ক্রোয়েশিয়া এত ভালো খেলছে যে কারণে

  


পিএনএস ডেস্ক: বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে দলটিকে খেলতে হয়েছে ছয় ম্যাচ। ছয়টিতেই জিতেছে ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপপর্বে আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়ার মত শক্তিশালী দলগুলো ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে একটি গোলও পায়নি।

শুধু আইসল্যাণ্ড একটি গোল দিতে পেরেছে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। তাই শুরু গ্রুপপর্ব থেকেই সবার কৌতুহল ক্রোয়েশিয়ার এত ভাল খেলার রহস্য কী।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ারে এই সাফল্যের রহস্য জানা গেল দলটির কোচের মুখ থেকে। ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ বলেন, দলীয় প্রচেষ্টা এবং ঐক্যের ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে এই সাফল্য। এ কারণে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর দল ছিটকে পড়লেও ক্রোয়েশিয়া টিকে আছে বলে জানান তিনি।

গত বুধবার মস্কোর সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়া। আগামী রবিবার শিরোপা লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে দলটি। এ নিয়ে নকআউট পর্বে টানা তিন ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে খেলেও জিতেছে ক্রোয়াটরা।

নেইমার, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির মতো তারকার বিদায় নেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যের ব্যাপারে দালিচ জানান, বিশ্বকাপের পরীক্ষায় উতরাতে দলীয় প্রচেষ্টার ‍উপর জোর দেওয়ার মানসিকতা তৈরি ছিল তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমার কাছে মেসি বিশ্বসেরা খেলোয়াড় এবং নেইমার বিশ্বসেরার খুব কাছাকাছি। কিন্তু এই বিশ্বকাপে তারকানির্ভর দলগুলো তাদের বড় নামের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করেছে এবং তারা এখন দর্শক। এখনও টিকে আছে জমাট-ঐক্যবদ্ধ দল, যারা লড়াই করছে।

তিনি আরো বলেন, এটাই সবচেয়ে অদ্ভুতুড়ে বিশ্বকাপ। ফুটবল অনেক এগিয়ে যাওয়ায় যে কোনো দলেরই এখন গোছালো রক্ষণভাগ থাকতে পারে। তাই জয়ের ব্যবধান খুব বড় হচ্ছে না।

দালিচ বলেন, গত ১০ বছরে এটাই আমাদের সমস্যা ছিল। আমাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর খেলোয়াড় ছিল কিন্তু কোনো ঐক্য ছিল না। এ কারণেই আমাকে ওই ঐক্য তৈরি করতে হয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদের লুকা মদ্রিচ ও বার্সেলোনার ইভান রাকিতিচ ক্রোয়েশিয়ার মাঝ মাঠের ইঞ্জিন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলটির জয়ের নায়ক মারিও মানজুকিচ।

বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা এই ফরোয়ার্ড এখন খেলছেন ইউভেন্তুসের হয়ে; তার অতিরিক্ত সময়ের গোলেই ইংল্যান্ডকে হারায় ক্রোয়েশিয়া।

দালিচ জানান, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর গত বুধবার রাতে শিষ্যদের উদযাপনের অনুমতি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ছেলেরা ক্লান্ত ছিল। তারা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল; তারা বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ছিল। তারা একটা দিন ছুটি পেয়েছে এবং আমি তাদেরকে আগামীকাল পরখ করব। তারা মুক্তভাবে উদযাপন করেছে এবং আমি তাদের অনুমতি দিয়েছি।

ক্রোয়েশিয়ার এই সাফল্যের অংশীদার হতে পেরে খুবই খুশি দালিচ।

দালিচ আরো বলেন, এটা হয়ত যে কোনো ক্রোয়েশিয়ানের জন্য ক্রীড়াক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অর্জন। এটা একটা বৈশ্বিক সাফল্য এবং এটা আমার অধীনে হওয়াতে আমি খুবই খুশি।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech