মাত্র দু’জন টোকাই ধরলেন, এদেরকে আমি চুনোপুঁটিও বলি না: মির্জা আব্বাস

  

পিএনএস ডেস্ক:ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘মাত্র দু’জনকে ধরলেন। এদেরকে আমি চুনোপুঁটিও বলি না, টোকাই ধরলেন মাত্র। এই প্রকারের টোকাইয়ের পকেট থেকে যদি এত টাকা বের হয় তাহলে আপনাদের রাঘব বোয়ালদের পকেট থেকে কত টাকা বের হবে- এটা দেশবাসী জানতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আব্বাস বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, আপনি ঘর থেকে শুরু করেছেন ‘শুদ্ধি অভিযান’। আমরা আপনার এ বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। ইনশাল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি আপনি রাঘববোয়ালগুলোকেও ধরবেন বলে প্রত্যাশা রাখি।’

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কৃষকদল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই সরকার রাতের অন্ধকারের সরকার। তাদেরকে ‘ডাকাত সরকার’ বলতেও আমার লজ্জা লাগে। কারণ ডাকাতেরও সাহস আছে। এই সরকারের সেই সাহসও নেই। এই সরকারের লজ্জাবোধটুকুও নেই। তারা রাতের অন্ধকারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে ভোট কেটে ক্ষমতায় বসে আছে। এ দেশে কোনও ভোট হয়নি। ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ইলেকশন কমিশন বলেছে, এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সেই কথা অনুযায়ী বর্তমান সরকারের শাসনামলে অতীতের নির্বাচনগুলোও সুষ্ঠু হয় নাই। এখন আমরা এগুলো নিয়ে যখন যুদ্ধ করছি সারা বিশ্ব তখন উন্নয়নের সোপানে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ পেছনে পড়ে যাচ্ছে।’

আব্বাস বলেন, ‘মাত্র ক’দিন আগে পূজা উপলক্ষে ভারতকে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ উপহার দেয়া হয়েছে। আজকে দুই চালান, দুই ট্রাক গেছে মাত্র। ৫০০ টাকা কেজি হিসেবে ওখানে গেছে। আমরা বাংলাদেশের জনগণ আত্মীয়তা ভালোবাসি, পছন্দও করি। বিনিময়ে আমরা কী পেলাম? ফারাক্কার ১০৯ লকগেট খুলে দিয়েছে ভারত, আবারও বন্যা আতঙ্কের মুখে বাংলাদেশ। ইলিশ মাছ উপহার দেয়ার কারণও আছে, পেঁয়াজ ছাড়া তো আর ইলিশ মাছ খাওয়া যাবে না। তাই ভারত যেহেতু পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে এখন পদ্মার ইলিশ ঘরে নিয়ে খাবেন কিভাবে? এজন্যই হয়তো সরকার ৫০০ টাকা কেজি দরে এত ইলিশ ভারতকে দিয়ে দিয়েছে।’

পেঁয়াজের বাজার প্রসঙ্গে আব্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পেঁয়াজের দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। আমাদের এক মন্ত্রী না সচিব বললেন- উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নাই। আমি উনার কাছে জানতে চাই- পেঁয়াজ কত টাকা কেজি হলে আপনি উদ্বিগ্ন হবেন- এই কথাটা একটু প্রকাশ করবেন কি?’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে শ্রদ্ধার সহিত বিনয়ের সাথে একটি কথা বলতে চাই- কোন স্কুলে আপনি এবং আপনার ছাত্ররা (দল ও সরকারের এমপি-মন্ত্রী) পড়াশোনা করে এসেছেন সেটা যদি একটু বলতেন আমরা সেখানে গিয়ে ‘মিথ্যা কথাটা’ একটু শিখে আসতাম। ওই স্কুলে আমরা পড়ি নাই, ঠিকানাও জানি না। এই যে হাছান মাহমুদ না কি জানি একটা- এই যে বুইড়া খাটাশ আমি নাম বলবো না- আমরা আপনাদের প্রজ্ঞা ও বুদ্ধির প্রশংসা করি। কিন্তু ওই প্রজ্ঞা ও বুদ্ধি দেশের কাজে লাগান, দেশের মানুষের কাজে লাগান, দেশের উন্নয়নের কাজে লাগান।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আজকে পুরো বিএনপিকে গ্রাস করার চেষ্টা করছেন। বিএনপি হলো একটি দেশপ্রেমিক দল। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন টাকার হিসাব নাকি সকলকে দিতে হবে। ২০০৬ সালের পর থেকে ওই দুদকের অফিস আর কোর্ট-কাচারিতে হিসেব দিতে দিতে জান শেষ। আমরা তো হিসাব দিতেই আছি, এখন আপনাদের হিসেবটুকু দেন না। জনগণতো জানতে চায়।’

বিএনপির সভা-সমাবেশে বাধা-বিপত্তি সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইয়েরা দেখেছেন, পুলিশ কীভাবে আমাদের সমাবেশগুলোতে বাধা দিয়েছে। সভাস্থলে ঢোকার মাইলকে মাইল দূর থেকে গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ করে দিয়েছে, ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে। সমস্ত রকম যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও ময়মনসিংহের সমাবেশে অস্বাভাবিক জনসমাগম হয়েছে। আর রাজশাহী জনসভায় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বিশেষ করে পুলিশি হিংস্রতা উপেক্ষা করে জনগণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এই দাবি আজকে বিএনপির দাবি নয়, এই দাবি বাংলাদেশের জনগণের দাবি।’

ঢাকার সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘এদেশের মানুষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির অপেক্ষায় আছে। আর এটাই সরকারের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেত্রী অসুস্থ, মানবিক কারণে তিনি মুক্তি পেতে পারেন, চিকিৎসা পেতে পারেন। উনাকে চিকিৎসার জন্যও কোনও সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। যদিও আইওয়াশ দেয়া হচ্ছে যে, ওনাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জেলখানার মধ্যে এটা কোনও চিকিৎসা না। তিলে তিলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে এ দেশের ভবিষ্যত রাষ্ট্রপ্রধান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দিনরাত ষড়যন্ত্র করছে সরকার।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এদেশের মানুষ মনে করে আজকে দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে দেশের বাহিরে আন্তর্জাতিকভাবে যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা একমাত্র দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াই পাড়েন সামাল দিতে। কোনও অনৈতিক সরকার এটা সামাল দিতে পারবে না।’

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘ওইদিন টিআইবি রিপোর্ট বলেছে তারেক রহমানকে অপরাধী প্রমাণ করতে বাংলাদেশ সরকারের ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সরকার ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে- এতে আমার কোন ওদুঃখ নাই। আমার প্রশ্ন হলো- এই টাকা সরকার পেলো কোথা থেকে?’

কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসকে সাদীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, আবুল খায়ের ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ইউনূস মৃধা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসির হায়দার, মাইনুল ইসলাম, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দীন মামুন, কৃষক দল নেতা আলিম হোসেন, মোজাম্মেল হক মিন্টু সওদাগর, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, এম জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুর রাজি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech