কবে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল?

  

পিএনএস ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে বাতিল ও স্থগিত হচ্ছে একের পর এক সিরিজ। প্রথমে বন্ধ হলো পাকিস্তান সফর। গত এপ্রিলে এক ওয়ানডে আর এক টেস্ট খেলতে করাচি যাওয়ার কথা ছিল টাইগারদের। তা স্থগিত হলো। এটি পুনরায় কবে হবে, তা জানা নেই কারও।

গত মাসে জাতীয় দলের যাওয়ার কথা ছিল আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে। আইরিশ জাতীয় দলের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে সিরিজে অংশ নেয়ার কথা ছিল টাইগারদের। সেটাও হয়নি, স্থগিত হয়েছে অনির্দিষ্টকালীন সময়ের জন্য।

তারপর এই চলতি জুনে অস্ট্রেলিয়ার আসার কথা ছিল বাংলাদেশে। করোনার থাবায় তাও স্থগিত। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ। সেটাও করেনার ভয়বহতার কথা চিন্তা করে আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সবশেষে ঘোষণা এসেছে টাইগারদের শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিতের। জুলাই-আগস্টে শ্রীলঙ্কায় আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তিন ম্যাচে অংশ নেয়ার কথা ছিল মুমিনুল, মুশফিকদের। সেটাও স্থগিত করা হয়েছে।

সবমিলিয়ে তিনটি বিদেশ সফর আর দুইটি হোম সিরিজসহ মোট পাঁচটি সিরিজ স্থগিত। এখন প্রশ্ন হলো, এ বছর কি টাইগারদের আর আদৌ মাঠে ফেরা হবে। তামিম, মুমিনুল, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা ২০২০ সালে আর কোন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন?

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ক্রিকেট কেন, কোনরকম খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক আচার-অনুষ্ঠানের প্রশ্নই আসে না। সবাইকে ঘরে থাকার থাকা বলা হচ্ছে। খুব দরকারি কাজ ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শই দেয়া হচ্ছে। ক্রিকেটারদেরও ঘরের বাইরে গিয়ে অনুশীলন করাতে আছে রাজ্যের ঝুঁকি।

ভক্ত-সমর্থকদের এখন একটাই প্রশ্ন, তাহলে ক্রিকেট কবে নাগাদ চালু হবে? কঠিন সত্য হলো, এ প্রশ্নের জবাব সময়ের হাতে ছেড়ে দেয়া ছাড়া আর কিছু করারই নেই। করোনার তীব্র সংক্রমণের মধ্যে কোনরকম আগাম ঘোষণা দেয়া বিসিবির পক্ষেও সম্ভব নয়।

বোর্ডের পক্ষ থেকে সরাসরি কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসলেও আকার ইঙ্গিতে বলা হয়েছে, করোনা সংকট না কাটলে আসলে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম চালু করা সম্ভব না। এটা শুধু বিসিবির এখতিয়ারও নয়। দেশের করোনা পরিস্থতির ওপর নির্ভর করবে সরকারের চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত। স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে খেলা চালানোর প্রশ্নই আসে না।

এর বাইরে আইসিসিরও অনুমোদন লাগবে। বাংলাদেশে খেলার মত অবস্থা আছে কি না? সেটা খুঁটিয়ে দেখে তবেই না বাংলাদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক সিরিজ আয়োজনের অনুমতি দেবে আইসিসি।

এদিকে জুন প্রায় চলে গেল। জুলাই দরজায় কড়া নাড়ছে। জুলাই-আগস্টেও খেলা উপযোগি পরিবেশ সৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তার মানে আগামী দুই মাসও হয়তো হবে না। তারপর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে কী হবে? সেটাও এখন বলা কঠিন।

এখন সবার আগে দেখতে হবে এ বছর আর টাইগারদের কোন আন্তর্জাতিক সূচি বা অ্যাসাইনমেন্ট আছে কি না? খেলা হবে কি হবে না, তাতো সময়ই বলে দেবে। তবে এখন পর্যন্ত যেহেতু বাতিলের ঘোষণা আসেনি, তাই বলা, ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে এ বছর আরও তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট বাকি জাতীয় দলের। সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ, অক্টোবর-নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং এ বছরের শেষভাগে না হয় আগামী বছরের শুরুতে তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কা যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।

এশিয়া কাপ আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভবিষ্যত পেন্ডুলামের মত অনিশ্চয়তার দোলাচালে দুলছে। দুটি আসর হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। আর ঐ দুই আসর স্থগিত হলে ২০২০ সালে আর টাইগারদের মাঠে নামা হবে কি না সেটাই দেখার।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন