আত্মহত্যাই কি শেষ সমাধান ছিল?

  

পিএনএস (মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল) : গতকাল (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় এক স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। ১০শ্রেণীর এই শিক্ষার্থী পরিক্ষায় ফেল করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।কিছুদিন পূর্বে তার পিতার মৃত্যুবরণ অন্যদিকে পরিক্ষায় ফেল, এটাই কি ছিল আত্মহত্যার কারণ?

আল্লাহ’র প্রদত্ত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ।মানুষ শব্দটি যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে হয়- মান+হুশ। অথ্যাৎ যেমনি মানের অধিকারী হতে হবে, তেমনি হুশ-জ্ঞান থাকাটা জরুরী।সংক্ষিপ্ত জীবনে চলতে হলে কত রকমের বাধা-বিপত্তি আসে। তার মানে এই না যে জীবনের মূল্য হারিয়ে জীবনটাকে শেষ করে দেওয়া।

কার জন্য এই আত্মহত্যা? একটি বার পরিবারের কথা ভেবেছেন কি? পরিবার কি আপনার দ্বারা কিছুই আসা করতে পারে না? যে মায়ের জন্য আপনার বেড়ে উঠা তার কি চাওয়ার কিছু ছিল না? বিনিময়ে মাকে উপহার হিসেবে কি পচনশীল লাশটা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল? প্রশ্ন রয়ে যাবে।

প্রতিদিনের মতই মা হয়ত পথ চেয়ে আছে কখন তার সন্তান ক্লাস শেষ করে ঘরে ফিরবে। এসে বলবে, “মা সারাদিন খুব কষ্ট করছি খিদা পেয়েছে, কি রান্না করছো, খাবার দাও।” সেই আক্ষেপ রয়ে যাবে মায়ের কান্না জড়িত হৃদয় বন্ধনে।কখন যে সন্তান বড় হয়ে গেল, হুট করে যে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিবে ‘মা’ জানলে হয়ত সারাক্ষণ বুকে জড়িয়ে ধরে রাখতো।

সুখ-শান্তি দেওয়া বা নেওয়ার মালিক তিনিই যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন।তিনি জানেন কাকে, কখন, কিভাবে রাখতে হবে। তিনি যা করেন বান্ধার মঙ্গলের জন্য শ্রেষ্ঠ।একটি কথা মনে রাখা দরকার, “গরিব হয়ে জন্ম নেওয়া অভিশাপ নয়, গরিব হয়ে মৃত্যুবরণ করাটা অভিশাপ বটে।কিন্তু মানুষ রুপি অমানুষি সিদ্ধান্ত পরিবারকে তো পঙ্গু করেই, একটি সুশীল সমাজকে নষ্ট করে তোলে।

আমার বাস্তব জীবনের একটি কাহিনী বলতে চাই, আজ থেকে প্রায় ৪/৫ বছর আগের কথা। আমার বাড়ির পাশে ‘আকাশ লন্ড্রী’ তে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হুট করে একজন বাবা উচ্চ কণ্ঠে হাউমাউ করে চিৎকার করছিলেন। আমি দৌড়ে যেতেই দেখি দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যার আয়োজন।কয়েকবার লাথি মারি, দেখি কাজ হবে না, সময় খুব কম ছিল। দৌড়ে গিয়ে হামার নিয়ে এসে দরজা ভেঙ্গে ফেলি। তারপর হালকা ফেসে যাওয়া রশি থেকে ছেলেটিতে নামাই। ছেলেটিকে খাটের উপরে শোয়াই। তারপর আস্তে আস্তে শ্বাস ছাড়তে থাকে। ফিরে পায় তার নতুন জীবন। সেদিন থেকেই নিজেকে খুব ধন্য মনে হয়েছিল।

সুতরাং আত্মহত্যাই শেষ সমাধান হতে পারে না। যারা এমন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই একটি বার হলেও পরিবারের কথা ভাবেন।আপনি বেঁচে থাকলে সুফল ভোগ করবেন।কে/কিভাবে চলছে সেটা আপনার দেখার দরকার নেই। আপনি আপনার মত এগিয়ে যান, কষ্ট করুন। পাশাপাশি আত্মহত্যাকৃত শিক্ষার্থী'র জন্য দোয়া ও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech