পাইকগাছায় সাবেক এমপি ও তার গাড়ি আটক

  

পিএনএস, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : ঘুষের টাকা ফেরৎ না দেওয়ায় পাইকগাছায় খুলনা-৬ সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. শেখ মো. নূরুল হক ও তার ব্যবহৃত গাড়ী আটক করে রাখা হয়। চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে। আগামী ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে সাবেক এমপি পুত্র মনিরুল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলায় পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী। প্রতীক মটরসাইকেল। পুত্রের জন্য ভোট চাইতে ২১মার্চ রাত ৮টার দিকে উপজেলার মৌখালী বাজারে পৌঁছালে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর জনরোষের শিকার হন। এসময় সাবেক এমপি ও তার গাড়ী কিছু ক্ষণ আটকে রাখা হয়।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানাযায়, সাবেক সাংসদ সদস্য বুধবার (২১মার্চ) সকাল ১১টার দিকে পুত্রের নির্বাচনী গণসংযোগ করতে উপজেলার চাঁদখালী যান। সে সময় মৌখালী গ্রামের আক্তার গাজীর পুত্র রিকশা চালক মো. ফরিদউদ্দিন গাজী সাবেক এমপি অ্যাড. শেখ মো. নূরুল হকের কাছে চাকরি দেয়ার নাম করে নেয়া নগত ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরৎ চান। জনসম্মুখে টাকা ফেরৎ চাওয়াই সাবেক এমপি ফরিদউদ্দিনের উপর চটে যান এবং বিভিন্ন হুমকি দেন। পরবর্তিতে ঐ দিন রাত ৮ টার দিকে সাবেক এমপি মৌখালী এলাকায় গণসংযোগ করতে গেলে ভুক্তভোগী ফরিদউদ্দিন সহ এলাকাবাসী (নারী-পুরুষ) সাবেক এমপি ও তার গাড়ী আটকে রাখে। উপায়ন্ত না পেয়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে সাবেক এমপি নূরল হক কে সেখান থেকে চলে যেতে সহযোগীতা করেন।

ভুক্তভোগী ফরিদউদ্দিন বলেন, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে রেলওয়ের খালাসী ইলেকট্রনিক্স (বিদ্যুৎ) পদে নিয়োগের জন্য ১১ লাখ টাকা দেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়। নগত ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। চাকরি হওয়ার পরে বাকি টাকা পরিশোধের কথা থাকে হয়। এর পর রেলওয়ে বার বার নিয়োগ দিলেও আজও তার চাকরি হয়নি। উপায়ন্ত না পেয়ে টাকা ফেরত নেয়ার জন্য বার বার ধন্যা দিয়েও টাকা ফেরৎ পায়নি রিকশা চালক ফরিদউদ্দিন। টাকার শোকে তার মা আজ রোগাক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। দু’টি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে তার মায়ের টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
ফরিদউদ্দিন আরো জানান, গত সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সাবেক সংসদ নূরুল হক ও তার দু’পুত্র শেখ মনিরুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু নূরুল হক মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকে তার সাথে কোনো যোগাযোগ করছেনা তারা। এমন কি তার ফোন রিসিভ করছেনা। চাকরি হবে বলে বিভিন্ন সময় বড় বড় মাছ যেমন ১০কেজি ওজনের রুই মাছ, ৮কেজি ওজনের বোয়াল মাছ, ৮কেজি ওজনের আড়ই মাছ, ১২টা দেশি মুরগি, বাড়ির গাছের ডাব সহ বিভিন্ন পন্য তার বাড়িতে নিজে দিয়ে এসেছি।

ফরিদউদ্দিন উপায়ন্ত না পেয়ে টাকা ফেরৎ পেতে বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ বিষয় সাবেক এমপি অ্যাড. শেখ মো. নূরুল হক ও তার পুত্রদের বক্তব্য জানার জন্য ফোন দেওয়া হলে রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল




 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech