তাপমাত্রা কমাতে কৃত্রিম মেঘ ১২ বিজ্ঞানীর আপত্তি

  

পিএনএস ডেস্ক : কোনো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি নয়। সত্যি সত্যি সূর্যরশ্মি আটকে দিতে চাচ্ছেন শিল্পোন্নত দেশের বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিম মেঘ সৃষ্টি করে তা ঊর্ধ্বাকাশে ছেড়ে দিতে চান তাঁরা। তাতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকা পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। কার্বন নিঃসরণ না কমিয়ে বিশ্বের তাপমাত্রা কমানোর এমন বুদ্ধি বাতলেছেন শিল্পোন্নত দেশের কয়েকজন বিজ্ঞানী। তবে তাঁদের এই গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের ১২ জন বিজ্ঞানী।

গত বুধবার বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ কৃত্রিম মেঘ সৃষ্টি করে আকাশে ছেড়ে দেওয়া প্রযুক্তির গবেষণা ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই ১২ বিজ্ঞানী। ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ মাস্ট লিড সোলার জিও ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদনের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের জলবায়ু গবেষক ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের (বিসিএএস) নির্বাহী পরিচালক আতিক রহমান।

তাঁর নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই কৃত্রিম মেঘ আকাশে ছেড়ে দিলে তা বিশ্বের তাপমাত্রা হয়তো কমাবে। কিন্তু এতে বিশ্ব প্রকৃতিতে নতুন কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে কি না, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে নতুন কোনো রোগজীবাণুর উপদ্রব ঘটবে কি না, তা এখনো কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না।

কৃত্রিম মেঘ সৃষ্টির প্রযুক্তিটি উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের খ্যাতনামা প্রায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জড়িত। তাঁরা একধরনের অ্যারোসল উদ্ভাবন করেছেন, যা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে দিলে সূর্যরশ্মি পৃথিবীতে কম প্রবেশ করবে। এভাবে এক বছরের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা আধা ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে আতিক রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো প্রযুক্তির বিরোধিতা করছি না। কিন্তু যে প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বের তাপমাত্রা কমাবে, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী, তা আমরা জানি না। এ গবেষণায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিজ্ঞানীদের কোনো অংশগ্রহণ নেই। আমাদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। এসব উদ্যোগের কারণে উন্নয়নশীল দেশের কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে কোনো ক্ষতি হয়ে গেলে তা সামলানোর ক্ষমতাও এসব দেশের নেই। ফলে, আমরা এসব গবেষণায় বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও মতামতের প্রাধান্য নিশ্চিত করার দাবি তুলেছি।’

বাংলাদেশ, ভারত, ব্রাজিল, চীন, ইথিওপিয়া, জ্যামাইকা, নিউজিল্যান্ড, কেনিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডের ১১ জন এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক এসআরএম গভর্ন্যান্স ইনস্টিটিউটের এক বিজ্ঞানী যৌথভাবে নেচার সাময়িকীতে প্রতিবেদনটি লিখেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও এই শতকের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে তাঁরা এ ধরনের প্রযুক্তির কথা ভাবছেন।

জাতিসংঘের আন্তসরকার জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত প্যানেলের (আইপিসিসি) প্রধান বিজ্ঞানী ও ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পাওলো আর্টাক্সো বলেন, ‘সোলার জিও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি নিরাপদ কি না, তা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। কার্বন নিঃসরণ কমানোর যেকোনো আগ্রাসী উদ্যোগের প্রতি আমার সমর্থন আছে। কিন্তু ওই প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কী অর্থ বয়ে আনবে, তা আমরা এখনো জানি না। ফলে আমাদের তা জানাতে হবে।’

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech