মৌলভীবাজারে অজ্ঞাত তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যা

  

পিএনএস ডেস্ক : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়ন থেকে গত ১২ জুন ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধারকৃত তরুণীর লাশের কোনো পরিচয় মেলেনি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তরুণীকে গণধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে বলে আটককৃত পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ঘটনার পর মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে রাজনগর থানার ওসি আবুল হাসিম, রাজনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম, এসআই বিনয় ভূষণ, এসআই কালামসহ অন্যদের নিয়ে গঠিত তদন্ত টিম বিষয়টি ব্যাপক তদন্ত শুরু করে।

রাজনগর থানা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তদন্ত টিম জামশেদ মিয়া নামে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জমশেদ মিয়া জানায়, অসামাজিক কাজ করার জন্য একটি মেয়ে আনতে তার সঙ্গে শিপন ও সালমার ২ হাজার টাকার চুক্তি হয়। গত ১০ জুন সন্ধ্যায় সিলেটের হুমায়ুন রশিদ চত্বর হতে শিপন ও সালমা বেগম অজ্ঞাতনামা ওই তরুণীকে রাজনগর থানাধীন উত্তরভাগ ইউনিয়নস্থ এনা বেগম ওরফে গোলাপীর বাড়িতে নিয়ে আসে।

সেখানে অজ্ঞাতনামা ওই তরুণীকে রেখে বাদশা খাঁ, জাহাঙ্গীর আলম, জমসেদ মিয়া ও শেখ হুমায়ুন আহমদ পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ওই রাতে অজ্ঞাতনামা নারীকে খাওয়া খরচ বাবদ ২০০ টাকা দিয়ে বাদশা খাঁ গোলাপীর হেফাজতে রেখে চলে যায়। ১১ জুন সন্ধ্যার পর গোলাপীর ঘরে গিয়ে অজ্ঞাতনামা তরুণীকে আরও একরাত থাকতে বলে। এতে ওই তরুণী রাজি না হলে তাকে সিলেটের শিপন ও সালমার নিকট পৌঁছে দেবে বলে জানায়। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী টিলার বাঁশ ঝাড়ের নিচে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বাদশা খাঁ, জাহাঙ্গীর আলম, জমসেদ মিয়া ও শেখ হুমায়ুন আহমদ। এ সময় চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর আলম ওই তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

গত ১২ জুন উত্তরভাগ ইউপিস্থ চাঁনভাগ দক্ষিণ টিলা গ্রামে মুকুল মিয়ার আকাশী বাগানের একটি গাছে অজ্ঞাতনামা তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই তরুণীর পরিচয় না পাওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে মৌলভীবাজার পৌরসভার মাধ্যমে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

পিএনএস/এসআইআর


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন