কোরবানির পশুরহাটের বড় গরু ‘বাহাদুর’

  

পিএনএসঃ ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাবতলীতে কোরবানির পশুরহাটে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গরু হলো ‘বাহাদুর’। বাহাদুরকে ঘিরে গাবতলী পশুরহাটে এক নম্বর হাসিল ঘর সংলগ্ন এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল জটলা। মানুষের ভিড়ে বাহাদুরের কাছাকাছি ঘেঁষা যাচ্ছে না।

বাহাদুরকে দেখতে ছোট-বড় সবাই জড়ো হচ্ছে এক নম্বর হাসিল ঘরের কাছাকাছি। কেউ কেউ তুলছে ছবি। অনেকে আবার কৌতূহলের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করছে, এত বড় গরুর দাম কত।

বাহাদুরের নামকরণ প্রসঙ্গে গরুর মালিক কুষ্টিয়া থেকে আগত এনামুল হক মিডিয়াকে বলেন, ‘এই গরুর নাম আমি রাখিনি। ওর জন্মের পর একজন ডাক্তার নাম রাখেন বাহাদুর। সেই থেকেই আমি এবং আমার পরিবারের সবাই ওকে বাহাদুর বলেই ডাকি।’
এনামুল আরো বলেন, ‘আমার পরিবারে সদস্য সংখ্যা মাত্র চারজন। কিন্তু আমি সব সময় মনে করি যে, আমার পরিবারে সদস্য পাঁচ জন। আমি বাহাদুরকে পরিবারের একজন হিসেবেই গণ্য করি।’

তিনি বলেন, ‘বাহাদুরের বয়স চার বছর। বাহাদুরের মাও ছিল বাহাদুরের মতো। ওর মাকে বছর তিনেক আগে বিক্রি করে দিয়েছি।’
ছোটবেলা থেকে বাহাদুরকে কী খওয়ানো হতো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই বাহাদুর তার মায়ের দুধ খেত। পাঁচ মাস ওর মায়ের দুধ খেয়েছে। বাহাদুর দুধ খেত বলে আমরা কেউ ওর মায়ের দুধ খাইনি।’

তিনি বলেন, ‘পাঁচ মাস পর থেকে বাহাদুর গমের ছাল খেয়েছে প্রতিদিন প্রায় দুই কেজি। সেই সময় থেকে দুই বছর ওকে গমের ছাল, ছোলা ভিজানো খাইয়েছি। বাহাদুর এখন প্রায় আড়াই কেজি ছোলা ভিজানো খায়। পাশাপাশি সরিষার খৈল, ধানের কুড়া, ভুষি খাওয়ানো হয় ওকে।’

বাহাদুরের পিছনে এ যাবত কত টাকা খরচ হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আনুমানিক প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে।’

বাহাদুরের দামের বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল বলেন, ‘আমি ওর দাম নির্ধারণ করেছি ১২ লাখ টাকা। এখন যে দাম আমি বলেছি, সেই দামে তো আর বিক্রি করা যাবে না। একটু কম-বেশি হবে। এটা আসলে পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে।’

বাহাদুরকে কোন ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি ওকে কোন ধরনের ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। যদি কোন ডাক্তার ওর কোন সমস্যা খুঁজে বের করতে পারেন, তাহলে আমি ওকে বিনা মূল্যে দিয়ে দেব।’

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech