বর্ষবরণে প্রস্তুত রাবি

  

পিএনএস, রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবন চত্ত্বর। সব সময় সেখানে লোকসমাগম লেগেই থাকে। কিন্তু গত ১০ এপ্রিল রোজ সোমবার গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন রকম এক দৃশ্য। চারুকলা ভবনের সামনে চত্তরটা যেন লোকশূন্য মরুভূমি। বিস্মিত হয়ে কিছুকক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে হঠাৎ দেখা গেল একজন লোক হাতে রং তুলি নিয়ে তড়িগড়ি করে ভবনের উপরের দিকে উঠছে। অনেকটা কতূহলি হয়ে তাকে অনুসরণ করে উপরে উঠতে তৃত্বীয় তলায় দেখা গেল উৎসবমুখর পরিবেশে কেউবা ব্যস্ত মুখোশ বানাতে। আবার কেউবা তাতে রং করছে।

পাশেই জানালা দিয়ে বাহিরে চোখ পড়তে কয়েকজনকে দেখা গেল বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করছেন কবুতর। পাশেই চলছে বিশালাকৃতির ষাঁড় তৈরি করার কাজ। আশে পাশের প্রতিটি মানুষ ব্যস্ত সময় পার করছে। কেননা দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলা নববর্ষ। রোহিঙ্গাদের জন্য শান্তির বার্তা ও চারুকলার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ হিসেবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বেছে নিয়েছেন পহেলা বৈশাখের আয়োজন।

প্রতিবছরের ন্যয় এবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মূল আকর্ষণ চারুকলা অনুষদ। মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, মুখোশ, পাখাসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরী করেছেন। রোববার থেকে রংয়ের কাজও শুরু হয়ে গেছে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা অংশ নেবেন।

এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় ‘ষাঁড়’ ও ‘পায়রা’-কে থিম হিসাবে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ যে উদারতার পরিচয় দিয়েছে তাকে শান্তির প্রতীক হিসেবে কল্পনা করে ‘পায়রা’ এবং বিভিন্ন সময় চারুকলার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও হামলার প্রতিবাদ হিসেবে ‘ষাঁড়’-কে প্রতীকি হিসেবে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে চারুকলা অনুষদ পর্যন্ত আলপনা আঁকার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।

সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে চারুকলা অনুষদের কারুশিল্প বিভাগের শিক্ষক ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চেীধুরী বলেন, ‘বৈশাখে বাঙালীর সংষ্কৃতিকে শতভাগ ফুটিয়ে তুলতে আমরা অনেক কিছুই করে থাকি। চতুর্থ বর্ষে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকার কারণে নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতি একটু দেরিতে শুরু হয়েছে। তারপরও সবার চেষ্টা ও পরিশ্রমে ইতোমধ্যে আমরা অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ করে ফেলেছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পস্তুতি শেষ করার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিরলস পরিশ্রম করছে।’ এবারও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতে জাতীয় এই উৎসব রাবিতে সুষ্ঠুভাবে উদযাপন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মৃৎশিল্প বিভাগের চতুর্থ বর্ষে শিক্ষার্থী এবং বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ওয়াসিক আল করিম বলেন, ‘নতুন বর্ষকে বরণ করে নিতে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি অনুভূতি কাজ করে। বরাবরের মতো আমাদের সংস্কৃতির সবকিছুই থাকবে এবারের আয়োজনে। রঙে রঙ্গীন বৈশাখকে ক্যাম্পাস এবং ক্যাম্পাসের বাইরে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই মূলত আমাদের এই পরিশ্রম।’

প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য এবারই প্রথম বৈশাখ আয়োজন। তাই তাদের আনন্দের মাত্রাও একটু বেশি। প্রিন্টিং ডিজাইন বিভাগের প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী প্রমার কাছে তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছোট থেকেই এ কাজের প্রতি একটু আকর্ষণ বেশি। আর যেহেতু আমরা নতুন তাই উৎসাহ একটু বেশি। বড় ভাই ও আপুরাও সহযোগীতা করছে ও কাজ শিখিয়ে দিচ্ছে। তবে দেরিতে কাজ শুরু হওয়ায় আমাদের উপর একটু বাড়তি চাপ পড়ছে। তবে আমরা আনন্দের সাথে কাজ করছি।’

উল্লেখ্য, শুধু চারুকলা অনুষদ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, বাংলা বিভাগ, সংস্কৃত বিভাগ, ইংরেজি বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, অনুষদ, হল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও নববর্ষ উপলক্ষে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), আবৃত্তি সংগঠন স্বননসহ বিভিন্ন সংগঠনও নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্ষবরণ উৎসবে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে সতর্ক অবস্থানে থাকবে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও পুলিশ প্রশাসন।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech