বগুড়ায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন বৃদ্ধ সিরাজ

  

পিএনএস, বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শিবগঞ্জে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন পৌর এলাকার ভুরঘাটা পশ্চিমপাড়া মসজিদের মোয়াজ্জেম মাওলানা সিরাজ উদ্দিন (৭০)। পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক এবং থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান যৌথভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে বৃদ্ধ মোয়াজ্জেম সিরাজ উদ্দিনকে টিন দিয়ে দুটি ঘর তৈরি করে দেন। এছাড়াও বাড়ির পুরো সীমানা টিনের বেড়া দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করে দেন। বৃহস্পতিবার সিরাজ উদ্দিনের হাতে সেই ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। সিরাজ উদ্দিন তার স্ত্রীসহ তিন মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে সেই টিনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন।

ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ থানার ওসি (অপারেশন) জাহিদ হোসেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফিজার রহমান, পৌর কাউন্সিলর আবু সাইদ সরদার, সাইফুল ইসলাম, মোমিনুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, যুবলীগ নেতা তাহেরুল ইসলাম প্রমুখ।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সাইদ সরদার জানান, মাওলানা সিরাজ দীর্ঘদিন ধরে ভুরঘাটা জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তার নিজের কোনো জমি, বাড়ি-ঘর বরতে কিছুই ছিল না। ছোট্র একটি খড়ের ঝুপরি ঘরে স্বপরিবারে বসবাস করতেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেই ঝুপড়ি ঘরে পানি পড়তো। রাতের ঘুম হারাম হয়ে যেত। এই বৃদ্ধ বয়সে এতো কষ্ট আর সইতে পারছিলেন না। বৃদ্ধ হবার কারণে কোনো কাজকর্মও করতে পারতো না। গ্রামের লোকজনদের বেশকয়েকবার বলেও কোনো লাভ হয়নি। তাই বিষয়টি সরাসরি পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিককে জানানো হয়। কিন্তু পৌরসভায় সেরকম তহবিল না থাকায় কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে মেয়র ব্যক্তিগত চেষ্টায় এবং থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খানের যৌথ প্রচেষ্টায় ঘরটি নির্মাণ করে দেন।

এদিকে, বৃদ্ধ সিরাজ উদ্দিন মাথা গোঁজার নতুন ঠাঁই পেয়ে আনন্দে উচ্ছাসিত হয়ে পড়েন। তিনি অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বলেন, শেষ বয়সে এসে একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবো, তা জীবনে ভাবতেও পারেননি। ছেলে-মেয়ে নিয়ে বৃষ্টিতে অনেক কষ্ট করেছি। এতদিন পর সৃষ্টিকর্তা মুখ তুলে চেয়েছেন। এজন্য তিনি সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক বলেন, মাহে রমজান শুরুর আগের দিন আশ্রয়হীন এক পরিবারকে তার মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ঘর দিতে পেরে আমি আনন্দিত। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, গৃহহীন মানুষ বৃদ্ধ সিরাজ উদ্দিনকে স্ব-পরিবারে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেবার কাজে সম্পৃক্ত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech