আহতদের অধিকাংশই ঢামেক, পঙ্গু হাসপাতাল ও ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি

  

পিএনএস ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের অধিকাংশকেই রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক), পঙ্গু হাসপাতাল ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হওয়ার পাশাপাশি ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার ভোররাত ৩ টার দিকে কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলস্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন দুটি হচ্ছে- চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন তূর্ণা নিশীথা এবং সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস।

তবে এই ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। হতাহত সবাই উদয়নের ট্রেনের যাত্রী বলে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সদস্যরা নিহতদের হাতের আঙুলের ছাপ এবং নিহতদের আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নিহতরা হচ্ছেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মদনমোহন এলাকার আইয়ুব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩৫), হবিগঞ্জ সদরের আনোয়ারপুর এলাকার মো. হাসানের ছেলে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আলী মো. ইউসুফ (৩৫), বুল্লা গ্রামের ইয়াছিন আরাফাত (১২), বানিয়াচং উপজেলার সোহেল মিয়ার মেয়ে শিশু কন্যা ছোঁয়া মণি (০৪), আজমতউল্লাহর ছেলে রিপন মিয়া (২৫), বড়বাজারের সোহেল মিয়ার মেয়ে আদিবা (২), চুনারুঘাট উপজেলার পীরেরগাঁও এলাকার আবদুল হাসিমের ছেলে সুজন আহমেদ (২৪), আহমেদাবাদের আবদুস সালামের স্ত্রী পিয়ারা বেগম (৩২), রিপন মিয়া (২৫), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজাগাঁও এলাকার আবদুল জলিলের ছেলে মজিবুর রহমান (৫০), তার স্ত্রী কুলসুমা (৪২), হাইমচর উপজেলার ইশানপান দক্ষিণ তিরাশী এলাকার মাঈনউদ্দিনের স্ত্রী কাকলী (৩২), তার ভাশুরের মেয়ে মরিয়ম (৪), উত্তর বালিয়ার বিল্লাল মিয়াজীর মেয়ে ফারজানা (১৫), হাইমচরের মরিয়ম (৪), মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মুসলিম মিয়ার স্ত্রী জাহেদা বেগম (৪৮), নোয়াখালী জেলার বড় মসজিদ পাড়ার সুইপার কলোনির শংকর হরিজন এর ছেলে পুলিশ লাইনের ঝাড়ুদার রবি হরিজন (২৫), মাইজদীর রবি হরিজন (২৩)।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- সুমী (২১), আবুল কাসেম (৪০), মনির (৪০), রাকিব (২৮), হাসান আলী (৭০), দুলাল মিয়া (৬৫), মঈন মিয়া (৩৫), হাফসা (১৪), আসমা (২৪), আশিক (৩২), বোরহান (৪০), আসমা বেগম (২৫), নাজমা (৩০), রাজন(২৮), রাহুল (১), জনি (২৪), অজ্ঞাত (৩০), অলিউল্লাহ(৩৬), আলমগীর (৪০), মুখলেস (৪৩), জজ মিয়া (২৬), মীম (৭), রাহিমা (৪৫), লোকমান (২২), রুবেল (৩৫), আনোয়ার (৩৩), সুব্রত(৪৫), সুরাইয়া খাতুন (৬০), তারা হরিজন (৬৫), ইমন (১৮), সৈকত (৩৫), রায়হান (২০), সাহিদা (৪৫), রেনু (৩৫), আবুল কালাম (৩৫), অজ্ঞাত (৪), অজ্ঞাত (৩০)। আহতদের প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে বেশিরভাগকেই ঢাকা মেডিকেল, পঙ্গু হাসপাতাল ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন বলেন, আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়েই জরুরি বিভাগ, সার্জারি ও অর্থোপেডিক ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত করে একটি মেডিকেল টিম গঠন করি। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের ১২ জন চিকিৎসকের একটি টিমও আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়।

তিনি আরও জানান, আহতদের অধিকাংশেরই হাত-পা ভেঙে গেছে ও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তাদের বেশিরভাগকেই ঢাকা ও সিলেটে পাঠানো হয়েছে।


পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech