দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির শেষ কোথায়?

  


পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, কতিপয় রাজনৈতিক নেতা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও লুটের মাধ্যমে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছে।তার মতে, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও অসাম্প্রদায়িক অবসানে ১৪ দলের কর্মসূচির বিপরীতটাই ঘটেছে এ যাবৎকাল। তিনি আরো বলেন, রাজনীতিবিদদের হাতে এখন আর রাজনীতি নেই। রাজনীতি দখল করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

৫ অক্টোবর রবিবার সকাল ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়াম চত্বরে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে সাবেক মন্ত্রী এবং ১৪ দলীয় মহাজোটের অন্যতম শরিক রাশেদ খান মেনন এমপি ক্ষোভের সঙ্গে এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যগুলো বর্তমান সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে তিনি সময়ের সাহসী উচ্চারণ করছেন বললে মোটেও অতিরঞ্জিত হবে না।কেননা, এর আগে একজন প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, বাজিগরের হাতে চলে গেছে দেশ।

রাশেদ খান মেনন একটি বনেদি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। রাজনীতির দিক দিয়ে অত্যন্ত সচেতন। সাবেক ছাত্র নেতাও। এমপি হয়েছেন বেশ কয়েকবার। তার মতো একজন রাজনীতিকের বক্তব্য ও মন্তব্য একেবারে ফেলনার নয়। বরং তার বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায় প্রায় শতভাগ। ক্ষমতাসীনদের একজন গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল ও নেতার বক্তবের বাস্তবতা দেশবাসী দীর্ঘদিন ধরে সরেজমিন দেখে আসছে।

রাজনীতি যে রাজনীতিবিদদের হাতে নেই এবং রাজনীতি দখল করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা, এটা শতভাগ সত্য। আজকের সমাজের যেদিকেই তাকানো হোক না কেন, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও অপরাজনীতির কারণগুলো প্রায় সর্বত্রই দৃশ্যমান।রাজনীতির নামে জালিয়াতি, চাঁদাবাজি, রাহাজানি, খুন-জখম, নৈরাজ্য, দখলবাজি, সন্ত্রাস যখন সমাজকে গ্রাস করেছে, তখন ক্যাসিনো জুয়ার আসরে কথিত রাজনীতিকদের হকের রকম অনৈতিক কার্মকাণ্ড জনাব মেনের বক্তব্যের সত্যতাকেই সত্যায়িত করছে।

নষ্ট ও কথিত রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় তারা হেন কাজ নেই, যা করেনি। হরেক রকম মদ, জুয়া, মেয়ে মানুষ নিয়ে কদর্য, কী করেনি তারা। রাজনীতির নামে, রাজনীতির পদ-পদবী ব্যবহার করে ক্ষমতার আড়ালে তারা একেক জন যে ফ্রাঙ্কিস্টাইনের দানবে পরিণত হয়েছে, এসব অপরিণামদর্শীদের অপরাধজনিত কার্যক্রমের কিঞ্চিত মাত্র প্রত্যক্ষ করে আসছে দেশবাসী।স্বল্প সময়ে টাকার পাহাড় গড়ার গল্প সর্বস্তরের মানুষকে হতবাক করেছে।

রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সহজে কীভাবে টাকা কামানো যায় এবং টাকার কুমিরে পরিণত হওয়া যায়- এর একটা মহড়া চলছে। ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ারবাজার লুট, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আন্তর্জাতিক জুয়ার আসরে চলে যাওয়ার পর দেশে ক্রীড়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠানগুলো জুয়াড়িদের আখড়ায় পরিণত হওয়ায় ক্রীড়া সংগঠক ও রাজনীতিবিদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।

রাজনীতিকে যে বা যারা কুলুষিত করেছে এবং করছে, এর পেছনে যারা গডফাদার এবং রাগববোয়াল হিসেবে কলকাঠি নাড়ছে- যারা এর সুফলের অংশীদার ও অংশীজন, ৭১ বছর বয়সেও যারা যুবলীগের নেতৃত্বে, যারা জেনে-বুঝে এসবকে লালন করেছে, যারা এসেব অপকর্মের মূল হোতা, তাদের প্রত্যেককে সাঁড়াশি অভিযানের মধ্য দিয়ে পাপের শাস্তি ভোগের আওতায় দেখতে চায় ফোঁড় খাওয়া সচেতন দেশবাসী।


অবশেষে সম্রাটকে আটক করা হয়েছে। যদিও এটা নিয়ে নানা গালগল্প আছে। এর মধ্য দিয়ে ক্যাসিনো সাম্রাজের পতন হয়েছে ভাবলে বা বুঝাতে চাইলে চলবে না। সম্রাটকে যারা পরিচালনা করতেন এবং তার কাছ থেকে নজরানা নিতেন, পর্দার অন্তরালের সে মুখোশধারী গডফাদারদের এ অভিযানের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় বৃষবৃক্ষ থেকে চারা গজানোর আশঙ্কা থেকে যায়।অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মূলে আন্তরিক হলে সম্রাট যাদের মাসোয়ারা দিতেন, তাদের মুখোশ উন্মুচন সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech