তানোরে আমের কেজি ৫ টাকা!

  



পিএনএস, তানোর (রাজশাহী) থেকে অসীম কুমার সরকার: জেলার তানোর পৌর এলাকার গোল্লাপাড়াহাটে পাকা আমের কেজি মাত্র ৫ টাকা! কথাটা শুনতে আশ্চর্য হলেও এই চিত্র দেখা গেছে গতকাল শুক্রবার হাটে। এবার পুরো উপজেলা জুড়ে আমের বাম্পার ফলন ও প্রচন্ড তাপদাহে অনেকটা আগেই গাছে আম পাকতে শুরু করে। এছাড়া রমজান মাসে তেমন আম বিক্রি না হওয়ায় আমের বাজারদর এতো কম বলে জানিয়েছেন আম ব্যবসায়ীরা।

সরজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার বিকেলে গোল্লাপাড়া হাটে ন্যাংড়া ৫ থেকে ১০ টাকা, গোপালভোগ ১০ থেকে ১৫টাকা, ক্ষিরসা ২০ থেকে ২৫টাকা, কাঁচামিঠা ১০ থেকে ১৫টাকা, দেশি বিভিন্ন জাতের গুটি আম ১০ থেকে ১৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গোল্লাপাড়া হাট থেকে আম ক্রেতা সহকারী শিক্ষক অর্জুন প্রামানিক জানান, প্রথমে ৫ টাকা দরে ৫ কেজি ন্যাংড়া আম কিনেছি। পরে আবার ১০ কেজি আম কিনলাম। আমের এমন কম দাম এর আগে কখনও দেখিনি।

গোল্লাপাড়া বাজারের আম ব্যবসায়ী জাবেদ আলী জানান, এবার এলাকাজুড়ে আমের ব্যাপক ফলন। প্রচন্ড গরমে আম তাড়াতাড়ি পেকে পচে যাচ্ছে। তাই অনেকে বাগান ও বাড়ীর গাছ থেকে আম এনে পানির দামে বেঁচে দিচ্ছেন। যেখানে গতবার আম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সেখানে এবার মাত্র ৫ টা থেকে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যেকের বাড়ীতেই কমবেশী আম গাছ রয়েছে। আর রমজান মাস হওয়ায় তেমনভাবে ক্রেতা আম না কেনায় আমের বাজার এতো কম। তবে ঈদের পরে আমের দাম বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।

তানোর কৃষিব্যাংক গেট সংলগ্ন খুচরা আম বিক্রেতা আমজাদ আলী বলেন, আমের বাজার খুব খারাপ ভাই। ৫টাকা, ১০টাকা থেকে সর্ব্বোচ ২৫ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি হচ্ছে। যেখানে গতবার এইখানে এমন সময় বসে ৪০ থেকে ৫০টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করেছি। ঈদের পরে আমের দাম না বাড়লে লোকসানে পড়বো বলে তিনি জানান।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, তানোরে এবার ৩৬০ হেক্টর জমিতে আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় আর রমজানে তেমন আমের চাহিদা না থাকায় আমের বাজার দর এমন নিন্মমুখী হয়েছে। তবে ঈদের পরে আমের দাম বেশি হবে বলে তিনি মনে করেন।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech