সন্ত্রাসীদের গুলি; আরও একজনের মৃত্যু

  19-03-2019 07:50AM



পিএনএস ডেস্ক: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে নির্বাচনকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহতদের মধ্যে আরও একজন মারা গেছেন। তার নাম তৈয়ব আলি। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে।

সোমবার রাতে এ ঘটনায় আহত ১১ জনকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

এদিকে আহত অপর ১০ জনকে চট্টগ্রাম সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে পৌঁছায়।

এ ঘটনায় অপর নিহতরা হলেন- আনসার বাহিনীর ভিডিপি সদস্য আল আমিন (১৭), বিলকিস বেগম (৪০), মিহির কান্তি দত্ত (৪০), জাহানারা বেগম (৪০), পথচারী মন্টু চাকমা (২৭) ও শিক্ষক মো. আমির হোসেন (৪০)।

নির্বাচনীকর্মীরা বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে একসঙ্গে বিজিবি প্রহরায় গাড়িবহর নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরে ফিরছিলেন।

বাঘাইছড়ি থানা পুলিশের ওসি এমএ মনজুর জানিয়েছেন, সাজেক ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচনী কর্মকর্তারা আনসার ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিজিবি প্রহরায় চাঁদের গাড়ি (জিপ) করে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। এ সময় তাদের গাড়িতে থাকা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর ব্রাশফায়ার করা হলে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালিয়ে বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে গাড়িতে থাকা কর্মকর্তাদের নামানোর পর একে একে গুলিবিদ্ধরা মারা যান।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ জানান, তিনটি কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে তারা সবাই ফিরছিলেন। তখন তাদের ওপর নৃশংস এ ঘটনাটি ঘটে।

এ বিষয়ে নিবার্চনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা জানিয়েছেন, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা নিশ্চিত পরাজয় জেনে সকালে নির্বাচন বর্জন নাটক করার পর সন্ধ্যায় সরকারি কাজে নিয়োজিতদের ওপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে। তিনি এই হামলার জন্য জনসংহতি সমিতি (সন্তু লারমা) ও ইউপিডিএফকে (প্রসিত) দায়ী করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ ওই এলাকায় আমাদের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম বা অবস্থান নেই। ওইটা পুরোটাই ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রিত এলাকা। আমরা যেহেতু সকালেই নির্বাচন বর্জন করেছি এবং লিখিতভাবে আমাদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, আমরা কেন এমন কাজ করবো। আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের আস্থা আছে।

অন্যদিকে ইউপিডিএফের (প্রসিত) মুখপাত্র মাইকেল চাকমা জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এই নির্বাচনে আমাদের এখানে কোনো প্রার্থীও ছিল না। আমরা কেন এ কাজ করতে যাব?

প্রসঙ্গত, এ উপজেলায় পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনে জাতীয় কোনো রাজনৈতিক দল প্রার্থী দেয়নি। শুধুমাত্র সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) শীর্ষ নেতা সুদর্শন চাকমা। নির্বাচনের প্রচারণার সময়কালেও এ উপজেলায় গত ৩ মার্চ জনসংহতি সমিতির নেতা উদয় জয় চাকমা উরফে চিক্কোধনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার ভোটের দিন নির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে অনিয়ম, ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখল অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন জনসংহতি সমিতির প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন