সরকারি রিপোর্টেই ৬ বছরে সৃজনশীলের সাফল্য ১ শতাংশ

  


পিএনএস ডেস্ক: সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনেই সৃজনশীল পদ্ধতির নাজুক চিত্র ধরা পড়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছর জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সৃজনশীল পদ্ধতি আয়ত্ত করতে পেরেছেন ৫৮ ভাগ শিক্ষক। আর ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এ হার ছিল ৫৭ ভাগ। সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করার পর থেকেই এর প্রায়োগিক ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হয়েছে। সরকারি এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এরপরও দেখা যায় সৃজনশীল শুরুর সময়ে শিক্ষকদের এ বিষয়ে যে ধারণা ছিল- ২০১৯ সালে এসেও সৃজনশীলের সেই ধারণায় সূচক খুব বেশি উন্নতি হয়নি। এর প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে ২০১৪ সালে, যেখানে ৫৭ ভাগ শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতি আয়ত্ত করতে পেরেছেন। সেখানে ছয় বছর পর ২০১৯ সালে এসে মাত্র এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ এই খাতেই সরকারের প্রশিক্ষণ ব্যয় হয়েছে প্রচুর। সৃজনশীলের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরো করুণ। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সর্বত্র এ চিত্র প্রায় একই।

২০১০ সালে এসএসসিতে প্রথমে চালু হয় সৃজনশীল পদ্ধতি। প্রায় ১০ বছর হতে চলেছে এ পদ্ধতি চালু হয়েছে। এর পেছনে শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ নানা ক্ষেত্রে খরচ করা হয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। মাউশি থেকে বলা হয়েছে- মাধ্যমিকের প্রায় সব শিক্ষককে সৃজনশীল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। অথচ এখনো এ অবস্থা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অস্বস্তি আর ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এ নিয়ে কথা বলার সময় অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সৃজনশীলের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অনেক শিক্ষার্থী আর অভিভাবক।

মাউশির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ৫৬ ভাগ স্কুল সৃজনশীল পদ্ধতির ওপর প্রশ্ন প্রণয়ন করতে পারত। একেবারেই প্রশ্ন করতে পারে না- এমন স্কুল রয়েছে ১৭ ভাগ। ২০১৬ সালের মাধ্যমিক স্কুলের ৫৪ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতি আয়ত্ত করতে পারেননি। এদের মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ শিক্ষকের অবস্থা খুবই খারাপ। তারা সৃজনশীল প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারেন না। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সৃজনশীল পদ্ধতির বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি ২০১৬ সালের শুরুতে প্রকাশ হয়। এতে দেখা যায়, ৫২ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতি বোঝেন না। ওই বছর মে মাসে ১৮ হাজার ৫৯৮টি মাধ্যমিক স্কুল পরিদর্শন করে মাউশি এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

একই বছর নভেম্বরে প্রকাশিত মাউশি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের একাডেমির তদারকি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০ দশমিক ৮১ শতাংশ শিক্ষক নিজেরা সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারেন না। ২০১৮ সালেরও এক প্রতিবেদনে দেখা যায় অর্ধেকের বেশি শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতি আয়ত্ত করতে পারেননি।

অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, পরীক্ষায় সরাসরি প্রশ্ন করলে তারা উত্তর দিতে পারত; কিন্তু সৃজনশীলের নামে ঘুরিয়ে প্রশ্ন করায় তারা অনেক সময় অনেক প্রশ্ন বুঝতে পারে না। শিক্ষকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী এখনো সৃজনশীল বিষয়টি ভালো করে না বোঝার কারণে পরীক্ষার খাতায় যা মনে চায় তা লিখে পাতা ভরাট করে।

সৃজনশীল না বোঝার কারণে অভিভাবকদের হয়রানির শেষ নেই সন্তানদের নিয়ে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা সবাই হন্যে হয়ে ছুটছেন প্রাইভেট আর কোচিংয়ের পেছনে। পানির মতো খরচ হচ্ছে অর্থ। আর প্রায় সবারই প্রধান নির্ভরতা হলো গাইড। তারপরও সৃজনশীল নিয়ে অস্বস্তি আর ভীতি কাটছে না শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে ভুগছেন নানা ধরনের মানসিক চাপে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech