মানিকগঞ্জে নদীর ভাঙনে বিলীন ২০০’শ বাড়িঘর, ঝুঁকিতে ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  

পিএনএস, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জে তীব্র হয়ে উঠেছে যমুনা নদীর ভাঙন। দুই সপ্তাহে ভাঙনের কবলে পড়ে দৌলতপুর ও শিবালয়ে বিলীন হয়ে গেছে দুই শতাধিক বাড়িঘর। পাশাপাশি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে ভেঙে পড়েছে। এছাড়া নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আরো কয়েকশ বাড়িঘর। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা। তবে জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন পুরোপুরি রোধ করা যাবে না।

জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় উজানের ঢল নামায় পানি ও স্রোত বেড়েছে যমুনা নদীতে। এ কারণে দুই সপ্তাহ ধরে নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে। এরই মধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন এবং দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারি, জিয়নপুর, বাচামারা ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ জমি, দুই শতাধিক বাড়িঘর, আবুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের শিকার হয়ে এসব এলাকার বাসিন্দাদের অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে। আবুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভেঙে যাওয়ায় জিয়নপুরের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে।

দৌলতপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই বর্ষায় নদীভাঙনে এ এলাকার কোনো না কোনো বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বছর ভাঙনের কবলে পড়ায় এরই মধ্যে দুটি বিদ্যালয় সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে ওই দুটি বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আপাতত তাদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা হচ্ছে। এছাড়া আরো ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন তীব্র হলে সেগুলোও অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে।

দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতি বছরই বর্ষায় ভাঙন দেখা দেয়। এ বছর ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশি। এরই মধ্যে ২০০ পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গেছে। এছাড়া হুমকিতে পড়েছে আরো কয়েকশ বাড়িঘর, ফসলি জমি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একাধিক হাটবাজার।

চরকাটারি ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক মন্ডল বলেন, এরই মধ্যে চরকাটারি ইউনিয়নের কাঁঠালতলী গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ওই গ্রামের শতাধিক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। নতুন ঘর তোলার জন্য অর্থ প্রয়োজন। কিন্তু এখন তারা বলতে গেলে পুরোপুরি নিঃস্ব।
তিনি আরো বলেন, ভাঙন অব্যাহত থাকলে পুরো চরকাটারি ইউনিয়ন বিলীন হয়ে যাবে। তাই ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় নদীর পাড় ভাঙছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেককে সরকারিভাবে সহায়তা দেয়া হবে।

ভাঙনকবলিত জিয়নপুর ও বাচামারা ইউনিয়ন এলাকা ঘুরে এসে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, দৌলতপুরের ছয় থেকে সাত কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি। নদীভাঙনের শিকার দুই শতাধিক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল ও ৭৬টি পরিবারকে ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। আরো সহায়তা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাউবোকে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, জরুরি ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে শিগগির কাজ শুরু করা হবে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech