জিতল কুমিল্লা

  


পিএনএস ডেস্ক : বন্ধু সাকিব আল হাসান আজ ব্যাট হাতে দলকে জিতিয়েছেন; তামিম যদি বসে থাকেন সেটা কি মানায়? বিপিএলের শুরু থেকেই তামিমের ব্যাট হাসছিল না। আজ যখন হাসল, তখন কাঁদা ছাড়া উপায় ছিল না খুলনা টাইটান্স বোলারদের। ওপেনিংয়ে নেমে ৪২ বলে ৭৩ রানের ইনিংস উপহার দিলেন দেশসেরা ওপেনার। সেইসঙ্গে এনামুল আর ইমরুলের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা না করে উপায় নেই। টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ৩ উইকেটের এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের দ্বিতীয় অবস্থান আরও সংহত করে ফেলল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে সতর্ক শুরু করেন কুমিল্লার দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং এনামুল হক। দ্রুতই দারুণ জুটি গড়ে ফেলেন তারা। টানা ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভূগতে থাকা দেশসেরা ওপেনার আজ মাত্র ২৮ বলে ৮ চার ১ ছক্কায় তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। দশম ওভারেই এই জুটির রান একশ ছাড়িয়ে যায়। তামিমের সাবলীল ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল আজ তিন অংকেও যেতে পারেন তিনি। কিন্তু না, লঙ্কান গতিদানব লাসিথ মালিঙ্গা নিজের দ্বিতীয় স্পেলে এসেই তুলে নেন তামিমকে। ৪২ বলে ১২ চার ১ ছক্কায় ৭৩ রান করা দেশসেরা ওপেনার নাজমুল শান্তর তালুবন্দি হলে ভাঙে ১১৫ রানের ওপেনিং জুটি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স তখন জয় থেকে ৬৭ রান দূরে। ব্যাটিংয়ে আসেন ইমরুল কায়েস। অপর ওপেনার এনামুল হক বিজয়ও আজ ভালোই খেলছিলেন। তার ৩৭ বলে ৫ চারে ৪০ রানের ইনিংসটি থামে মাহমুদউল্লাহর বলে সেই শান্তর হাতে ধরা পড়ে। শামসুর রহমান (১) রান-আউট হয়ে ফেরত যান। অন্যপ্রান্তে বেদম মার শুরু করেন অধিনায়ক ইমরুল। পরপর দুই বলে লিয়াম ডসন এবং ইমরুলকে বিদায় করেন জুনায়েদ খান। ১১ বলে ১ চার ৩ ছক্কায় ২৮ রানের ক্যামিও খেলেন ইমরুল।

থিসারা পেরেরার সঙ্গে উইকেটে আসেন শহিদ আফ্রিদি। তবে নাটকের আরও বাকী ছিল। ১৯তম ওভারে জুনায়েদ খানকে ছক্কা মেরে এক বল পরেই ক্যাচ তুলে দেন ৮ বলে ১২ রান করা পাকিস্তানি হার্ডহিটার। একই ওভারের শেষ বলে সীমানায় ধরা পড়েন জিয়াউর রহমান (০)। শেষ ওভারে কুমিল্লার দরকার ছিল ৮ রান। ব্র্যাথওয়েটেরর ওই ওভারে এক চার এবং একক ছক্কায় দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ৭ বলে ১৮* করা থিসারা পেরেরা। কুমিল্লা জয় পায় ৩ উইকেটে।

এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে জুনায়েদ সিদ্দিকীর ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮১ রানের বিশাল স্কোর গড়ে খুলনা টাইটান্স। যদিও তাদের প্রথম উইকেট পতন ঘটে দলীয় ২ রানে। সাইফউদ্দিনের বলে জিয়াউরের তালুবন্দি হন জহুরুল (০)। জুনায়েদ সিদ্দিকীর সঙ্গে প্রতিরোধ গড়েন আল-আমিন। ৩০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। ১৯ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৩২ রান করে আল-আমিন শহিদ আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে যান। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকেও (১৬) বোল্ড করেন পাকিস্তানি অল-রাউন্ডার। ৪১ বলে ৪ চার এবং ৪ ছক্কায় সাজানো জুনায়েদের ৭০ রানের ইনিংসটি থামে রান-আউট হয়ে।

জুনায়েদের বিদায়ের পর একটি ছোট্ট ধস নামে খুলনার ইনিংসে। ২৫ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ২৯ করা ডেভিড মালান শহিদ আফ্রিদির তৃতীয় শিকার হন। কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে (১২) মেহেদী হাসানের তালুবন্দি করেন ওয়াহাব রিয়াজ। এই পাকিস্তানি পেসারের করা শেষ ওভারের শেষ বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সীমানায় তামিম ইকবালের তালুবন্দি হন আরিফুল হক (১৩)। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮১ রান তোলে খুলনা টাইটান্স। ৩৫ রানে ৩ উইকেট নেন আফ্রিদি।

দিনের প্রথম ম্যাচে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিলেট সিক্সার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। এই জয়ে ব্যাট হাতে অসামান্য অবদান রেখেছেন ঢাকা অধিনায়ক সাকিব।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech