ফেসবুক সবাই ছেড়ে যাচ্ছে কেন?

  


পিএনএস ডেস্ক: ফেসবুকের ওপর আস্থা হারাচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে তরুণদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে সামাজিক যোগাযোগের এ সাইট। এ নিয়ে টানা দুই বছর তরুণদের ফেসবুক ছেড়ে যাওয়ার হার বাড়তে দেখা গেল। যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের নিয়ে করা সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ফেসবুক ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এডিসন রিসার্চ এ সমীক্ষা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রে দেড় হাজার সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারকারীকে নিয়ে ওই সমীক্ষা চালানো হয়।

ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ বছর বয়সের অধিক জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশ ফেসবুক ব্যবহার করতে, যা ২০১৮ সালে নেমে আসে ৬২ শতাংশে। বর্তমানে তা ৬১ শতাংশে নেমে এসেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীর হার সবচেয়ে বেশি কমেছে ১২ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে। মানুষ ফেসবুক ছেড়ে স্ন্যাপচ্যাটের মতো অ্যাপ্লিকেশনের দিকে ঝুঁকছে।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত দুই বছরে বড় ধাক্কা খেয়েছে ফেসবুক। গত দুই বছরে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ফেসবুক ছেড়ে দিয়েছেন। গত বছরে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির পর থেকে তরুণদের মধ্যে ফেসবুকের প্রতি আস্থা হারানোর হার বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে ফেসবুক থেকে তথ্য হাতিয়ে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পেয়েছে।

বাজার গবেষকেরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের বাজার সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারীদের জন্য আকর্ষণীয় বাজার।

এডিসন রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০১৮ সালে ফেসবুক ছেড়েছেন দেড় কোটি মানুষ। এদের বেশির ভাগই ১২ থেকে ৩৪ বছর বয়সী।

ইনস্টাগ্রামের মালিকপক্ষও ফেসবুক। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের ব্যাকএন্ড একসঙ্গে যুক্ত করে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক। এতে এসব সাইট ব্যবহারকারীকে নজরদারি করতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সুবিধা হবে।

এডিসন রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, তরুণদের মধ্যে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা কমলেও বয়স্ক মানুষদের কাছে এটি জনপ্রিয় হচ্ছে। ৫৫ বছর বয়সী বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের কাছে ফেসবুক এখন বেশি জনপ্রিয়। ২০১৭ সালে ৪৯ শতাংশ ও ২০১৮ সালে ৫১ শতাংশ বয়স্ক ফেসবুক ব্যবহারকারী বেড়েছে।

ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাসিক সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৩২ কোটি।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফেসবুক তাদের ব্যবহারকারী বাড়ার কথা বললেও প্রকৃত অবস্থা ভিন্ন। মানুষ ফেসবুকের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাক্সিওস হ্যারিসের প্রতিবেদন বলছে, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা, নির্বাচনে ভুয়া তথ্য, নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি উদ্বেগে ফেসবুকের মর্যাদা দ্রুত কমছে। মানুষ দ্রুত এর ওপর আস্থা হারাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফেসবুকের বর্তমান পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেছেন জাকারবার্গ। ফেসবুকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাই নতুন ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, তিনি প্রাইভেসিকেন্দ্রিক ফেসবুক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চান। তাঁর বিশ্বাস, নিরাপদ ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদান করার সেবা উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হবে। তবে ফেসবুকের হাতে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সেবা আছে, তবে এতে বার্তা এনক্রিপ্ট-সুবিধা যুক্ত করলে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখিয়ে অর্থ আয়ের সুযোগ কমবে।

জাকারবার্গ বলেছেন, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মানুষকে বন্ধু ও কমিউনটির সঙ্গে তাদের পছন্দের ভিত্তিতে যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়। কিন্তু মানুষের এখন ব্যক্তিগত ঘরের মতো ডিজিটাল ক্ষেত্রেও একান্ত যোগাযোগের সুবিধা চাওয়া বেড়েছে। তাই তিনি সোশ্যাল নেটওয়ার্ককে প্রাইভেসিকেন্দ্রিক করতে চান এবং তথ্য সংরক্ষণব্যবস্থাকেও নিরাপদ করতে চান।

এনক্রিপ্ট বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি ব্যবসার জন্য নতুন টুল তৈরি হবে বলে মনে করেন জাকারবার্গ। অনলাইন পেমেন্ট ও কমার্স খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

কবে নাগাদ এ লক্ষ্যে কাজ শুরু হবে, তার সময়সীমা বেঁধে দেননি জাকারবার্গ। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সুবিধা চালু হতে পারে।

জাকারবার্গ বলেছেন, ‘আমি মনে করি, মানুষ যাতে ব্যক্তিগতভাবে কথাবার্তা বলতে পারে এবং মুক্তভাবে কথাবার্তা চালাতে পারে, সে লক্ষ্য আমাদের কাজ করা উচিত। পৃথিবীকে যদি আমরা সেদিকে নিতে পারি, তবে একটা পার্থক্য গড়ে দেওয়া যাবে।’

জাকারবার্গ যতই প্রতিশ্রুতি দেন না কেন, তরুণদের আস্থা সহজে ফিরবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech