শেরপুরে যুবলীগ নেতার বসতবাড়িতে আগুন দিল বিক্ষুব্ধ জনতা

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার শেরপুরে বিয়ের দাবিতে যুবলীগ নেতা আরিফ মাহমুদের বাড়িতে অবস্থান নেয় বিউটি খাতুন নামে এক নারী। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকার লোকজনের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। একপর্যায়ে ওই যুবলীগ নেতার বসতবাড়িতে আগুন দেন তারা। তবে খবর পেয়ে মুহুর্তের মধ্যে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি তেমন ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি। গত শনিবার (২৩জুন) উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মহিপুর কলোনীপাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ ওই নারীকে আটক করে থানায় আনে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও মহিপুর কলোনির মৃত মহির মন্ডলের ছেলে আরিফ মাহমুদের সঙ্গে পাশের জুয়ানপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের তালাকপ্রাপ্ত মেয়ে বিউটি খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন সকালে ওই নারী যুবলীগ নেতার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে বিয়ের দাবি জানান বিউটি। অন্যথায় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার হুমকিও দেন তিনি। এ অবস্থায় নিরুপায় যুবলীগ নেতার পরিবার বাড়িতে তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে যান। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন তার বসতবাড়িতে আগুন দেন বলে তারা জানান।

অন্যদিকে শেরপুর প্রেসক্লাবে শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে যুবলীগ নেতা আরিফ মাহমুদ বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি স্বার্থন্বেষী মহল আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই মিথ্যাচার করছেন। বিউটি নামের ওই মেয়ের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, মহিপুর বাজারস্থ তার ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু সংঘবদ্ধ একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় নির্মাণ কাজে বাধা দেয়া হয়। এছাড়া উক্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর কারণে তার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটে। আর এসব ঘটনার জেরে মহিপুর জামতলা এলাকার তরিকুল ও বাবু তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বিউটির সঙ্গে কথিত প্রেমের নাটক সাজানো হয়। এমনকি জনরোষ সৃষ্টি করে চিহিৃত সন্ত্রাসীরা তার বসতবাড়িতে আগুন দেয় বলে এই যুবলীগ নেতা দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ওই নারীকে থানায় আনা হয়েছিল। তবে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া উক্ত ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech