ধর্ষণের মচ্ছব কি থামবেনা?

  

পিএনএস(কাদের গনি চৌধুরী ) : দেশে ধর্ষণের মচ্ছব চলছে। শিশু থেকে ষাট বছরের বৃদ্ধা কেউ রেহাই পাচ্ছে না। ইজ্জত-আব্রু নিয়ে বেঁচে থাকা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। মায়ের সামনে মেয়ে, মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণ করা হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসা,বাড়ি, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। নগর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত কোথাও না কোথাও প্রায় প্রতিদিনই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। দিন যতই যাচ্ছে ধর্ষণ ও এর ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। এখন শুধু ধর্ষণই করছেনা, ধর্ষণের পর ধর্ষিতাকে হত্যা করা হচ্ছে।

দিনরাত ধারাবাহিকভাবে একই স্টাইলে এ জাতীয় যৌন সন্ত্রাসের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক নেমে এসেছে কর্মজীবী নারী-শিশু ও ছাত্রী-শিক্ষিকা ও গৃহবধূদের মাঝে। শুধু যে রাতের আঁধারে নির্জন রাস্তায় নারীর সম্ভ্রমই লুট করা হচ্ছে- তা নয়। কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তচিন্তার নিরাপদ পরিবেশেও উচ্চ শিক্ষার্থী নারী নিরাপদবোধ করতে পারছেন না। আকস্মিক এ ধরনের যৌন সন্ত্রাসের দৌরাত্ম্যে উদ্বিগ্ন দেশবাসী।

আঁতকে উঠার মতো তথ্য দিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন। সংস্থাটির এক রিপোর্ট বলা হয়েছে বাংলাদেশে প্রতিঘণ্টায় একজন করে নারী নির্যাতনের শিকার হয়।

গত মে মাসে মাগুরায় ঘটেছে এক নির্মম ধর্ষণের ঘটনা। তিন বছরের প্রতিবন্ধী শিশু পুজা। এখনও মায়ের দুধ খাওয়া ছাড়েনি। এমাছুম বাচ্চাটিও ধর্ষক নামের পশুদের হাত থেকে রেহায় পায়নি। ব্লেড দিয়ে কেটে গোপানাঙ্গ বড় করে তিন বছরের এ প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করা হয়।

মাগুরা শহরের ঋষিপাড়ায় মানসিক প্রতিবন্ধী ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মেয়েটির গোপনাঙ্গ ধারালো ব্লেড দিয়ে কেটে নির্যাতন চালানো হয়েছে। সকালে মেয়েটিকে বাড়িতে রেখে মেয়েটির মা-বাবা মাগুরার মোহম্মদপুর উপজেলার মলগাতি এলাকায় এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে যায়। দুপুর তিনটার দিকে একাকী বাড়িতে মেয়েটিকে চিৎকার করতে দেখে প্রতিবেশীরা বাড়ির দেওয়াল ডিঙ্গিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।
পরে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

গতসপ্তাহে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে প্রতিবেশী এক বখাটে তরুণ এক নারী পোশাককর্মীকে ধর্ষণের পর যৌনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত জখম করেছে। মেয়েটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাত রাত ১০টার দিকে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা জানান,ওই বখাটে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে মেয়েটির ওপর এই ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে।

আগষ্টের প্রথম সপ্তাহে ছাত্রলীগের ৪ নেতা মিলে এক তরুণীকে রাতভর ধর্ষণের পর হত্যা করে। ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার করে লাশ গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত চার ছাত্রলীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।

এধর্ষণ ও হত্যায় জড়িতরা হলেন- পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহি আনান দানিয়াল (২২), সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্ট (২১), সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান (১৯) ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক মো. মাহমুদ (১৮)।

গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহনশ্রমিকেরা গধর্ষণ করেন। পরে তাঁকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যান।

বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার (২১)। প্রেমিক সিরাজুল ইসলাম তার বন্ধুদের নিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করে সাদিয়াকে। হত্যার পর মরদেহ খালে ফেলে দেয় প্রেমিক ও তার সহযোগীরা।

সাদিয়া বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি কলেজের প্যাথলজি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী এবং বরিশাল নগরীর ডেফুলিয়া খান বাড়ির আলমগীর হোসেন খানের মেয়ে। ঘাতক সিরাজুল মঠবাড়িয়ার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের ইব্রাহীম হাওলাদারের ছেলে। গত ২০ নভেম্বর সাদিয়া নগরীর বাসা থেকে কলেজের উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় সাদিয়ার বাবা ২২ নভেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

জিডির সূত্র ধরে এবং ওই ছাত্রীর মোবাইল নাম্বার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজ স্বীকার করেছেন ঘটনার ১৫ দিন আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের কথা বলে গত ২০ নভেম্বর ওই ছাত্রীকে বরিশাল থেকে মঠবাড়িয়ায় এনে সহযোগীদের নিয়ে একাধিকার ধর্ষণ করা হয়।পরে ধর্ষণের বিষয়টি ওই ছাত্রী ফাঁস করার হুমকি দেয়ায় তাকে হত্যা করে মরদেহ খালে ফেলে দেয়া হয়।

কিছুদিন আগে রংপুর মহানগরীর মন্থনায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর তার মাথার চুল কেটে দেয় ধর্ষকের লোকেরা। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই গৃহবধূ বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে সন্ত্রাসীরা ধর্ষণ করে। একই দিনে নোয়াখালির সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কর্তৃক এক তরুণী ধর্ষিত হয়। ধর্ষিতা প্রতারণার বিচার চাইতে গেলে উল্টো আটকে রেখে চেয়ারম্যান তাকে ধর্ষণ করে।

বগুড়ায় ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করায় ধর্ষিতা কিশোরী ও তার মাকে লাঠিপেটা করে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে সরকারি দলের ক্যাডাররা। বগুড়া বাদুড়তলা এলাকায় বসবাসকারী চা বিক্রেতার কিশোরী কন্যা শহরের জুবলী ইনস্টিটিউিশন থেকে এবার এসএসসি পাস করে।

ওই কিশোরী কোথাও ভর্তি হতে না পারায় প্রতিবেশী আলী আজম দিপু তাকে শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের মাধ্যমে সরকারি কলেজে ভর্তি করে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। দিপু ওই কিশোরীকে মোবাইল ফোনে তুফান সরকারের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। এরপর তুফান সরকার দিপুর মাধ্যমে ওই কিশোরীকে চার হাজার টাকা দিয়ে একটি কলেজে ভর্তির জন্য পাঠায়। কিন্তু ওই কিশোরী ভর্তি হতে না পারার বিষয়টি দিপুর মাধ্যমে তুফান সরকারকে জানায়।

গত ১৭ জুলাই তুফান সরকারের স্ত্রী-সন্তান বাসায় না থাকার সুযোগে ওই কিশোরীকে বাসায় ডেকে আনে। এরপর দিনভর তাকে আটকে রেখে তুফান সরকার কয়েক দফা ধর্ষণ করে। এতে ওই কিশোরী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ধর্ষণের ঘটনাটি ওই কিশোরীর মা জানতে পারে এবং প্রতিবাদ জানান।

ঘটনাটি জানতে পেরে তুফান সরকারের স্ত্রী আশা খাতুন তার বড় বোন পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি এবং তার মা রুমী বেগম ওই কিশোরীর বাড়িতে যায়। তারা ধর্ষণের ঘটনার বিচার করে দেয়ার কথা বলে ধর্ষিতা ও তার মাকে পৌর কাউন্সিলর রুমকির অফিস চকসুত্রাপুরে নিয়ে আসে। সেখানে বিচারের নামে ধর্ষিতাকে পতিতা আখ্যায়িত করে এবং মেয়েকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করানোর উল্টো অভিযোগ আনা হয়। তুফান সরকারের কয়েকজন সহযোগী লাঠিপেটা করে মা ও মেয়েকে। নাপিত ডেকে এনে মা-মেয়েকে প্রথমে মাথার চুল কেটে দেয়। এক পর্যায়ে তুফান সরকারের স্ত্রীর নির্দেশে তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, ২০ মিনিটের মধ্যে তাদের বগুড়া শহর ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

কিছুদিন আগে গাজীপুরের শ্রীপুরে মেয়ের নির্যাতনের বিচার না পেয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বাবা-মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহতরা হলো গোসিংগা ইউনিয়নের কর্নপুর গ্রামের হযরত আলী (৪৫) ও তার কন্যা আয়েশা আক্তার (১০)।

নিহত হযরত আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, গত মাস খানেক আগে একই এলাকার ফজলুল হকের পুত্র ফারুক শিশু আয়েশাকে তার বাড়ির পাশ থেকে সাইকেলে করে গভীর বনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় ফারুক ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে মারপিট করে আহত করে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে শ্রীপুর থানার এ.এস.আই বাবুল মিয়া ঘটনাটি তদন্ত করেন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মেম্বার আবুল হোসেন ও প্রভাবশালীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ কর্তৃক কোনো বিচার না পাওয়ায় তার স্বামী মানসিকভাবে চাপে ভুগছিল।

মেয়ের নির্যাতনের বিচার না পাওয়ায় মেয়েকেসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে তার স্বামী আত্মহত্যা করেছে।

বুড়িগঙ্গার ওপারে আত্মীয়ের বাড়ীতে বেড়াতে যাচ্ছিল। মেয়ে দু'টি ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্রী আর ভাতিজা নবম শ্রেণীতে পড়ে। সেই নৌকায় দুজন যুবক উঠল। অন্য যাত্রীদের সামনেই যুবকগুলো যুবতী দুটিকে অত্যন্ত অশালীন আচরণে উত্ত্যক্ত করতে লাগল। তা দেখে ভাতিজা প্রতিবাদ করল। যুবক দুজন ভাতিজাকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিল।

সে সাঁতার জানত না। সে পানিতে ডুবে গেল, তাকে উদ্ধার করা গেল না। মেয়েদুটি কাঁদতে লাগল। নৌকার যাত্রীরা ছেলে দুটিকে ধরে থানায় নিয়ে গেল। ছেলে দুটি ছাত্রলীগের নেতা জানতে পেরে ওসি সাহেব কেস তো নিলেনই না, তাদের উত্তম নাস্তা করিয়ে কেউ যাতে তাদের ওপর হামলা করতে না আসে তার জন্য দুজন সশস্ত্র সিপাইকে সঙ্গে দিয়ে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন। ভাতিজার লাশটি চারদিন পর বুড়িগঙ্গায় ভাসতে দেখা যায়। কলেজে যাওয়ার পথে মাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে মেয়েকে হাইজ্যাক করার ঘটনা ছিল সচরাচর। চট্টগ্রামে বাপ-ভাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে এক মেয়েকে যুবলীগের ৫ জনে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছিল বাপ ভাইয়ের সামনেই। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যাল্যে নির্লজ্জ ও বেহায়াপনার এমন এক ঘটনা ঘটেছিল যা পৃথিবীর আর কোন দেশে কখনো ঘটেছে বলে জানা যায়নি।

তাহলো জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদযাপন করেছিল ছাত্রলীগের হীরার টুকরো ছেলেরা। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী।এত বড় জঘন্যাচারের জন্য ওই নরপশুদের সামান্য তিরস্কার পর্যন্ত করেনি। উল্টো ধর্ষক মানিককে উচ্চপদে চাকরি দিয়েছিল। কিন্তু কেবল ১০০ জন নয়, ঐ সময়ের সকল ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকগণ পড়েছিলেন চরম সংকটে। তারা লজ্জায় না পারছিলেন আত্মীয়স্বজন-বন্ধু-বান্ধব ও দেশবাসীকে মুখ দেখাতে, না পারছিলেন মেয়েদের বিয়ে দিতে। সরকার তাদের সান্ত্বনা দান ও সাহায্য কল্পে কোন উদ্যোগই নেয়নি।ডিজিটাল সরকার গদীতে বসার ক'মাস পরেই পিরোজপুরে ছাত্রলীগ নেতা টাইগার মামুন দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বন্ধুর সাহায্যে ধর্ষণরত নোংরা দৃশ্যের ভিডিও করে বাজারে ছাড়ে। এমন জঘন্য কাজ করার পরেও সরকারের তরফ থেকে তেমন কিছুই করা হয়নি ঐ নরাধমটিকে।

পত্রিকায় দেখলাম ইডেন কলেজ হোস্টেলে থাকা মেয়েদের দিয়ে জোর করে দেহব্যবসা করাচ্ছে, সরকারি দলের ছাত্রী নেত্রী জেসমিন শামীমা নিঝুম। বিশেষ করে তারা ১ম এবং ২য় বর্ষের ছাত্রীদের দিয়ে এ ব্যবসা চালাচ্ছে এবং প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে।

এদের খরিদ্দার হলো ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতারা ও এমপি, মন্ত্রী মহোদয়গণ। জেসমিন ছাত্রলীগের মেসে, যুবলীগের বাসায়, মন্ত্রী-এমপিদের বাড়ীতে মেয়ে সাপ্লাই দেয়। কয়েক দিন পূর্বে এক মেয়েকে এক মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের বাসায় যাবার জন্যে নির্দেশ দেয়।

মেয়েটি রাজী না হলে এই বেয়াদবীর জন্য জেসমিন পতিতা রানীর মত তার দলবল নিয়ে মেয়েটিকে অনেক মারধর করে। আরেক মেয়েকে দেহ ব্যবসায় নামাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে তাকে শিবিরের ছাত্রী বলে হল থেকে বের করে দেয়। মেয়েটির বক্তব্য হলো, আমি এবং আমার চৌদ্দগোষ্ঠী আওয়ামী লীগার। অথচ কুকাজে রাজী না হওয়ায় আমাকে শিবির বলে বের করে দিয়েছে হোস্টেল থেকে। এখন মেয়েদের মধ্যে দু'টি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। নেত্রীর সাথে আছে এক গ্রুপ মেয়ে, যারা মেয়েদের দ্বারা জোরপূর্বক দেহব্যবসা করিয়ে অর্থ উপার্জন করছে।

আরেক গ্রুপ হলো যারা এই নোংরা কাজ মোটেই পছন্দ করে না। তারা নিজেদের সম্ভ্রম ও পবিত্রতা রক্ষার নিমিত্তে সংঘবদ্ধ হয়েছে। ছাত্রলীগের আয়ের বহুপথ রয়েছে। তারা ভর্তি বাণিজ্য, সীট বানিজ্য, চাঁদাবাজি, জবরদখল ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। মেয়েদেরও টাকার দরকার। তাদেরও ভর্তি বাণিজ্য রয়েছে। তা দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। কিন্তু এতে বিরাট ধনী হবার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

হাজার হলেও তারা ভদ্রলোকের মেয়ে। তারা তো আর ছাত্রলীগের মত চাঁদাবাজি, ছিনতাই করতে রাস্তায় নামতে পারে না, তাই একটা ভদ্র ব্যবসা বেছে নিয়েছে। কিন্তু একার আয়ে আর ক'টাকা আসে। হলের সকল মেয়েকে দিয়ে যদি ঐ ব্যবসাটা করানো যায় তাহলে অতি দ্রুত অনেক টাকার মালিক হওয়া যাবে। তাই হোস্টেলের অধিকাংশ মেয়েকে জোর করে দেহব্যবসায় নামিয়ে প্রচুর টাকা আয় করে আসছিল। কিন্তু কয়েকটি বেরসিক মেয়ে এই বড় লাভের ব্যবসাটায় বাদ সেঁধে বসেছে।
কিছুদিন আগে ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলে শিক্ষক পরিমল কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় দেশে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ধর্ষণতো বন্ধ হচ্ছেনা।

বাংলাদেশে ধর্ষণ নিয়ে চমকে উঠার মতো তথ্য দিয়েছে বিবিসি। এ সংবাদমাধ্যমটি জানায় ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ১ হাজার ৫০ জন শিশু ও নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ডাটা তৈরি করেছে মহিলা পরিষদ।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারীদের উপর নির্যাতনের 'নির্মম ও নিষ্ঠুর' ধরণকে 'উদ্বেগজনক' বলে বর্ণনা করেছে।

বাংলাদেশের ১৪ টি দৈনিক পত্রিকার খবর বিশ্লেষণ করে মহিলা পরিষদ বলেছে ২০১৬ সালে ১০৫০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তারা বলছে, আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা কিছুটা কম হলেও ধর্ষণ, নির্যাতনের ধরণ ছিলো নির্মম ও নিষ্ঠুর।

ইদানিং শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন বেড়েছে আশংকাজনক হারে। সম্প্রতি দৈনিক ইত্তেফাকের এক রিপোর্টে শিশু ধর্ষণ ও খুনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।প্রতিবেন্টিতে বলা হয়,২০১৪ সালে ১৯৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। পরবর্তী বছর ২০১৫ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২১ এবং ২০১৬ সালে ৬৮৬ জন। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমাজে এই হারে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়া খুবই আশঙ্কাজনক। গত ৫ বছরে পাশবিক নির্যাতন ও নির্মম হত্যার শিকার হয়েছে ১৩ হাজার ১২ শিশু। এরমধ্যে হত্যার শিকার হয়েছে ১ হাজার ৫২৬ শিশু। আত্মহত্যা করেছে ৭২৭ এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫ শিশু। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম ১৪টি জাতীয় দৈনিক থেকে প্রকাশিত ঘটনার সমন্বয়ে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। ২০১২ থেকে ১৬ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে এসব শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু হত্যার কারণগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের সাথে বিরোধ এবং শত্রুতার বলি হচ্ছে নিরীহ শিশুরা। এ ছাড়াও দরিদ্র শ্রমজীবী শিশুদের তুচ্ছ কারণে বা চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার মতো ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটছে। আর বড়দের কু-প্রবৃত্তির শিকার হচ্ছে শিশুরা। ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনসহ গৃহকর্মী শিশুরা সহজে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তবে এসব ঘটনায় সচেতনতার অভাব। ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন না হওয়া; অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এবং রায় দ্রুতগতিতে কার্যকর না হওয়াকে দায়ী করেন তারা।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম-(বিএসএএফ) এর তথ্য মতে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৮ মাসে ৩৯৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এসময় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ২২২ শিশুকে। এ সময় বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করে ১২৯ শিশু। অপহরণের শিকার হয় ৯৪ শিশু। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক নির্যাতনে আহত হয় ৮৮ শিশু এবং বাবা-মায়ের হাতে নির্মম হত্যার শিকার হয় ৩৭ শিশু। এর আগের বছর ২০১৬ সালে ১০৬ শিশুকে এবং ২০১৫ সালে ৯০ শিশুকে চুরির অপবাদে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে ৪ হাজার ১২৪ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০১৬ সালে ২৬৫ শিশু হত্যার শিকার হয়। ২০১৫ সালে ২৯২ শিশু, ২০১৪ সালে ৩৬৬ শিশু, ২০১৩ সালে ১৮০ শিশু এবং ২০১২ সালে ২০৯ শিশু হত্যার শিকার হয়।

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অগাস্ট এই সময়কালে ৩৯৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যাদের মধ্যে ৫৮ শিশুকে গণধর্ষণ করা হয়েছে এবং ৩৭ প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

হত্যা ধর্ষণসহ সকল ধরনের শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া এবং রায় দ্রুতগতিতে কার্যকর করার সুপারিশ করেছে শিশু অধিকার ফোরাম। বলা হয়েছে, যে সকল নির্যাতিত দরিদ্র শিশুর পিতা-মাতার মামলা করার বা চালানোর সামর্থ্য নেই তাদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা বিধান করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শারীরিক শাস্তি কেন বন্ধ হচ্ছে না তা ক্ষতিয়ে দেখাতে হবে। জাতীয় বাজেটে শিশুদের জন্য যে বরাদ্দ রাখা আছে তা সঠিকভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া শিশু আইন ২০১৩ এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিতসহ আইনের বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনিস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন বলেন, শিশু অধিকার রক্ষায় যে আইনগুলো আছে তা প্রয়োগ করা হয় না। এ বিষয়ে ব্যাপকভাবে সচেতনতা দরকার। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকা দরকার। তাছাড়া সমাজের মানুষ শিশু অধিকার সম্পর্কে সচেতন না। যেসব ঘটনা ঘটছে তার তাত্ক্ষণিক বিচারও হয় না। এসব ঘটনা প্রতিরোধে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পারিবারিকভাবে যদি শিশুর অধিকার ও শিশুর সুরক্ষায় আইনগুলো শেখান হতো; তাহলে শিশুর ওপর এ ধরনের নিষ্ঠুর নির্যাতন হতো না এবং তা কমে আসত।

দেশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও ধাপে ধাপে প্রতিকূলতার জালে জড়িয়ে পড়ছে বিচার প্রাপ্তির আশা। ভয়-ভীতি অথবা অর্থের বিনিময়ে বাদী পক্ষের সঙ্গে মীমাংসা করে মামলা দুর্বল করে ফেলা হয়। সাক্ষী উধাও হওয়ার ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক। এসব কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ধর্ষণের মামলা। বাংলাদেশে এক হাজারে মাত্র চারজন আসামি ধর্ষণের ঘটনায় সাজা পান। পুলিশ সদর দফতরের নথি অনুয়ায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে মোট ৪৩ হাজার ৭০৬টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার মামলায় এক লাখ আসামি খালাস পেয়েছেন। আর ধর্ষণ মামলায় খালাস পেয়েছেন ৮৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ আসামি। নারী নির্যাতনের মামলায় আসামি খালাসের পরিমাণ ৯৫ শতাংশ। ২০০১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পুলিশের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঁচ হাজার তিনটি ধর্ষণের মামলা হয়। এর মধ্যে রায় ঘোষণার হার ৩ দশমিক ৬৬ ভাগ এবং সাজার হার শূন্য দশমিক ৪৫ ভাগ।

শিশুদের ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরীন। তিনি বলছেন, মূলত দরিদ্র শ্রেণীর শিশুরা বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। তাদের শ্রমজীবী বাবা-মায়েদের অনুপস্থিতিতে এইসব শিশুদের দেখার কেউ থাকে না। আরেকটি গ্রুপ যারা নিজেরাই কর্মজীবী তারা, এবং গৃহকর্মীরা বসদের ধারা ধর্ষণের ঝুঁকিতে থাকছে বেশি।

তিনি বলছেন, অনেকে অজ্ঞতার কারণে আর বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে আদালত বা পুলিশের দোড়গোড়ায়া পৌঁছাচ্ছেন না। ফলে এসব অপরাধ ঘটছেই। " অনেকে শিশু বা অভিভাবকই জানে না কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়। আর অনেকে দেখছেন অনেক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে কিন্তু বিচার তো হচ্ছে না। বাইরে মিটমাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। অনেক দেশে কিন্তু দ্রুত বিচার আইনে সাজা হয় এবং মানুষ তা দেখে সচেতন হয়"।

অধ্যাপক নাসরীন বলছেন, এসব ঘটনা শিশু মনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে।ভবিষ্যৎ জীবনে তারও এ ধরনের অপরাধ কর্মে জড়ানোর আশংকা থাকে। এইসব শিশুরা স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন না । সেও অন্যের প্রতি এমন আচরণ করে।

ধর্ষণের মামলা চলাকালীন বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা আইনের আশ্রয় নিতে অনীহা তৈরি করে, বলছেন শিশু অধিকার কর্মীরা।

মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ তুলছেন, জামিন অযোগ্য অপরাধ হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে জামিন পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে বলেন, অপরাধ করে সহজে জামিন পাওয়া গেলে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়।

"অপরাধ করে সহজে জামিন পাওয়া গেলে হয়তো অপরাধের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে অপরাধী জামিন পাবে না -আইনজীবী হিসেবে তো সেটা বলা যায় না। সুতরাং শিশু ধর্ষণের ব্যাপারে যদি আলাদা সেল করা হয় , মামলার গতি তদারকি করা হয়, তাহলে এ ধরনের অপরাধ অনেকটা কমতে পারে।অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মনে করেন, এ ধরনের মামলার বিচারের দীর্ঘসুত্রতা দূর করতে উদ্যোগ নেয়া দরকার।

ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য আইনের সাহায্য নিতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের সন্নিবেশ ঘটাতে গিয়ে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে আইন সংশোধন করা যেতে পারে, যেখানে শিশু ভিকটিমকে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে না।

" আইন সংশোধন করা যেতে পারে এভাবে যে, এক্সপার্টদের কাছে ভিকটিমকে নেয়া হবে। এরপর তারা রিপোর্ট দেবে। এরপর আর কোনও প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে না। ওই চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে চার্জশিট দেবে পুলিশ। চিকিৎসকদের সাথে মানবাধিকার কর্মীও থাকতে পারেন"।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।কিন্তু এমন অনেক নজির আছে যে বছরের পর বছর ধরে মামলা চলছে। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন শিশু অধিকার কর্মীরা।তবে এ বিষয়ে অ্যটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিচারক স্বল্পতা এখানে একটি সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন।

এছাড়া মামলা ঝুলিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ডিফেন্স ল ইয়ারের মানসিকতারও পরিবর্তন আনতে হবে।

দেখা যাচ্ছে নির্যাতনের শিকার হয়েও সামাজিক হেনস্থার ভয়ে কোণঠাসা থাকছে নির্যাতিত শিশুটির পরিবারটিই ।

দেশব্যাপী যে হারে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যায় না।উদ্বেগের কারণটা এখানেই এর প্রতিকারের কোন উদ্যোগ নেই? স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠে, এ কোন বর্বরতার মধ্যে আমরা বসবাস করছি ?

[কাদের গনি চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাতীয় প্রেস ক্লাব]

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech