ছেন না

  

পিএনএস ডেস্ক: শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যাচ্ছেন না বিশিষ্ট সংবিধানপ্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু।

সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী প্লেনে ওঠার আগে মন্টু বলেন, ড. কামাল হোসেন আমাদের সঙ্গে ফ্লাইটে ওঠার কথা থাকলেও অসুস্থ বিধায় তিনি আজকের সমাবেশে যেতে পারছেন না।

সিলেট-চট্টগ্রামের পর রাজশাহীতে আজ সমাবেশ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এ সমাবেশ। এরইমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সমাবেশে ঘিরে যেকোনও বিশৃঙ্খলা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য।

নেতারা জানান, তিন দফা পিছিয়ে পুলিশের ১২ শর্ত মেনেই সমাবেশ করতে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি অ স ম আব্দুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অন্যান্য নেতারা থাকবেন এ সমাবেশে।

নির্বচানের তফসিল ঘোষণার পর সরকার বিরোধী জোটের প্রথম সমাবেশ হওয়ায় এটি ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। ঐক্যফ্রন্টের দাবি অগ্রাহ্য করে তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে রাজশাহীর এ সমাবেশ থেকে আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে, এমনই আভাস দিয়েছেন জোটের নেতারা।

শুরুতে ঢাকা থেকে রাজশাহী অভিমুখী রোডমার্চ শেষে এ সমাবেশ করার কথা থাকলেও রোডমার্চ স্থগিত করে এখন শুধু সমাবেশই করবে বিরোধী এ রাজনৈতিক জোট। তবে এ সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশের অসৌজ্যমূলক আচরণের ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

সমাবেশের জন্য নির্ধারিত স্থানে অনুমতি পাওয়া না পাওয়া নিয়েও চলছিল নানা রকম টালবাহানা। শেষ পর্যন্ত শহরের প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার গণকপাড়া বড় রাস্তায় সমাবেশের হুঙ্কার আসলে মেলে মাদরাসা মাঠের অনুমতি।

তবে আকস্মিক রাজশাহী রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। একে সমাবেশ বানচালের পায়তারা হিসেবে দেখছে নেতাকর্মীরা। গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও পথে পথে পুলিশের বাঁধার শঙ্কা মাথায় রেখেই প্রস্তুত নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রাজশাহীতে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে গত ২২ অক্টোবর নগর বিএনপি সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কাছে আবেদন করেন। পরে বিএনপি নেতারা কয়েকবার আরএমপি কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু অনুমতি মিলছিল না।

সর্বশেষ গত বুধবার দুপুরে বুলবুল ও মিলন আরএমপি কমিশনারের কাছে যান। ওই দিন বিকালে পুলিশ নগরীর গণকপাড়া মোড়ে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার কথা জানালেও পরে মাদরাসা মাঠে সায় দেয়।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন জানান, র্যা ব, ডিবি ও পুলিশ লাঠি হতে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজিয়ে মহড়া দিচ্ছে। তারা যেকোনভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে শহরকে ফাঁকা করতে চাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। ভোর রাত থেকে গণগ্রেপ্তার শুরু হবে বলেও আশঙ্কার প্রকাশ করেন।

সমাবেশ সফল করার জন্য রাজশাহীর নেতাকর্মীরা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় মহাসমাবেশ থেকেই সরকার পতন আন্দোলন শুরু হবে।

মহানগর বিএনপি সভাপতি সাবেক রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সহযোগিতার আশ্বাসবাণী শুনিয়েছিলেন তার পুরোপুরি উল্টো চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজশাহী, আশেপাশের জেলা ও থানায় বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এরপরও জনসভায় বিপুল সাড়া পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech