যুবলীগ থেকে ‘গেট আউট’ হলাম, অনেক কষ্ট পেয়েছি: ওমর ফারুক

  

পিএনএস ডেস্ক : ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করার পর ২০১২ সলে ষষ্ট কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান শেখ মনি ও শেখ সেলিমের ভগ্নিপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। গত ৭ বছর তিনি এই পদে ছিলেন। সাম্প্রতিক ক্যাসিনোকাণ্ডে তার নাম আসার আগে থেকেই তিনি গা ঢাকা দেন। নিজেকে দ্রুত গুটিয়ে নেন। এরইমধ্যে গেল রবিবার রাতে যুবলীগের ষষ্ঠ কাউন্সিলকে ঘিরে গণভবনে সংগঠনটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এর একদিন পরই গতকাল সোমবার গণমাধ্যমের সামনে আসেন সদ্য অব্যাহতি পাওয়া ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট পেয়েছি। বলে বোঝানোর মতো না। আর তো রাজনীতি করতে পারবো না, এখন নতুন ধরতে হবে।’

গণমাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় ওমর ফারুক চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমি তো শাস্তি পেয়েছি-ই। ক’দিন ধরে গৃহবাস ও রবিবার দল থেকে ‘গেট আউট’ হলাম। কষ্ট যা পাওয়ার পেয়েছি। সর্বোচ্চ কষ্টই পেয়েছি। এখন তো আর রাজনীতি করতে পারবো না। নতুন যাত্রা শুরু করতে হবে।’

সাংবাদিকদের প্রতি ইঙ্গিত করে ওমর ফারুক বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিক) লেখনির মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, আমি আর দল করতে পারবো না। রাজনীতি করতে পারবো না। মিডিয়া ট্রায়াল শেষ। আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এর মানে ‘ইউ আর নো মোর’। এখন আমি যত সত্য কথাই বলি, তা মিথ্যা ফিকশন হয়ে যাবে। তাই আর কিছু বলতে চাই না।’

গেল সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর গত একমাস দলীয় কার্যালয়ে দেখা যায়নি ওমর ফারুক চৌধুরীকে। এরইমধ্যে তিনি একাধিক বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

নিজেকে গুটিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে আমাকে নিয়ে যেভাবে লিখা হয়েছে তাকে কি আর বাইরে বের হওয়া যায়? সেজন্যই বাইরে যাই না, ঘরেই থাকি। আমার উচিত সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নিজেকে স্বচ্ছ প্রমাণ করা। সেই প্রক্রিয়াতেই এখন আছি। গণমাধ্যম স্বাধীন বলেই আমার বিরুদ্ধে অনেক কিছু লিখেছে। গণমাধ্যম স্বাধীন হওয়াই উচিত। মিডিয়া ট্রায়ালের কারণেই আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

বহিষ্কৃত আরেক যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের কাছ থেকে ক্যাসিনো ব্যবসার মাসোহারা নেয়া প্রসঙ্গে ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্রাট রিমান্ডে কী বলেছেন তা আপনি নিজে দেখেছেন বা শুনেছেন কী? সম্রাট যা খুশি বলতে পারেন। এসব তথ্য আমলে নিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া কেমন হয় তা দেখার অপেক্ষায় আছি।’

এদিকে যুবলীগ চেয়ারম্যানের পদ হারানো ৭১ বছর বয়সী ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব থেকে সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেইসঙ্গে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লেক ভিউ প্রোপার্টিজ ও রাও কনস্ট্রাকশনের ব্যাংক হিসাব লেনদেনও স্থগিত করা হয়েছে। ফলে তারা তাদের ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে এখন আর কোনও টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তর করতে পারবেন না।

সম্প্রতি এনবিআর আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১১৬ ধারার ক্ষমতাবলে এ আদেশ দেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech