করোনাভাইরাস: দুধ নিয়ে বিপাকে লাখো খামারি

  

পিএনএস ডেস্ক : করোনার প্রভাবে বাঘাবাড়ী মিল্কভিটা কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার দেড় লাখ দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষক তাদের উৎপাদিত দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।

দুধ বিক্রির জায়গা না পাওয়ায় ভ্যানে করে দুধ নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে ২০ থেকে ২৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি করছে তারা। এতে তাদের গোখাদ্যের দাম না ওঠায় কৃষকরা চরম লোকসানে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

আশির দশক থেকে পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধ অঞ্চল গড়ে উঠেছে। শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এ এলাকায় ২৫ হাজারেরও বেশি গো-খামার রয়েছে। প্রতিদিন এ অঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ লিটার গরুর দুধ উৎপাদিত হয়ে থাকে। মিল্কভিটা, আড়ং, প্রাণ ডেইরি, ফার্মফ্রেশ, অ্যামোমিল্ক, আফতাব, রংপুর ডেইরি, ব্র্যাকসহ প্রায় ২০টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান তরল দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে সারা দেশে বাজারজাত করে থাকে।

এসব প্রতিষ্ঠানের দুধ সংগ্রহের পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ লিটার। বাকি দুধ স্থানীয় ঘোষ বা দুধ ব্যবসায়ীরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দুধসহ ঘি ও ছানা তৈরি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে থাকে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবেও মিষ্টিজাত কারখানাতে ও চায়ের দোকানে প্রচুর দুধ প্রয়োজন হয়।

তবে এখন শুধু প্রাণ ডেইরি গুঁড়ো দুধ তৈরির জন্য ১ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ অব্যাহত রাখলেও বাকি ৯ লাখ দুধ নিয়ে কৃষক বিপাকে পড়েছে। কৃষকদের দাবি প্রতি লিটার দুধের উৎপাদন খরচ পড়ে ৪২ টাকা। কিন্তু দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লিটার দুধের দাম দিচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকাভুক্ত খামারিদের বাইরের কেউ সেখানে দুধ বিক্রি করতে পারছে না। এ অবস্থায় গত দু’দিন হলো অধিকাংশ কৃষক ও খামারিকে স্থানীয় বাজারগুলোতে ও ভ্যানে করে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে ২০ থেকে ২৫ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মিল্কভিটার আওতাধীন শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি ওয়াজ আলী জানান, মিল্কভিটা বন্ধ থাকায় তাদের সমিতিভুক্ত কৃষকরা দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছে। তারা পানির দরে ফেরি করে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে এসব কৃষক।

এ বিষয়ে বাঘাবাড়ী মিল্কভিটা কারখানার ডিজিএম ডা. ইদ্রিস আলী জানান, করোনার প্রভাবে সরকারি নির্দেশে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার আবার নির্দেশ দিলে ফ্যাক্টরি চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, করোনার প্রভাবে বাজারে দুধের চাহিদা কমে গেছে। এদিকে ৯০০ মেট্রিক টন উৎপাদিত গুঁড়োদুধ অবিক্রীত অবস্থায় গুদামে মজুদ রয়েছে। ফলে নতুন করে গুঁড়োদুধ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কারখানা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। এতে কৃষকের সাময়িক অসুবিধা হলেও আমাদের কিছু করার নেই।

পিএনএস/ এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন