জিদানের ছেলেকে কেন্দ্র করেই এত ঝামেলা!

  

পিএনএস ডেস্ক : লিগ টেবিলে শীর্ষস্থানীয় বার্সেলোনার সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদ পিছিয়ে ১৬ পয়েন্ট ব্যবধানে। ঘরোয়া শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপাটা যায় যায় অবস্থা! ঘরের মাঠে তৃতীয় বিভাগের একটা দলের বিপক্ষে ফিরতি লেগে ড্র করে কোপা ডেল রে শেষ আটে ওঠাও রিয়ালের মতো দলের জন্য সন্তোষজনক পারফরম্যান্স নয়। এই সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এত দিন প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য ছিল দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো। কিন্তু সেই ঘর এখন অরক্ষিত হয়ে পড়ার সঙ্গে চলছে গৃহদাহ!

কতটা অরক্ষিত, তার প্রমাণ পরিসংখ্যান। গত মৌসুমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২৮ ম্যাচে ৫ ড্র আর ২ হারের মুখ দেখেছিল রিয়াল। কিন্তু এবার একই ফল এসেছে মাত্র ১৫ ম্যাচেই! সত্যিই কী যেন অসুখ করেছে রিয়ালের? স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ত’ সেই অসুখের খোঁজ করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের করে এনেছে। রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আর কোচ জিদানের মধ্যে মন-কষাকষি চলছে!

সংবাদমাধ্যমটির ভাষায় ব্যাপারটা ‘ডিভোর্স’-এর মতোই। গত শুক্রবার নিজের অফিসে রিয়াল কোচকে ডেকেছিলেন পেরেজ। তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্লাবটির পরিচালক হোসে ম্যানুয়েল সানচেজ। অ্যাথলেটিক বিলবাও গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগাকে কেনার খবরটি জিদানকে জানান পেরেজ। ফরাসি কোচ তা ভালোভাবে নিতে পারেননি। ক্ষোভটা তিনি ঝেড়েছেন সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে লিগ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে, ‘আমার কোনো গোলরক্ষক দরকার নেই।’

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এমন মন্তব্যের পরই জিদান-পেরেজ সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেপার মতো তরুণ প্রতিভাবান গোলরক্ষককে কেনার খবর শুনে জিদান রাগে ফেটে পড়লেন কেন? ‘স্পোর্ত’ সেই জবাবও দিয়েছে। কারণটা একদমই ব্যক্তিগত। জিদান নাকি এ ব্যাপারে কোচের দায়িত্ব ভুলে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন পিতৃত্বকে। সেটা তাঁর ছেলে লুকান জিদানকে ঘিরে। জিদানের ভয়, কেপার কারণে রিয়ালে তাঁর গোলরক্ষক ছেলের উঠে আসার পথ বাধাগ্রস্ত হবে।

কেইলর নাভাস ও কিকো ক্যাসিয়ার পর রিয়ালের সিনিয়র স্কোয়াডে তৃতীয় গোলরক্ষক লুকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৯ বছর বয়সী লুকা রসিকতার খোরাক। সেটা রিয়ালের ‘কাস্তিয়া’ (‘বি’ টিম) দলে থাকতে বেশ কিছু ম্যাচে মারাত্মক কিছু ভুলের জন্য। অন্য দিকে, ২৩ বছর বয়সী কেপা স্পেনের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। ইতিমধ্যে ঢুকে পড়েছেন স্প্যানিশ জাতীয় দলে।

‘স্পোর্ত’ আরও জানিয়েছে, রিয়ালে নিজ ছেলেদের যোগ্যতার চেয়েও বেশি সুযোগ-সুবিধা করে দিচ্ছেন বলে জিদানকে অভিযুক্ত করেছেন ক্লাবটির হর্তাকর্তারা। ’৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি কিংবদন্তির চার ছেলেই বেড়ে উঠেছেন রিয়ালের যুব প্রকল্পে। এর মধ্যে মেজ ছেলে লুকার ক্যারিয়ার সুগম করতে কেপার ব্যাপারে ‘ভেটো’ দিয়েছেন জিদান। আর বড় ছেলে এনজো রিয়ালে থাকতে যে তাঁকে বেশি সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন, তা প্রমাণিত হয়েছে ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডারটি সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ছাড়ার পর। গত জুনে আলাভেস তাঁকে কিনে মাত্র চার ম্যাচ খেলিয়ে বেচে দেয় সুইস ক্লাব লাউজানে-স্পোর্টের কাছে।

কেপার সই করানো নিয়ে পেরেজের সঙ্গে জিদানের বিরোধই নাকি প্রভাব ফেলেছে মাঠের পারফরম্যান্সে। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোয় পিএসজির বিপক্ষে রিয়ালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, পিএসজির বিপক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটলে এ মৌসুমের মধ্যেই পেরেজ-জিদান ‘ভালোবাসা’র অপমৃত্যু ঘটতে পারে! সে ক্ষেত্রে পেরেজ নতুন করে মন দেবেন কাকে?

রিয়াল কেন্দ্রিক ওয়েবসাইট ‘সয় মাদ্রিদস্তা’ জানিয়েছে, জিদানের বিকল্প হিসেবে পেরেজের পছন্দ জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। রিয়াল থেকে নাকি এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে। জার্মান জাতীয় দলের সঙ্গে ২০২০ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে লোর। সবকিছু নাকি নির্ভর করছে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফবি) ওপর। কিন্তু জিদানের ওপর আর কোনো কিছুই নির্ভর করছে না। প্রতিদিনই প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কে একটু একটু করে ভাঙনের শব্দ শুনছেন!

পিএনএস : জে এ মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech