পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের দাফন সম্পন্ন

  

পিএনএস ডেস্ক : তখনো বিয়ের গন্ধ শেষ হয়নি। পোষাক হয়নি পুরোনো। তাই বিয়ের শাড়ি পড়েই বরকে সাথে নিয়ে বোনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাবার কথা ছিলো তার। একটা ইজিবাইকে চড়ে খুনশুটি আর স্বপ্নভরা চোখ নিয়ে যাত্রা করেছিলো নতুন সেই বর কনে।

শনিবার পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ওই নবদম্পতির জানাযায় এমনটাই আলোচনা ছিলো। ওই নবদম্পতির বাড়ি তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাকবদলি মাঝিপাড়া এলাকায়। ওই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে লাবু ইসলাম এবং সদর উপজেলার ভেলকুজোত গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে মুক্তি বেগমের বিয়ে হয় গত অক্টোবরে। বিয়ের ৩৩ দিন পর তাদের মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হয়। দাওয়াত খেতে যাবার পথে একটি বাস মুহুর্তেই সবকিছু শেষ করে দেয়।

ইজিবাইকের চালকসহ নিহত হয় ৭ জন। শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুর মাড়ি চৌরাস্তা এলাকায় তেঁতুলিয়া-ঢাকা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানাযায় লাবু ইসলামের বাবা মজিবর রহমান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, বাবা বেঁচে থাকতে ছেলের লাশ দেখা যে কত কষ্টের যে ছেলে হারায় সেই বোঝে। সুস্থ মানুষগুলো বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে খুব বেশি সময়ও হয়নি মৃত হয়ে ফিরে এলো। এই দৃশ্য সইতে পারছি না। যাদের জন্য আমার ছেলে ও বৌমাসহ সাত সাতটি প্রাণ গেলো আমরা তদন্ত করে তাদের বিচার দাবি করছি।

শনিবার দুপুরে এই নবদম্পতির বাড়িতে শোক জানাতে আসেন পঞ্চগড় ২ আসনের সংসদ সদস্য ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি পরিবারের হাতে ৫ হাজার টাকা নগদ অনুদান প্রদান করেন।
এ ঘটনায় নিহত অন্যান্যরা হলেন, সদর উপজেলার সাহেব জোত গ্রামের আকবর আলী (৭০) এবং তার স্ত্রী নুরিমা বেগম (৫৭), রায়পাড়া এলাকার মাফুর ইসলাম (৪৫), তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝিপাড়া এলাকার ফরহাদ হোসেন (৪৫), চেকরমারী এলাকার রফিকুল ইসলাম (২৮) এবং সুরিভিটা এলাকার নারগিস আক্তার (৪৫)।

এ ঘটনায় ওই বাসের চালক কে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেছে ভজনপুর হাইওয়ে পুলিশ। বাস চালক বর্তমানে পলাতক রয়েছে। ভজনপুর হাইওয়ে থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত ওসি আব্দুল কাদের জ্বিলানী জানান, আপাতত চালককে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। চালকের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির পরামর্শ সাপেক্ষে পরে আইনী পক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এই সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহতের পরিবারে ২০ হাজার টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

পিএনএস/মো. শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech