মাদ্রাসার ছাদ খসে ৪ শিক্ষার্থী আহত

  

পিএনএস ডেস্ক: ভোলার বোরহানউদ্দিন কামিল (আলিয়া) মাদ্রাসার আলিম (এইচএসসি সমমান) প্রথম বর্ষের শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তরা খসে ৪ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে ওই দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন পাঠদানরত মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ এএইচএম অলিউল্যাহ। ওই সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতরা হলেন- ইমরান হোসেন (১৭), মেহেদী হাসান (১৭), মো. সালাউদ্দিন (১৮) ও জিহাদ হোসেন (১৭)। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ দিকে দ্বিতল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চারটি ক্লাস অন্যত্র নেয়ায় শ্রেণিকক্ষের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ এএইচএম অলিউল্যাহ জানান, ওই সময় তিনি আলিম বর্ষের ক্লাস নিচ্ছিলেন। হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের ছাদের দুইটি স্থান থেকে মাঝারি আকারের পলেস্তরা খসে পড়ে। একটি ছাত্রদের বেঞ্চ স্থান বরাবর, অন্যটি হোয়াইট বোর্ড সংলগ্ন স্থানে। প্রথম ও দ্বিতীয় বেঞ্চে বসা চার শিক্ষার্থীর হাতের বিভিন্ন স্থানে চামড়া উঠে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, তিনি হোয়াইট বোর্ডের পাশে দাঁড়ানো ছিলেন। আধা ইঞ্চি এদিক-ওদিক হলে তার মাথায় পলেস্তরা পড়তে পারত।

এ ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে ওই শ্রেণির ক্লাসসহ দ্বিতলের সব ক্লাস অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে বলে উপাধ্যক্ষ এএইচএম অলিউল্যাহ জানান।

মাদ্রাসা নির্মাণ কাজের সঙ্গে জড়িত ওই মাদ্রাসার সাবেক সহকারী অধ্যাপক মাও. ইয়াছিন জানান, মাদ্রাসার নিজস্ব অর্থায়নে ১৯৭৭ সালের দিকে সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম পাকা ভবন নির্মাণ কাজে হাত দেন। কোনো প্রকৌশলীর নকশা ছাড়াই প্রথমে ১৫ ইঞ্চি বেইজের ওপর ১০ ইঞ্চি ব্রিক ওয়ালের ভবন নির্মাণ করা হয়। ছাদ ছাড়া কোথাও রডের কলাম করা হয়নি। একতলা একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবন এভাবেই শেষ করা হয়।

মাও. ইয়াছিন জানান, অবসরে যাওয়া সর্বশেষ অধ্যক্ষ মরহুম মাও. মফিজুল হক তাও নিজস্ব অর্থায়নে দ্বিতীয় তলার কাজ ১৯৮৫ সালের দিকে শেষ করেন। তবে ওই সময় নির্মাণকাজে আরসিসি পিলার ও কলাম করা হয়েছে। তবে বালু, রডের মান বিচার ও সময়কাল হিসাব করলে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়তে পারে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ বি আহমদ উল্যাহ আনছারী জানান, এ মাদ্রাসার বয়স ১০০ বছর। সিংহভাগ অবকাঠামো মাদ্রাসার অর্থায়নে করা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলের ঐকান্তিক চেষ্টায় একটি সাইক্লোন শেল্টার-কাম-একাডেমিক ভবন সরকারিভাবে পাওয়া গেছে। ওই স্থানে মোটামুটি আটটি শ্রেণির ক্লাস করা সম্ভব।

তিনি জানান, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে চার কক্ষের ভোকেশনাল ভবন করা হয়েছে। তার দুই কক্ষেই প্রাকটিক্যালের মালামাল। একটি কক্ষে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ বলেন, মাদ্রাসার পুরনো ভবনের দ্বিতল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই স্থানে আর ক্লাস নেয়া যাচ্ছে না।
প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে একটি নতুন একাডেমিক ভবন বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান।

বোরহানউদ্দিন পৌরসভার মেয়র ও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর থেকে একটি নতুন ভবন বরাদ্দ দেয়া না হলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

পিএনএস/হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন