রাখাইনে বিস্ফোরণের তীব্রতায় টেকনাফের ঘরবাড়িতে ফাটল

  16-10-2024 10:55PM

পিএনএস ডেস্ক : কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘর্ষ ফের শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে টানা তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসছে এপারে। মিয়ানমারের আকাশে যুদ্ধবিমান চক্কর ও বোমা বর্ষণে কাঁপছে টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকা। এতে বিস্ফোরণের কম্পনে টেকনাফের একটি গ্রামের অন্তত ২৫টি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামের মানুষ।

মিয়ানমারের মংডু শহরের পূর্বে চার কিলোমিটার প্রস্থের নাফ নদীর সাবরাং ইউনিয়নের আছারবুনিয়া গ্রাম। এই গ্রামের বাড়িগুলোতে ফাটলের খবর জানা গেছে।

সাবরাং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘মিয়ানমারের বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্ত এলাকা কাঁপছে। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাতের বিকট বিস্ফোরণের কাঁপুনিতে আছারবুনিয়া গ্রামের ২৫টি মাটির দেয়ালের বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই গ্রামসহ সীমান্তের মানুষগুলো নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে থাকে। মর্টার শেলের বিকট শব্দে ঘুম যাওয়া যায় না। রাত হলে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘হয়তো বা নাফ নদীর কারণে বোমা বা মর্টার শেল এপারে এসে না পড়লেও শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ স্থলবন্দর ও দমদমিয়া এলাকায় কয়েকটি গুলি এসে পড়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অপ্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

আছাববুনিয়া এলাকার সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে বোমার শব্দে কাঁপুনিতে এলাকার ২০-২৫টি সেমিপাকা টিনশেড ও মাটির দেওয়ালের বড় বড় ফাটল ধরেছে। এখন এসব ঘরে বসবাস করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।’

টেকনাফ সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা বলছেন, সপ্তাহখানেক বিরতির পর সোমবার (১৪ অক্টোবর) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সীমান্তের এপার থেকে টানা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এ সময় আকাশে যুদ্ধবিমানও চক্কর দিতে দেখা যায়। এদিন সন্ধ্যার পর থেকে কয়েক ঘণ্টা শান্ত থাকলেও রাত ১টা থেকে ফের বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুরু হয়; যা মঙ্গলবার বেলা ৩টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সঙ্গে মিয়ানমারের আকাশে যুদ্ধবিমানের চক্কর দেখা যায়। বিমানের চক্করের সঙ্গে সঙ্গে ভেসে আসে বিকট শব্দ। এতে কাঁপছে টেকনাফের সীমান্ত এলাকাও।

তারা বলেন, মঙ্গলবার রাতেও ব্যাপক বিস্ফোরণের ভেসে আসে সীমান্তের এপারে। বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকালেও বিকট শব্দের বিস্ফোরণ শুনতে পান লোকজন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, মিয়ানমারে এখনও সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এরমধ্যে রাখাইনের বুথেডংয়ে আড়াই লাখ, মংডুতে তিন লাখ এবং বাকিরা আকিয়াবসহ অন্য টাউনে রয়েছে। বর্তমানে মংডুতে হামলা হচ্ছে, সেখানে অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিকের বসবাস। তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশের টেকনাফে পালিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে খারাংখালী, টেকনাফ, পৌরসভা, হ্নীলা, জাদিমুড়া, দমদমিয়া, নাইট্যংপাড়া, পৌরসভার জালিয়াপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ, নাফ নদীর মোহনায় সীমান্ত থেকে ভেসে আসছে বিস্ফোরণের বড় বড় শব্দ।

সীমান্তের লোকজন বলছে, দীর্ঘদিন বন্ধের পরে আবার বড় ধরনের মর্টারশেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কাঁপছে টেকনাফ।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ‘মানুষজনকে নিরাপদে থাকতে বলা হচ্ছে। রাখাইনের পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সতর্ক আছে। বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন