চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ

  

পিএনএস ডেস্ক : তিন দশকেরও বেশি সময় পর ঘোষিত চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পদবঞ্চিতরা। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে কলেজ গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক বন্ধ রাখেন তারা। বিক্ষোভকারীরা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাদের অভিযোগ- টাকার বিনিময়ে শিবির ও ছাত্রদলের কর্মীদের পদ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের ত্যাগী কর্মীরা পদবঞ্চিত হয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নগর কমিটির নেতারা।

সোমবার রাতে প্রয়াত নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মাহমুদুল করিমকে সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী সুভাষ মল্লিক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয় নগর ছাত্রলীগ।

পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ কর্মীরা মঙ্গলবার সড়কের দুই পাশে বাঁশ দিয়ে অবরোধ করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধের কারণে এ এলাকায় অবস্থিত ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট মেরিস স্কুল, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে আসা শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। লোকজনকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগের ছেলেরা। পরে তাদের সরিয়ে কলেজে ঢুকিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সদ্য ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি ওবায়েদুল হক বলেন, 'কাউকে না জানিয়ে রাতের আঁধারে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কমিটি করেছেন। প্রকৃত সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন না করে ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মীদের পদ দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আমরা ছয়জন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।'

পদবঞ্চিত কর্মী এইচ এম ফরহাদ বলেন, 'বিভিন্ন সময়ে যারা কলেজে শিবিরবিরোধী অন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে এ কমিটি করা হয়েছে। শিবির-ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এমন ছাত্রদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে।'

অভিযোগ অস্বীকার করে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ক্যাম্পাসে যারা নিয়মিত তাদেরকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিবির-ছাত্রদল বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা তো ক্যাম্পাসে রাজনীতি করে আসছিল। এতদিন তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

আশির দশকের শেষ দিকে ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দখল নিয়ে একক রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল ইসলামী ছাত্র শিবির। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় এ দুই কলেজে অন্য ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম এক প্রকার নিষিদ্ধ ছিল। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শিবিরকে বিতাড়িত করে এ দুই কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেয় ছাত্রলীগ। এরপর তিনভাগে বিভক্ত হয়ে কলেজ রাজনীতিতে সক্রিয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নিয়মিত বিরতিতে প্রায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এই তিন গ্রুপ।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech