আইনি অস্পষ্টতা ও কর জটিলতায় দুর্বল বন্ড মার্কেট ব্যাংকিং - অর্থনীতি - Premier News Syndicate Limited (PNS)

আইনি অস্পষ্টতা ও কর জটিলতায় দুর্বল বন্ড মার্কেট ব্যাংকিং

  

পিএনএস (জে এ মোহন) : দুর্বল বন্ড মার্কেটের কারণে ব্যাংকগুলো ডিপোজিট ব্যতীত অন্য কোন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারছে না। কিছু ক্ষেত্রে আইনি অস্পষ্টতা ও কর জটিলতায় আগ্রহ তৈরি হচ্ছে না বিনিয়োগকারীদের ।বন্ড ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কর্পোরেট সেক্টর বন্ড মার্কেটের পরিবর্তে পুরোপুরি ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে দুর্বল বন্ড মার্কেটের কারণে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। চীন,অস্ট্রেলিয়া, হংকংসহ অনেক দেশ বন্ড মার্কেটের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এর বিপরীত চিত্র।

আজ (২৬ জুলাই) বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘ডেভেলপমেন্ট অব বন্ড মার্কেট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকেআলোচনায় এসব তথ্য প্রকাশ করে।

গোলটেবিল বৈঠকে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী। ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ গবেষণা সম্পন্ন করেন। গবেষণা দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহেল মোস্তফা, বিআইবিএমের সহকারি অধ্যাপক রুহুল আমীন, বিআইবিএমের প্রভাষক রিফাত জামান সৌরভ, বিআইবিএমের প্রভাষক সাদনিমা আমীর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মো.হাবিবুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রিফর্মস অ্যাডভাইজার এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বন্ড মার্কেটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এটা এখন অত্যন্ত জরুরি। কারণ বন্ড মার্কেটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী এবং কর্তৃপক্ষ উভয়ই লাভবান হবে।

বাংলাদেশে বন্ড মার্কেট এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটা প্রসার করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ ও এনবিআরসহ নীতিনির্ধারণী সংগঠনগুলোকে যৌথভাবে কাজ করা দরকার। বন্ড মার্কেটকে এগিয়ে নিতে যত্নশীলতার সাথে কাজ করতে হবে ব্যাংক কর্মকর্তারে। এটিকে শক্তিশালী করতে হলে বর্তমান রেপো আইন পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে তিনি মনে করেন।

বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী বলেন, বাংলাদেশে বন্ড মার্কেটে নতুন অনেক সিকিউরিটিজ আনতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাবে। এজন্য তিনি জিরো কুপোন বন্ড, ফিক্সড কুপোন বন্ড, সুকুক বন্ডের মতো পণ্য আনা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ভিশন ২০৪১ অর্জন করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রয়োজন। অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশের বন্ড মার্কেট এর বিস্তৃতি অনেক কম। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, এক সময় বন্ড মার্কেট নিয়ে কোনো আলোচনাই ছিল না। কিন্তু এখন আলোচনা হচ্ছে, এটাই আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক। বন্ড মার্কেটের প্রসার করতে হলে অবশ্যই নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে শুধুমাত্র ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বন্ড মার্কেটে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য এই খাতকে পরিচালনা করতে হলে দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শুধু ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এজন্য ব্যাংকের পাশাপাশি বন্ড মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই মার্কেটের উন্নয়ন করতে হলে সরকার ও নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তাদের একসাথে এবং আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। এ মার্কেটের বিস্তৃতির লক্ষ্যে এর ওপর নির্ধারিত কর হার কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড.তৌফিক আহমদ চৌধূরী বলেন, বন্ড মার্কেট, ব্যাংক ব্যবস্থা এবং শেয়ার বাজারের মধ্যে সমন্বয় করলে তারল্য সংকট থাকবে না বলে আশা ব্যক্ত করেন।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech