ইসি-আ.লীগ একই সুরে কথা বলছেন: রিজভী

  

পিএনএস ডেস্ক : সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা একই সূরে কথা বলছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মূলত সরকারের হুকুম তামিল করতেই ব্যস্ত রয়েছে নির্বাচন কমিশন বলেও অভিযোগ তার।

রবিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর ১২ টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। শুধু তাই নয় প্রশাসনকেও নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার কঠোরভাবে। দেশজুড়ে এখনও গায়েবি মামলা, গ্রেফতার, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে নিপীড়ণ অব্যাহত রয়েছে আগের মতোই। একজন নির্বাচন কমিশনার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও প্রশাসনকে ইসির অধীনে নেয়ার প্রস্তাব করলেও সিইসি ও কতিপয় কমিশনার তা আপত্তি জানান। মূলত সরকারের হুকুম তামিল করতেই ব্যস্ত রয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির কর্মকর্তারা ও আওয়ামী নেতারা এখন কথা বলছেন একই সুরে।

‘বেশ কিছুদিন আগে সিইসি বলেছিলেন-বাংলাদেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, গত দুদিন আগে আরেকজন কমিশনার বললেন অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবও বলেছেন পৃথিবীর কোন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না, বাংলাদেশেও শভাগ স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন হবে না। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তাদের বক্তব্য এক আশঙ্কাজনক অশনি শংকেত। সিইসি ও ইসির বক্তব্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও ভোট ডাকাতিতে উৎসাহিত করবে। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য শপথ নিয়েছেন, কিন্তু নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তারা শপথ ভঙ্গ করেছেন। যে বক্তব্যটি অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকেই উৎসাহ যোগাবে।’
রিজভী বলেন, ‘পুলিশের বেপরোয়া আচরণ ও হয়রানীতে আবারো ফেনী মার্কা নির্বাচনের আলামত পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা ও গ্রেফতার পাহাড়ি ঢলের মতো ধেয়ে চলেছে দেশব্যাপী। গতকালও ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ঝিনাইদহ, ফেনি, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে বিনা মামলায়, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ কর্তৃক প্রিজাইডিং অফিসারদের নাম চাওয়া, বিএনপির কোন লোক নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে কিনা ইত্যাদি তদারকি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। সারাদেশে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ তালিকা তৈরি করছে। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের মধ্যে কারা কারা সরকার দলের সমর্থক, কারা বিরোধীদলের সমর্থক তাদের তালিকা করছে তারা। এমনকি বিরোধী মতের সমর্থক হলে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হচ্ছে বা তাদের হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে আপনারা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন না। গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে মোবাইলেও তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের প্রকাশ্য ও গোপন হুমকিতে এ নিয়ে দেশজুড়ে শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনাচারে লিপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নেপথ্যলোকের বার্তানুযায়ী কাজ করছে বলেই ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় চোখ বন্ধ করে রাখে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ নেই বলেই এখন পর্যন্ত তাদের কোনো কাজ তারিফযোগ্য হয়নি। আইন, আদালত ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণরুপে গ্রাস করার পরে কব্জার মধ্যে থাকা নির্বাচন কমিশনকে একেবারে গিলে ফেলেছে সরকার। এখন নোংরাভাবে ইসিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ ইসির কতিপয় কর্মকর্তা সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আত্মা বিক্রির শর্তেই কতিপয় নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

বিটিভিসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনকে চাপ প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিটিভি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান হলেও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও আওয়ামী লীগের পক্ষে একচেটিয়া প্রচারণা চালানো হচ্ছে। গতকাল একটি বেসরকারি টেলিভিশনে নির্বাচনি জনমত জরিপের নামে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে কৃত্রিমভাবে জনমত বেশি দেখিয়ে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। যা সুস্পষ্ট আচরণ বিধি লঙ্ঘনই নয়, ক্ষমতাসীনদের পক্ষে নগ্ন দালালির নামান্তর মাত্র। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিসহ বেসরকারি টেলিভিশনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোন চিহ্নই নেই, তফসিল ঘোষণার পরও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিসহ কতিপয় বেসরকারী টেলিভিশন নির্লজ্জ মোসাহেবী করছে সরকারি দলের পক্ষে। আমি অবিলম্বে সকল টেলিভিশনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা নিতে ইসির প্রতি আহবান জানাচ্ছি।’

নিজের নামে কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘বেশ কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করছি যে, আমি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমার নামে কয়েকটি ভূয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন বক্তব্য, মন্তব্য, মতামত প্রকাশ করা হচ্ছে। আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, আমার নামে আমি কোনও ফেসবুক খুলিনি। সুতরাং এই সমস্ত ভূয়া অ্যাকাউন্ট এর কোনো মতামতের সঙ্গে আমার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এর কোনো দায়-দায়িত্বও আমার নেই। সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করবো এই সব ভূয়া অ্যাকাউন্ট খুলে আমার নামে চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য। ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।’

‘আমি বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদকে কোন দিন হাসতে দেখিনি’- আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রিজভী বলেন, ‘আমার চারপাশ থেকে প্রতিদিন নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে, গুম হচ্ছে তারপরও আমাকে হাসতে হবে এটা পারবো না। আমি কৃতদাসের হাসি হাসতে পারবো না।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, আব্দুল আউয়াল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech