বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় মামলায় আটক ৩

  

পিএনএস ডেস্ক:বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) নির্যাতিত বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোছাইন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

আটকরা হলেন- মামলার প্রধান আসামি বদিউল আলমের ছেলে মো. ফারুক (২২), ৪ নম্বর আসামি আরজ খাতুনের মেয়ে জামাই বেলাল হোসেন (২৪) ও ৮ নম্বর আসামি মো. রুবেলের ভগ্নিপতি কায়সার (২০)। তারা নির্যাতনকারী আনছুর আলমের সহযোগিতাকারী হিসেবে তথ্য আসায় তাদের আটক করা হয়।

মূল অভিযুক্ত ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আনছুর আলমসহ অন্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন।

মঙ্গলবার ভাইরাল হওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, বৃদ্ধ নুরুল আলমের লুঙ্গি ও গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলছে যুবলীগ নেতা আনছুর আলম। এ সময় তাকে থাপ্পড়ও মারেন নির্যাতনকারী। ভিডিও চিত্রটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ সবার নজরে আসে। তবে ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ মে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায়।

এ নির্যাতনের শিকার নুরুল আলম (৭২) চকরিয়ার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ার মৃত আলী মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন ৩১ মে রাতে আটজনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। কিন্তু দু’দিনেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি থানা পুলিশ। পরে ঘটনাটির ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করে অভিযানে নামে চকরিয়া থানার পুলিশ।

এজাহারে বাদী আশরাফ হোসাইন দাবি করেছেন, গত ২৪ মে ঈদের কেনাকাটা শেষ করে বৃদ্ধ নুরুল আলম ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে ইজিবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আনছুর আলমের লালিত সন্ত্রাসীদল তাকে গাড়ি থেকে জোর করে নামিয়ে একটি খোলা মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে বৃদ্ধের লুঙ্গি ও গেঞ্জি টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলে।

এক পর্যায়ে তাকে উলঙ্গ করে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে তারা। এ সময় ওই বৃদ্ধকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে আনছুর আলম। এ সময় দৃশ্যটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন যুবক মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়, ঘটনাটি আশপাশের লোকজন প্রত্যক্ষ করলেও সন্ত্রাসী আনছুর আলমের ভয়ে কেউ বৃদ্ধ নুরুল আলমকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। পরে খবর পেয়ে বৃদ্ধের ছোট ছেলে অটোরিকশা চালক সালাহ উদ্দিন স্বজনদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

বৃদ্ধ নুরুল আলমকে মারধর করার সময় তার সঙ্গে মোবাইল ফোনসেট ও নগদ টাকা হামলাকারী আনছুর ছিনিয়ে নিয়েছে বলে এজাহারে দাবি করেন আশরাফ হোসাইন।

আশরাফ বলেন, তার বাবাকে অমানবিকভাবে মারধর করেছে যুবলীগ নেতা নামধারী সন্ত্রাসী আনছুর আলম। ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা হওয়ায় তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

ঢেমুশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু বলেন, তুচ্ছ ঘটনার জেরে বৃদ্ধ নুরুল আলমকে এলাকার চিহ্নিত কিছু যুবক মারধর করেছে। বিষয়টি জানার পর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিলাম।

বৃদ্ধকে মারধর করার ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কচির বলেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অমানবিক ঘটনা। ভিডিও চিত্রটি দেখার পরপরই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ স্থায়ীভাবে বহিষ্কারে নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল।

তিনি আরও বলেন, আনছুর আলম সংগঠনে অনুপ্রবেশকারী। তার অপকর্ম সম্পর্কে সংগঠনের দায়িত্বশীলরা আগে অবহিত ছিলেন না। ক্ষমতা পাওয়ার পর সে ডাকাতি, জমি জবরদখল ও চাঁদাবাজীসহ নানা অপর্কমে জড়িয়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত আনছুর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তা বন্ধ পাওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন