এশিয়া কাপ খেলা অনিশ্চত সাকিবের!

  

পিএনএস ডেস্ক : ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন সংস্করণেই ভালো খেলেছেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ যখন ক্যারিবীয় সফরের সাফল্য থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসন্ন এশিয়া কাপে ভালো করার স্বপ্ন দেখছে, তখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে নিয়ে। আঙুলের চোটে সাকিবের হয়তো নাও খেলা হতে পারে এশিয়া কাপে।

শুধু বাংলাদেশেরই নয়, অসাধারণ একটা সফর গেল সাকিব আল হাসানেরও। সাফল্যের দীপ্তি যে ক্লান্তি ঢেকে দিতে পারে, সেটি আজ সকালে বিমানবন্দরে সাকিব আল হাসানকে দেখে বোঝা গেল। দীর্ঘ সফর আর লম্বা ভ্রমণক্লান্তির কোনো রেশ নেই; বরং তাঁর চোখেমুখে তৃপ্তির ছায়া। তবে সাফল্যের এই ক্ষণেও একটা শঙ্কার চোরাস্রোত বইছে, সাকিব আগামী মাসে এশিয়া কাপে খেলতে পারবেন তো?

গত জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পাওয়া আঙুলের চোট থেকে এখনো মুক্তি মেলেনি সাকিবের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শেষ দিকে পুরোনো চোটটা তাঁকে বেশ ভুগিয়েছে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার তবুও নিজেকে গুটিয়ে নেননি, খেলেছেন চোট ‘ম্যানেজ’ করে। কিন্তু এভাবে ধারাবাহিক খেলে যাওয়া তো কঠিন।

কদিন আগে বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলছিলেন, সাকিব এই চোট বয়ে বেড়াচ্ছেন ছয় মাস ধরে। মূলত তিনি সমস্যা অনুভব করছেন ব্যাটিংয়ের সময়। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় ব্যাটিংয়ে সাকিব শতভাগ দিতে পারছেন না। চোটের সমাধানে সাকিবকে মাঝে অস্ট্রেলিয়ার একজন শল্যবিদের কাছেও পাঠানো হয়। তাঁর চিকিৎসায় ব্যথা কিছুটা কমলেও সমস্যাটা থেকেই গেছে। অস্ট্রেলীয় শল্যবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সাকিবকে স্বল্প মেয়াদে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, যেটি দীর্ঘ মেয়াদে খুব একটা কাজে আসবে না।

বাংলাদেশ দল ফ্লোরিডায় থাকার সময়ও সেখানকার এক চিকিৎসকের পরামর্শে ইনজেকশন নিয়ে খেলেছেন সাকিব। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তাঁর অস্ত্রোপচার জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু এই অস্ত্রোপচার হবে কবে? এশিয়া কাপের আগে না পরে? এশিয়া কাপের আগে হওয়া মানে সাকিবের এই টুর্নামেন্ট খেলা হবে না। পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে দুই মাস।

সাকিব আজ বিমানবন্দরে নিজেই বললেন, অস্ত্রোপচারটা তিনি এশিয়া কাপের আগেই করার পক্ষে, ‘আমরা সবাই জানি যে সার্জারি করতে হবে। আলোচনা হচ্ছে, কোথায় করলে ভালো হয়, কবে করলে ভালো হয়। তবে আমি মনে করি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করে ফেলা ভালো। খুব সম্ভবত এশিয়া কাপের আগেই হবে।’ এশিয়া কাপের আগে কেন দরকার, সেটির যুক্তিও দিলেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার, ‘হওয়া উচিত কারণ, চাই না যে পুরোপুরি ফিট না হয়ে খেলতে। এভাবে যদি চিন্তা করি, এশিয়া কাপের আগে হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

এশিয়া কাপে কখনো শিরোপা না জিতলেও এ টুর্নামেন্টে গত ছয় বছরে বাংলাদেশের সাফল্য বলার মতোই। গত তিনবারের দুবারই শিরোপার লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। গতবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হলেও এবার এশিয়া কাপ হচ্ছে বাংলাদেশের ‘প্রিয়’ সংস্করণ ওয়ানডেতে।

সংস্করণটা যেহেতু ওয়ানডে, আর সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সাফল্যজাত আত্মবিশ্বাস তো আছেই। বাংলাদেশ এশিয়া কাপে ভালো কিছুর স্বপ্ন নিয়েই আয়োজক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে। কিন্তু সাকিব না থাকলে সেটি যে দলের জন্য বিরাট ধাক্কাই হবে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech