বুয়েটে আবরার হত্যাকান্ডে বিভিন্ন ইসলামী দলের বিবৃতি

  

পিএনএস ডেস্ক: বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলের রুম থেকে একজন মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে ধরে নিয়ে হলের ভেতরেই নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশবাসী স্তম্ভিত। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সভাপতি আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভারতের সাথে সরকারের দেশবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করায় বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নৃশংস ও পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেছে। আবরার হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মুফতি ওয়াক্কাস বলেন, দেশের প্রতিবাদী মানুষের রক্তে সরকারের হাত রঞ্জিত। দেশে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নিজের অপকর্ম, দুর্নীতি ঢাকার মরণপ্রাণ যে প্রচেষ্টা করছে সরকার তারই একটি অংশ হিসেবে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে আবরার হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে পরিণতি শুভ হবে না। তিনি আবরারের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগ

বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা সুজা ও মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের। নেতৃবৃন্দ বলেন, এ রকম বর্বরোচিতভাবে পিটিয়ে জলজ্যান্ত একজন মেধাবী ছাত্র হত্যা করা যাদের পক্ষে সম্ভব তাদের সভ্য সমাজে বাস করার কোনো অধিকার নেই। অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও কারণে এই রকম হত্যাকান্ডের উপযুক্ত শাস্তি হয়নি বিধায়ই এ ধরনের ঘটনা আজো ঘটছে।

খেলাফত মজলিস
বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলের রুম থেকে একজন মেধাবী ছাত্রকে ধরে নিয়ে হলের ভেতরেই নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশবাসী স্তম্ভিত। সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের অপকর্ম থামছেই না। একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজির ঘটনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পরই আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের পক্ষে কথা বলার কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়া হচ্ছে। একজন দেশপ্রেমিক মেধাবী ছাত্রকে রুম থেকে ধরে নিয়ে হলের ভেতরে এভাবে পিটিয়ে হত্যা জাতির ভাবিষ্যতের জন্য এক অশনিসঙ্কেত।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয়, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার সাথে জড়িত ছাত্রলীগের সকল খুনিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

ইশা ছাত্র আন্দোলন
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ এক বিবৃতিতে বলেন, বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে গভীর রাতে হলে নৃশংসভাবে হত্যাকাÐের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের হত্যাযজ্ঞ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, খবরে প্রকাশিত হয়েছে, খুনিরা ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার দায়িত্বশীল। ছাত্রলীগকে আমরা একটি ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জানতাম। এই ঘটনায় প্রমাণ হলো ছাত্রলীগ উন্মাদ খুনিও তৈরি করে; যারা নিজেদেরই ক্যাম্পাসের একজন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে।
আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের পর তার কল্পিত রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে এনে এমন পশুসুলভ হত্যাকান্ডকেও নৈতিকভাবে সমর্থন ও বৈধতাদানের প্রয়াস চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এমন ঘৃণ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি খোদ সরকারের জন্যও ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।
কেন্দ্রীয় সভাপতি আরও বলেন, ছাত্রলীগ নিজেদের অপরাধ ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছে এবং বুয়েট কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে ছাত্রলীগের নির্লজ্জ তাঁবেদারি করছে।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ আরো বলেন, আবরার ফাহাদের শাহাদত ভারতীয় সা¤্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের মাইলফলক হয়ে থাকবে।
আমরা সরকারের প্রতি তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই, অবিলম্বে আবরার ফাহাদের খুনিদের গ্রেফতার ও তদন্তপূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা না হলে দেশের ছাত্র-জনতাকে নিয়ে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

পিএনএস/ হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech