ঝিকরগাছায় বাল্যবিয়ে নোটারি পাবলিকের হলফনামায় বৈধতার চেষ্টা!

  

পিএনএস, ঝিকরগাছা : আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যশোরের ঝিকরগাছায় একের পর এক ঘটে চলেছে অসম বাল্যবিয়ে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে বিষয়টি। পাত্র-পাত্রি পক্ষ এই অসম বিয়ের আইনগত বৈধতা নেবার চেষ্টা হিসেবে নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের ‘হলফনামার’ মাধ্যমে কোর্টম্যারেজের শরণাপন্ন হচ্ছেন বলে জানাগেছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানাযায়, গত ৬ মাসের ব্যবধানে উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামে অন্তত একডজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরির মধ্যে এই অসম ও অবৈধ বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। জানাগেছে, এসব তরুণ-তরুণির প্রকৃত বয়স গোঁপন করে যশোরের নোটারি পাবলিক কার্যালয় থেকে হলফনামা বা অ্যাফিডেভিট এর মাধ্যমে প্রাপ্ত বয়স্ক দেখানো হয়েছে। বিবাহ সম্পন্ন এসব তরুণ-তরুণিরা রীতিমত ঘর-সংসার বা দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত ৯ জুলাই কলাগাছি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা জহুরুল হকের কাতার প্রবাসী ছেলে মো. সুজন মিয়া শার্শা উপজেলার সাড়াতলা গ্রামের জনৈক ব্যক্তির অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করেছেন। অপরদিকে গত ১৮ জুন একই গ্রামের প্রবাসী মিলনের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সাথে উপজেলার বেনেয়ালি গ্রামে জনৈক এক প্রবাসী ছেলের সঙ্গে বিবাহ হয়। অন্যদিকে ঝিকরগাছার পারবাজার এলাকায় বিয়ে হয় রুহুল আমিনের মেয়ে রিয়া খাতুনের। অপরদিকে ইয়াকুবের মেয়ে শিরিনা, ছইর উদ্দীনের মেয়ে মিতা খাতুন, শরিফুল ইসলামের মেয়ে অনন্যা ইয়াসমিন, মৃত মোক্তার হোসেনের মেয়ে মুক্তি খাতুন, উত্তরপাড়ার খলিলের মেয়ে মিম খাতুন উল্লেখযোগ্য।

নাভারণ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোলাইমান হোসেন বাল্যবিয়ের অভিযোগ স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, খবর পেয়ে কয়েকটি অসম বিয়ে বন্ধ করলেও পরবর্তিতে গোপনে নোটারি পাবলিক কার্যালয় থেকে হলফনামার মাধ্যমে কোর্টম্যারেজ দেখানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কিছু বাল্যবিয়ে প- করে দেন। তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় উপস্থিত পৌরসদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নিকাহ রেজিস্ট্রারদের (কাজী) বাল্যবিয়ের ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারি ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। তারপরও থামছেনা বাল্যবিয়ে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুল ইসলাম এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলেন, ‘নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের হলফনামার কোনো আইনগত ভিত্তি বা বৈধতা নেই।’ তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech