শেরপুরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। গেল বছরের তুলনায় এবার এখানকার হাটগুলোতে বিপুল পরিমান গবাদি পশুর আমদানি ঘটেছে। তবে হাটগুলোতে ক্রেতা কম থাকায় অন্যান্য বারের তুলনায় বেচাবিক্রি কম বলে বেপারিরা জানিয়েছেন। এরপরও দামে না পড়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতারা পশু কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ ভারতীয় গরু কম আসায় এবার দাম একটু বেশি। তাই গতকাল অনেককে পশু না কিনেই বাড়ি ফিরে যেতে দেখা গেছে।

এদিকে হাটের ইজারাদাররা খাঁজনা আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কাই করছেন না। তারা ক্রেতা বিক্রেতা উভয়পক্ষের নিকট থেকেই জোরপূর্বক খাঁজনা আদায় করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও প্রতিটি গরুর বিপরীতে প্রায় দ্বিগুনহারে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি তারা খাঁসির ক্ষেত্রেও বাড়তি খাঁজনা আদায় করছে।

গতকাল সরেজমিনে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বারোদুয়ারী হাটসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশি-বিদেশি ছোট বড় বিভিন্ন আকারের গরু ও ছাগল হাটে উঠেছে। আশপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্রেতারা নছিমন, ভটভটি ও ট্রাকে করে নিয়ে আসছেন কোরবানির পশু। নন্দীগ্রাম উপজেলার গরু ব্যাপারি সোলায়মান আলী জানান, বিক্রির জন্য তিনি ৮টি গরু হাটে এনেছেন। এরমধ্যে মাঝারি আকারের দুইটি গরুর মধ্যে একটি ৭০হাজার ও আরেকটি ৬৮হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর বাকি চারটি গরু এখনও বিক্রি হয়নি। এসব একেকটি গরুর দাম প্রায় লাখ টাকা প্রত্যাশা করছেন তিনি। কিন্তু ক্রেতারা দাম বলছেন ৭৫ থেকে ৮০হাজার টাকা পর্যন্ত।

উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের উচরং গ্রামের গোলাম রব্বানী একটি বড় আকারের ষাঁড় হাটে আনেন। তিনি গরুটির দাম চান ১লাখ ২০হাজার টাকা। পরে সেই গরুটি লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। দুদু মিয়া নামের আরেক ব্যাপারি বলেন, গেল বছরের তুলনায় গরুর দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও হাটে ক্রেতা কম। তাই তেমন বেচাবিক্রি হচ্ছে না বলে তিনি জানান। বিক্রেতা ফেরদৌস আলম, মোজাম্মেল হক বলেন, ক্রেতারা দেখে শুনে দাম যাচাই-বাচাই করে যে যার মত সাধ্যানুযায়ি পশু কিনছে। একেবারে বড় ও ছোট আকারের পশুর দাম গেল বছরের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম হলেও মাঝারি আকারের গরুর দাম অত্যন্ত বেশি।

এ ছাড়া ছাগলের হাটেও ক্রেতাদের ভিড় জমছে। পছন্দের ছাগলটি কিনতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন তারা। একটি মধ্যম আকারের ছাগল ১৪ থেকে ১৭হাজার টাকা পর্যন্ত দাম উঠছে। তবে হাটে ওটা সবচেয়ে বড় ছাগলের দাম উঠেছে ৪৬হাজার টাকা। অন্যদিকে ক্রেতা শহিদুল ইসলাম, আব্দুল আলীম বলেন, তাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনকে কোরবানির পশু কিনতে প্রচন্ড বেগ পেতে হয়েছে। তার ওপর হাটের ইজারাদাররা ইচ্ছেমত খাঁজনা আদায় করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার কর্তৃক প্রতিটি গরুর নির্ধারিতহারে খাঁজনা আদায়ের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। বরং প্রতিটি গরুর বিপরীতে ক্রেতার নিকট থেকে ৪০০থেকে ৫০০ টাকা হারে খাঁজনা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া খাঁসির ক্ষেত্রে শতকরা ১০ টাকা হারে খাঁজনা নেয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইজারাদারের নিয়োজিত একাধিক ব্যক্তি জানান, ঈদের কারণে সামান্য বাড়তিহারে খাঁজনা নেয়া হচ্ছে। ঈদ শেষে আবার আগের রেটেই খাঁজনা নেয়া হবে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজিউর রহমান জানান, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech