শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া

  

পিএনএস ডেস্ক:ইতিহাস তৈরির সামনে ক্রোয়েশিয়া। সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা। আর মাত্র একটি ম্যাচ জিতলেই বিশ্বকাপ ফুটবল দেখবে নতুন এক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শিরোপার জন্য মাঠে নেমেছে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্সের সামনে সুযোগ দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতার। সেই ৯৮ এর পর ২০ বছর কেটে গেলেও শিরোপার দেখা মেলেনি ফরাসিদের। ২০০৬ এ একবার সুযোগ এলেও জিদানের ঢুস কাহিনি না ঘটলে হয়তো শিরোপা তাদের হাতেই উঠত।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ সি থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে ফ্রান্স। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে তারা আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। এরপর তারা উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ফরাসিরা।

অনেকদিন ধরেই পালাবদলের মধ্যে চলেছে ফ্রান্সের ফুটবল। ৯৮ এর বিশ্বকাপ জয়ী তারকা দিদিয়ের দেশমের হাত ধরে গ্রিজমান, এমবাপ্পে, কান্তে, উমিতিতি, পল পগবাদের মতো তরুণ কিন্তু প্রতিশ্রুতিশীল তারকাদের উত্থান। আর তাদের নিয়ে গড়া ফ্রান্স প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক বছর ধরেই।

দেশম দায়িত্ব নিয়ে খুব দ্রুতই সম্ভাবনাময় তরুণ এই দলকে তৈরি করেছেন ইউরোপের শক্তিশালী এবং ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল হিসেবে। যার ফলাফল ২০১৬ এর ইউরোতে ফাইনালে ওঠা। পর্তুগালের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হলেও বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হয়েই রাশিয়ার পা রেখেছিল তারা।

গ্রুপ পর্ব থেকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে জিদানের উত্তরসূরিরা। নক আউট পর্বে আর্জেন্টিনা, বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে।

জিনেদিন জিদানদের পর অন্যতম স্বর্ণালী যুগের এই দলের সামনে সুযোগ বিশ্বকাপ জয়ের। এছাড়া খেলোয়াড় এবং কোচ উভয় হিসেবেই শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ দিদিয়ের দেশমের জন্যও। আর তা পারলে জাগালো ও বেকেনবাওয়ারের পর তিনি হবে বিশ্বের তৃতীয় ব্যক্তি যিনি এই মাইলফলকের মালিক হবেন।

ফ্রান্সের শক্তিশালী দিকের অভাব নেই। রক্ষণভাগে উমিতিতি, ভারানে, হারনান্দেজ, পাভার্ডদের ভেঙে গোলমুখে শট নেয়া প্রতিপক্ষের জন্য যথেষ্টই কঠিন। অন্যদিকে মাঝমাঠে পল পগবা, কান্তে এবং মাতুইদি শুধু মাঠের নিয়ন্ত্রণই নিচ্ছেন না। মাঝমাঠ থেকে নিজেদের রক্ষণকেও রাখছেন সুরক্ষিত। বিশ্বকাপে কান্তে প্রতিটি দলের বড় রকমের পরীক্ষা নিয়েছেন মাঝমাঠে। কান্তে এবং মাতুইদিকে অতিক্রম করে ফরাসি রক্ষণভাগে চিড় তৈরি করতে প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট বেগ পোহাতে হয়েছে।

অন্যদিকে পল পগবা শুধু মাত্র মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের পাশপাশি আক্রমণ ও গতিতেও অসাধারণ। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের ডি বক্সের তার ক্রসিং প্রায় ক্ষেত্রেই গোলের সুযোগ তৈরি করছে।

বিশ্বকাপে ফরাসিদের সবচেয়ে আলোচিত শক্তি আক্রমণভাগ। এমবাপ্পে ও গ্রিজমানের গতি এবং ফিনিশিং দক্ষতা প্রতিপক্ষের কাছে রীতিমত ত্রাস। রক্ষণভাগের সামান্য ভুল কিংবা জায়গা পেলেই এক মুহূর্তে ম্যাচের গতি পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে করে তুলেছে দুর্দান্ত। তবে ভারসাম্যপূর্ণ এবং শক্তিশালী হলেও ফ্রান্সের অনভিজ্ঞতা ক্রোয়েটদের জন্য হতে পারে সুযোগের জায়গা। ফ্রান্স যেখানে শক্তিশালী ঠিক একই জায়গায় দুর্দান্ত ক্রোয়েশিয়ানরাও। ক্রোয়েশিয়ারও প্রধান শক্তি মাঝমাঠ। যেখানে রয়েছেন দুই অভিজ্ঞ তারকা লুকা মড্রিচ এবং ইভান রাকিতিচ। এছাড়া আক্রমণভাগের দুই তারকা পেরিসিচ এবং মাঞ্জুকিচের দুর্দান্ত ফর্ম ফ্রান্সের ভাবনার বিষয় হতে পারে। গোলরক্ষক সুবাসিচ এরই মধ্যে গোল্ডেন গ্লোভসের অন্যতম দাবিদার।

দুই দলের শক্তি বিবেচনা করলে কেউ কারো চেয়ে খুব একটি পিছিয়ে নেই। তবে ক্রোয়েটরা দুইভাবে এগিয়ে। প্রথমত অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ে ভরপুর একটি দল তাদের। কিন্তু প্রত্যেকেই গতিময় ফুটবল খেলে থাকে। খেলোয়াড় হিসেবে অভিজ্ঞ হলেও গড় বয়স মাত্র ২৭! অর্থাৎ ফ্রান্সের গতির সাথে পাল্লা দেওয়ার পুরো সামর্থ্য তাদের রয়েছে। আর তার প্রমাণ তারা নক আউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই দিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং জয় অর্জন করা। বিশ্বকাপের ক্রোয়েটদের হাল না ছাড়ার অভ্যাস বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। নক আউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই শুরুতে পিছিয়ে গেলেও ফিরে আসার সক্ষমতা তারা বারবার প্রমাণ করেছে। বিশেষত স্নায়ুচাপের মুহূর্ত গুলোতে টানা তিন ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করা ও জয় ছিনিয়ে নেয়া চারটিখানি কথা নয়।

অন্যদিকে, ‘ডি’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে তারা ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা স্বাগতিক রাশিয়াকে পরাজিত করে। সেমিফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ক্রোয়াটরা।

ফ্রান্স একাদশ: হুগো লরিস (গোলরক্ষক), প্যাভার্ড, ভারানে, উমতিতি, হার্নান্দেজ, পগবা, কান্তে, এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান, মাতুইদি, জিরুড।

ক্রোয়েশিয়া একাদশ: সুবাসিচ (গোলরক্ষক), ভিরসাজকো, স্ট্রিনিচ, লভরেন, ভিদা, রাকিতিচ, মদরিচ, ব্রোজোভিচ, পেরিসিচ, মানজুকিচ, রেবিচ।

তবে শেষ পর্যন্ত দুই দলের দারুণ একটি লড়াই উপভোগ্য হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল এমন প্রত্যাশা সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমিকদের।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech