সরকার ধোঁকাবাজি করে ক্ষমতায় আছে : মঈন খান

  


পিএনএস ডেস্ক: বিশ্বের রোড মডেল হলে কেনো জাতিসংঘের ‘সুখী দেশের তালিকা‘য় বাংলাদেশের অবস্থান নিচে নেমে গেছে? সরকারের কাছে এই প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, বর্তমান সরকার ধোঁকাবাজি করে ক্ষমতায় আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘের সুখী দেশের তালিকার প্রসঙ্গ টেনে আজ শুক্রবার সকালে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকের পত্রিকায় আছে, গতকাল জাতিসংঘ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। সেই রিপোর্টটা হচ্ছে, বিশ্বের কোন কোন দেশ সুখী তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এই কথা বলতে লজ্জ্বা হয়, এবারের তালিকায় বাংলাদেশ সুখী দেশের যে সিরিয়াল, সেই সিরিয়ালে আরো ১০টি পজিশন নিচে নেমে গেছে।

তাহলে আমার প্রশ্ন- সরকার যে দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা রেডিও-টেলিভিশনে বলছে, বাংলাদেশ নাকী বিশ্বের রোল মডেল। বাংলাদেশ যদি বিশ্বের রোল মডেল হয়ে থাকে তাহলে বিশ্বের সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১০ ধাপ কেনো নিচে গেলো- সেই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।

আমি বলতে চাই, ধোঁকাবাজি দিয়ে চিরদিন থাকা যায় না। আপনারা বিশ্বের এক মনীষীর কথা শুনেছেন, তিনি বলেছিলেন, কিছু লোককে চিরদিনের জন্য ধোঁকা দেয়া যায় অথবা সব মানুষকে কিছু সময়ের জন্য ধোঁকা দেয়া যায় কিন্তু সব মানুষকে চিরদিনের জন্য ধোঁকা দিয়ে রাখা যায় না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন কর্মসূচি হয়। মহিলা দলের নেতা-কর্মী অসুস্থ কারাবন্দি নেত্রীর মুক্তির দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরী আরা সাফা, মহিলা দলের নেত্রী পেয়ারা মোস্তফা, শামসুন্নাহার ভুঁইয়া, রোকেয়া চৌধুরী বেবী, রহিমা শিকদার, মমতাজ করিম, ফারজানা রুমা, বীনা চৌধুরী, রাশেদা জামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে অভিযোগ করে আবদুল মঈন খান বলেন, আজকে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সরকার তারা আপনাদের (গণমাধ্যম) ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করে, অলিখিত সেন্সরশীপ প্রয়োগ করে, অলিখিত বাকশালের ক্ষমতা প্রয়োগ করে আপনাদের স্বাধীনতা, আপনাদের স্বাধীনভাবে কথা বলার যে অধিকার, সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

এটা চিরদিন তারা (সরকার) করতে পারবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রগামী মানুষ এর প্রতিবাদ করবে। ইনশাল্লাহ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুনরায় এদেশের গণতন্ত্র কায়েম করবে, সেই গণতন্ত্র হবে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সেই গণতন্ত্র বাকশালী গণতন্ত্র নয়।

খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে সরকারের নির্দেশে। এদেশে সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে, তারা পুলিশকে দখল করেছেন, তারা র্যাকবকে দখল করেছে। শুধু এটা নয় তারা বিচার বিভাগকে দখল করে নিয়েছে। এদেশে ন্যায় বিচার নাই, এদেশের কর্তার ইচ্ছায় কর্ম।

মঈন খান বলেন, ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগে দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলো। দেশের মানুষ সেটা গ্রহন করে নাই। আজকে স্বাধীনতার মাস। দেশের ১৮ কোটি মানুষকে মনে করিয়ে দিতে চাই, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয় নাই। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো গণতন্ত্রের জন্য, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো এদেশের দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য।

‘বাকশালের মাধ্যমে গণতন্ত্র হয়‘ -প্রধানমন্ত্রীর এরকম বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশে আজ মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে। দরিদ্র মানুষের রক্তের জল করা ট্যাক্সের হাজার লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করে বর্তমান সরকার মেগা প্রকেক্ট করছে। এতে কার লাভ করছে? সরকারের গুঁটি কয়েক পোষা মানুষের লাভ হবে, সাধারণ দরিদ্র মানুষের কিছু হয় নাই।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech