ভিন্ন ভিন্ন দলের কর্মী নিয়ে নতুন দল, কী বলছেন বিশ্লেষক ও নেতারা

  28-02-2025 01:24PM


পিএনএস ডেস্ক: ছাত্রদের বহুল আলোচিত নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এই নাম প্রকাশ্যে আসে। আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটছে নতুন এই রাজনৈতিক দলের। এ জন্য আজ বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থকের সমাবেশ ঘটানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নতুন দলের আহ্বায়ক পদের জন্য নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব পদের জন্য আখতার হোসেনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন দলে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবেন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

তবে নানা আলোচনার মধ্যেই দলটির ভেতরে যে এক ধরনের নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব আছে, সেটাও প্রকাশ্যে এসেছে বিভিন্ন সময়। নেতৃত্ব নিয়ে দফায় দফায় সমঝোতা, মনোমালিন্য, সামাজিক মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি কথার লড়াই দেখা গেছে। কাঙ্ক্ষিত পদ পাচ্ছেন না এমনটা স্পষ্ট হওয়ার পর ভেতরের দ্বন্দ্ব বাইরে এসে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

এদিকে এমন একটা দল যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আদর্শের লোকেরা একত্রিত হয়েছেন, এই দলের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ঐক্য ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন অনেকে।

রাজনীতি বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, দল গঠনের পর যখন মাঠের রাজনীতি শুরু হবে তখন এই দ্বন্দ্ব নতুন চেহারায় হাজির হতে পারে।

তিনি বলেন, এখানে যারা বিভিন্ন দলের ছাত্রসংগঠন করে আসা, তারা তাদের আগের দলগত আদর্শ বা দলীয় কর্তৃত্ব নতুন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে পারেন। এছাড়া দলটি যখন আস্তে আস্তে বড় হবে বা কর্মসূচি দেবে তখন কিন্তু অন্য দলগুলো থেকে তাদের ভাবাদর্শিক লোকদের মাধ্যমে নতুন দলকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকলেও থাকতে পারে। এই আশঙ্কা কখনই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ফলে এটা তাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে আসতে পারে।

তবে বিভিন্ন দল কিংবা মতের সম্মিলনকে সমস্যা নয়, বরং সুযোগ হিসেবেই দেখছেন নাগরিক কমিটির অনেকেই।

সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন দল-মতের লোক যুক্ত থাকায় এটা বরং দলকেই সমৃদ্ধ করবে। আমাদের আলোচনায় ডানপন্থি যেমন, তেমনি বামপন্থি বা অন্যান্য ধারার চিন্তাভাবনাগুলো আসে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে এরকম বহুচিন্তা নেই। তারা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেদিক থেকে দেখলে আমাদের এখানে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা আরও সমৃদ্ধ করে। সেখান থেকে যখন আমরা সিদ্ধান্ত নেই তখন সবাই সেটা সমর্থন করে। সুতরাং এটা কোনো সমস্যা না।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামন্তা শারমিনও মনে করেন অন্য দল থেকে কেউ আসলে সেটা সমস্যার কারণ হবে না।

তিনি বলেন, দেখেন যারা সাবেক কোনো দলের, তিনি তো আসলে সাবেক। ওই দল যদি তাদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারতো তাহলে তো তিনি ওই দল ছেড়ে নতুন কোথাও আসতেন না। তাহলে আমরা ধরে নিচ্ছি যে, তারা পূর্বের অবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন একটা ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন।

সামান্তা শারমিন বলেন, এখানে বাম-ডানের বিভক্তি আছে। ধর্মীয় বিভক্তি আছে। এগুলো দিয়ে তো আমরা বাংলাদেশের মানুষকে একত্রিত করতে পারবো না। বাংলাদেশের মানুষকে একত্রিত করতে হলে বাংলাদেশের জন্য যেসব কাজ আবশ্যক সেগুলোতে একমত হওয়া। সেটার জন্য আসলে কোনো দলীয় মতাদর্শ বা ব্যক্তি মতাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ না।

তিনি আরও বলেন, অ্যাজ এ স্টেট যদি এটাকে ডেভেলপ করতে হয় তাহলে কোনো মতাদর্শ জরুরি না। জরুরি হচ্ছে ক্রাইসিস বুঝতে পারা, মানুষের অধিকার বুঝতে পারা এবং সে অধিকারের জন্য যুদ্ধ করা।

নতুন দলের সংগঠকরা আশাবাদী জুলাইয়ের আন্দোলনের ভেতর দিয়ে যে ঐক্য এসেছে তা ধরে রাখার ব্যাপারে। এরজন্য একক নেতৃত্বের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে চান তারা।

কিন্তু আত্মপ্রকাশের আগেই আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন এবং দ্বন্দ্ব, সেই দ্বন্দ্বে আবার নাগরিক কমিটির অন্তত তিনজন নেতার নতুন দলে না থাকার ঘোষণা শুরুর আগেই এক ধরনের সংশয় তৈরি করেছে।

এর মধ্যেই সাবেক সমন্বয়কদের ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘিরে যে বিভক্তি আর হাতাহাতি, সেটার পরে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘিরেও যে বাড়তি কৌতূহল থাকবে অনেকের তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

পিএনএস/আনোয়ার

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন