৫০৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকায় হোলসিম কিনছে লাফার্জ

  

পিএনএস ডেস্ক: হোলসিম সিমেন্ট বাংলাদেশের শতভাগ মালিকানা কিনতে ৫০৪ কোটি ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৯৪০ টাকা দিতে পারবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। যদিও কম্পানিটির একত্রীকরণে লাফার্জ সুরমা ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার চুক্তি করেছিল।

প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসাবে এই মূল্য দাঁড়ায় ৯৪৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনা অনুযায়ী, মালিকানা নিতে অর্থ স্থানান্তরে ৫০৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাঠানোর অনুমতি দেয়।

প্রায় তিন মাস ঝুলে থাকার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত অর্থেই মালিকানা পরিবর্তনের অনুমতি পেয়েছে বলে গতকাল রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। এতে চুক্তিমূল্যের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামেই বিক্রি করতে হলো হোলসিমকে। এদিকে হোলসিম কেনার বিষয়টি খবরে ডিএসইতে ব্যাপক দাম বেড়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের। ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা সংকটে কম্পানিটির শেয়ার হল্টেড হয়ে যায়। দাম বৃদ্ধি সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে ফেলতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।

২০১৫ সালের জুলাইতে বৈশ্বিকভাবে লাফার্জ ও হোলসিম একীভূত হওয়ার পর বিশ্বের সিমেন্ট খাতের বৃহৎ দুই কম্পানি এক ছাতার নিচে এসে ‘লাফার্জহোলসিম’ নামে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিমেন্ট কম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী দুই গোষ্ঠীর ব্যবসা একীভূত হয়ে আসে।

গত বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর লাফার্জ সুরমা হোলসিম সিমেন্টর শতভাগ শেয়ার ক্রয়ের তথ্য জানিয়েছিল।

ওই সময় কম্পানিটি জানায়, পরিচালনা পর্ষদ ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলারে হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের শতভাগ সম্পদ কিনে তা একীভূত করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্ত পরে বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) অনুমোদিত হয়। বিধি মোতাবেক, বিদেশি কোনো কম্পানি ক্রয় করতে ওই প্রতিষ্ঠানে টাকা পাঠাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়। সে অনুযায়ী হোলসিম বাংলাদেশের ওই অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমতি চায়। তবে নিজেদের পর্যালোচনার ভিত্তিতে সব অর্থ পাঠাতে বিপক্ষে মত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এক চিঠিতে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের অথরাইজড ডিলার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে ছয় কোটি ২৫ লাখ ২৭ হাজার ১৮৮ ডলারে (১৭ সেপ্টেম্বরের বিনিময় হারের ভিত্তিতে) হোলসিম বাংলাদেশের সব শেয়ার অধিগ্রহণ ও সে অর্থ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হোল্ডারফিন বি ভির নামে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়। সেই হিসাবে দাম দাঁড়ায় ৫০৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

গতকাল রবিবার ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, সিমেন্ট খাতের এই কম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সংশোধিত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি কার্যকরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) ক্ষমতা দিয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ৫০৪ কোটি ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৯৪০ টাকায় হোলসিম বাংলাদেশের শতভাগ শেয়ার কিনতে সংশোধিত চুক্তিটি কার্যকর করবে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট।

নতুন কম্পানি কেনার খবরে লাফার্জ সুরমার শেয়ার দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। এতে সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে ফেললে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, রবিবার কম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৫.৪ টাকা বা ৯.৯৪ শতাংশ। ৫৫.৬ টাকায় লেনদেন শুরু হলেও শেষ হয়েছে ৫৯.৭০ টাকায়। চলতি বছরের ৯ মাসে কম্পানিটি মুনাফা করেছে ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রথম ও তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা করলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান করে কম্পানিটি। ২০০৩ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া কম্পানিটির ১৯.৭২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে। ১.১৯ শতাংশ বিদেশি ও ১৪.৪১ শতাংশ রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। বাকি ৬৪.৬৮ শতাংশ শেয়ার কম্পানির হাতেই রয়েছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech