জাতীয় স্টেডিয়ামে সবজি চাষ : ক্রীড়ার হচ্ছে সর্বনাশ

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : আমাদের ফুটবলের দৈণ্যদশা নিয়ে সুহৃদরা যখন ক্ষুব্ধ তখন একটি ব্যাপার অবাক করেছে ক্রীড়ামোদীদের। আর সেটি হলো এককালের ঢাকা স্টেডিয়ামে বর্তমানে সবজি চাষ হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের সেরা খেলার মাঠে যখন সবজি চাষ হয় তখন ক্রীড়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার বদলে নৈরাশ জায়গা করে নেয়াই স্বাভাবিক।

প্রিয় সহকর্মী জামিল আহমেদ মোহন কদিন আগে ফেসবুকে একটি সচিত্র বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ‘স্টেডিয়ামে সবজী চাষ’ বিষয়ক লেখাটি ক্রীড়ামোদীদের দৃষ্টি কাড়ে বৈকি। তার খেলাটি এরকম- ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এখন সবজী চাষ হচ্ছে। অযত্ন আর অবহেলায় বেহাল দশা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের।

‘লাল শাক, বেগুন, মরিচ, টমেটো, মুলা, লাউ, কুমড়ার চাষ করা হচ্ছে। কিন্তু কে বা কারা এই চাষ করছে তা জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম মানেই আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ। আর গ্যালারি দশক মাতলো বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে। তবে বিদেশে গিয়ে আমাদের দেশের দায়িত্বশীল ক্রীড়া কর্মকর্তা যদি মন্ত্রীর স্ত্রীর জুতা হাতে নিয়ে বেড়াতে হয়, তাহলে এদিকে দেখার সময় কোথায়? বাংলাদেশের ক্রীড়ার তীর্থভূমি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম।

‘আপনি যদি শোনেন এই স্টেডিয়ামেই চাষ হচ্ছে সবজীর? নিশ্চই বলবেন মাথা খারাপ হয়ে গেছে। হ্যাঁ, আসলেই তাই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে চাষ হচ্ছে লাউ, মরিচ, কুমড়ো, টমেটো, পুঁইশাক, লালশাক। আর এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

‘কর্মকর্তাদের অবহেলা, নেই ভাল অবকাঠামো, নেই সরকারের কোনো জোড়ালো পদক্ষেপ ৷ এই বেড়াজাল থেকে বেড়িয়ে আসলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে লাউ চাষ হবে না , হবে ফুটবলাদের চাষাবাদ৷ আর ঠিক তখনই ফল ভোগ করবে বাংলার ফুটবল প্রেমীরা।' সহকর্মীর পুরো লেখাটি হুবহু তুলে ধরেছি। যিনি সবজি চাষের একটি ভিডিও পান জনৈক আসাদুজ্জামান পেরিসের ফেসবুকে।

চ্যানেল আইয়ে কৃষিবিষয়ক একটি অনুষ্ঠান হয়, নাম ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’। অনুষ্ঠানটি করেন কৃষিবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত শাইখ সিরাজ। এর আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান করতেন। এ ব্যাপারে লিখতেন দৈনিক ইত্তেফাকে। তার দেখিয়ে দেয়া পথ ধরে অনেকেই আজ স্বাবলম্বী। এ পথে এগিয়ে আসছেন শিক্ষিত যুবকরাও।

অনেকে মনে করেন, দেশের ফুটবলের যখন করুণদশা তখন ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম’-এর বৃহৎ পরিসর দীর্ঘদিন যখন অব্যবহৃত থাকছে, তখন সেখানে জনাব শাইখ সিরাজের দেখিয়ে দেয়া পথ ধরে কেউ হয়তো সেখানে কৃষিকাজ করা উত্তম মনে করেছে। রসিকজনরা বলছেন, সেখানে পুকুর খনন করে মাছ করা হলে মন্দ হতো না। অন্তত দেশের আমিসের ঘাটতি পূরণ হতো।

রাজধানী ঢাকায় ফুটবল খেলার জায়গা পাচ্ছেন না খেলতে ইচ্ছুক যুবকরা। অথচ অব্যবহৃতভাবে দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলা আর খেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এককালে খেলার জনপ্রিয় মাঠটিতে আজ সবজি চাষ হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত গুণধর কর্মকর্তারা খেলা নিয়ে কতটা আন্তরিক, উল্লিখিত মাঠটি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

আজ দেশের যুবসমাজের বড় একটা অংশ বেকারত্ব আর হতাশার কারণে মাদকের দিকে ঝুঁকছে। কাজ না থাকায় তাদের এ অধঃপতন। খেলাধুলায় মনোনিবেশ করলে সেটা অনেকটা হ্রাস পেত বৈকি। অভিজ্ঞ মহলের মতে, খেলাধুলার প্রতি আকর্ষণ থাকা মানুষকে অন্য কোনো নেশা কখনো আকৃষ্ট করতে পারে না। কারণ খেলাই তখন তার নেশা হয়ে যায়। মন-প্রাণজুড়ে থাকে।

যুবসমাজকে নৈতিক অধঃপতন ও মরণ নেশা মাদকের কুপ্রভাব থেকে রক্ষায় দেশের মাঠগুলোকে সচল করে দেওয়ার বিকল্প নেই। অন্যথায় মাঠগুলোয় যেমন সবচি চাষ হবে তেমনি তরুণ সমাজ হবে বিপদগামী। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মাঠ প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছে। সে মাঠগুলোকে উদ্ধার ও সচল করে সেগুলো খেলার উপযোগী করে ক্রীড়ামোদীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সময়ের দাবি।

লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech