সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশে সবই সম্ভব

  

পিএনএস ডেস্ক: মনটা বেশি ভালো না। কারণ চারিদিকে যে সব ঘটছে মন ভালো রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। যে সব ঘটনা ঘটে চলছে যা সত্যি অবিশ্বাস্য। এ কারণে মনের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের হাসপাতালের সামনে ফুলগাছ লাগাতে খরচ হয় লক্ষ টাকা।

কলাগাছের দাম লক্ষ টাকা, নারিকেল গাছের দাম প্রায় কোটি টাকা হঠাৎ শুনব তাল গাছের দাম কোটি টাকা। সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে ভাবনা আসতেই পারে, আহারে! দেশের মানুষ যেন মানুষ তো নয় মনে হচ্ছে এসব কাজ যারা করছে তারা সবগুলোই দানব। দেশ চোরের খনি না পেলেও ডাকাতের খনি পেয়েছে। আমার জন্মভূমি স্বাধীন বাংলাদেশ এখন চোর ডাকাত আর দুর্নীতিতে ভরা।

দুর্নীতি বা অনীতির কথা শুনতে শুনতে কানে এখন ঝালাপালা ধরেছে। তারপর হঠাৎ গোটা বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের আক্রমণে সবাই আতঙ্কিত, ঠিক তেমন একটি সময় অনেকে নতুন ধান্দাবাজি শুরু করেছে। সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছে করোনাভাইরাসের ওষুধ বিক্রি করে। আশা করি এধরনের প্রতারকরা কোনো একদিন এই সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবে বহুদূরে।

এতকিছুর মধ্যে ঘটেছে একটি ঘটনা যা বর্ণনা না করলেই নয়। কিছু শিক্ষিত মানুষের বৃদ্ধ বয়সে হয়েছে বুদ্ধি-ভ্রষ্ট দশা যার অর্থ ভীমরতি। বয়স ৬০ পার হলে মানুষের চোখের দৃষ্টি কমে আসে, এ সময় মানুষ দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখার জন্য চশমা পরতে শুরু করে। এ বয়সে কেউ কেউ শিশুর মতো অবোধ আবার কান্ড-জ্ঞানহীন যুবকের মতো নির্বোধ আচরণ শুরু করে, ফলে সামগ্রিক চালচলন পূর্বেকার স্বাভাবিকতাকে অস্বাভাবিক করে তোলে।

এমন কান্ড-জ্ঞানহীন আচরণ থেকে ভীমরতি শব্দটি কান্ড-জ্ঞানহীন অর্থ ধারণ করে। যার কারণে পুরুষালী হরমোন একটু বেশি পরিমাণে নিঃসরণ হয়, রতিশক্তি বেড়ে যায়, যার ফলে সেই পুরুষগুলো নতুন করে বিয়ে করতে উঠেপড়ে লাগে। তাই একে বুড়ো বয়সের ভীমরতি বলা হয়ে থাকে।

বর্তমান বিশ্বে অন্তত ৭০০ কোটি মানুষের বসবাস। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের চিন্তাধারায় থাকবে বৈচিত্র্য। তবে সেই বিচিত্র চিন্তাধারা যদি একটু বেশিই বিচিত্র হয়, যখন তা হয় খবরের শিরোনাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ঘটনা অসংখ্য বার ঘটেছে যে কারণে ঘটনাটি এখন আর নতুন নয়।

৬০ প্লাস বছর বয়সে ভীমরতি বা বুড়ো বয়সে ভীমরতি অনেকেরই হয়ে থাকে। বুড়োদের ভীমরতির কথা শুনেছেনও হয়তো অনেকেই। কী পাঠক? ভিমরি খেলেন বোধহয়! ভাবছেন আষাঢ়ে গল্প? মোটেও তা নয়। আসুন তাহলে শুনি মজার গল্প।

৬০ প্লাস বছর বয়সে ওই ভীমরতি ধরেছে আমার এক বন্ধুর। পাঁচবার বিয়ে করার পর ছয় নম্বর বিয়ের জন্য সব প্রস্তুতিই প্রায় শেষ করে ফেলেছেন তিনি। পূর্বের পাঁচ স্ত্রীর মধ্যে চারজন অন্যের সঙ্গে ভেগেছে। পাঁচ নম্বর স্ত্রীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়েছে। আর এ কারণেই নতুন করে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। গণমাধ্যমে জানান, রান্নাবান্না করার জন্য তার একজন লোক দরকার। এ কারণেই বিয়ে। তা ছাড়া, পাঁচ নম্বর স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর বেশ একা হয়ে গেছেন তিনি। রাতে একা ঘুমাতে ভয় হয় তাঁর। তাই একসঙ্গে ঘুমানোর জন্য খুব ভালো একজন সঙ্গিনী দরকার বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে আমার এক বন্ধুর। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে নাতনির বয়সী এক শিশুর সঙ্গে চলে মন দেয়া নেয়া। যখন আলাপ পরিচয় শুরু হয় তখন মেয়েটির বয়স ছিল ছয়। তাদের মধ্যে মন দেয়া নেয়ার পর্ব চলার সময় এক পর্যায়ে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। দুজনেই বিয়ের জন্য আদালতে আবেদন করে। কিন্তু আদালত তাদের অসম প্রেমে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় প্রথমে। কারণ বাবা-মার মতামত ছাড়া আদালত বিয়েতে সম্মতি দেয়নি।

পরে মেয়ে লেখাপড়া শেষ করে নিজ পায়ে দাঁড়ানোর পর বাবার মত পায় তবে মার থেকে কোন মত না পাওয়ার কারণে গোপনে বিয়ে করে। একজন দাদার বয়সী অন্যজন নাতনির বয়সী। তাতে কি? প্রেম তো কোনো বয়স মানে না, সীমানাও মানে না। তবে অনেক সময় অসম প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সমাজ ও রাষ্ট্র তবে তার ক্ষেত্রে শাশুড়ীর অমত ভীষণভাবে। শুনেছি শাশুড়ী হুমায়ুন আহমেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন বন্ধুকে। যাইহোক বিয়ে করা বউকে এখন সুইডেনে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সুইডিশ ইমিগ্রেশন বিষয়টি একটু সন্দেহের সঙ্গে দেখছে বিধায় ভিসা পেতে দেরি হচ্ছে।

কারণ যুবতি আমার বৃদ্ধ বন্ধুকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছে কিনা বা বিয়েটা নকল কিনা ইত্যাদি বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। তবে বন্ধুর ভাষ্য, তিনি মনে করেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাঁধা হতে পারে না। সে তার স্ত্রীকে ভালোবাসে এবং তার সঙ্গেই থাকতে চায়। কিন্তু এ কথায় ইমিগ্রেশনের মন গলেনি, প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হবে ভিসা পেতে। আল্লাহ জানেন আরও কত কিছু যে দেখব এবং শুনব।

পিএনএস/হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন