নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত : প্রাণের চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের নির্দেশ

  

পিএনএস ডেস্ক : নিম্নমানের হলুদ গুঁড়া উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগে প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহসান খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।

আহসান খান চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবীর সময় আবেদন খারিজ করে দিয়ে রোববার ফুলবাড়িয়া নগরভবনের আদালতে শুনানি শেষে বিশেষ মহানগর হাকিম মেহেদী পাভেল সুইট এ আদেশ দেন।

আহসান খান চৌধুরী একই সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্বে। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং মামলার বাদী মো. কামরুল হাসান।

রোববার মামলার শুনানির সময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের এমডি আহসান খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না। আদালতকে তার আইনজীবীরা জানান, তিনি অসুস্থ, তাই আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে আদালত এ বক্তব্য গ্রহণ না করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এ সময় আদালত বিবাদীপক্ষের আদালতে হাজির হতে সময় প্রার্থনার আবেদনে বিরক্তি প্রকাশ করেন। বিবাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, আমার মক্কেল গুরুতর অসুস্থ, তিনি রক্তের সংক্রমণ (ব্লাড ইনফেকশন) ও জ্বরে ভুগছেন-এ মর্মে মেডিকেল রিপোর্টও আদালতে উত্থাপন করা হয়েছে। আইনজীবীর এ বক্তব্যে আদালত উষ্মা প্রকাশ করেন। বলেন, প্রাণের চেয়ারম্যান নগরভবনে (ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যেখানে এই আদালত অবস্থিত) এসেছেন এবং প্রায়ই আসেন এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য আদালতের কাছে আছে। তিনি (প্রাণের চেয়ারম্যান) অসুস্থ থাকলে কীভাবে নগরভবনে আসেন সেটি কি একটু বুঝিয়ে বলবেন?

পরে আদালত এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত ৩০ জুলাই দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় প্রাণ এগ্রো লিমিটেড উৎপাদিত হলুদের গুঁড়ায় অতিরিক্ত ছাই (ash) ধরা পড়েছে। বিএসটিআই হলুদের গুঁড়ায় ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ পর্যন্ত আশ অনুমোদন করে। কিন্তু প্রাণের গুঁড়া হলুদে ছাই পাওয়া গেছে ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ।

বিএসটিআইয়ের গবেষকরা জানান, হলুদ গুঁড়ায় অতিরিক্ত ছাইয়ের উপস্থিতির বিষয়ে বিদেশিদেরও আপত্তি রয়েছে। হলুদের কাঁচামাল ঠিকমতো না ধোয়ার কারণে এবং ধুলাময়লাসহ অপরিষ্কার কাঁচামাল মেশিনে দিয়ে পিষে গুঁড়া তৈরি করার কারণে এতে ছাইয়ের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়। এর কারণে সংক্রামক ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মানব স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হতে পারে।

প্রসঙ্গত উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও বাজার থেকে সরিয়ে না নেয়ায় ২২ মে প্রাণের ভেজাল গুঁড়া হলুদ, ঘি ও লাচ্ছা সেমাইসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নিম্নমানের ৫২টি পণ্যের বিরুদ্ধে মামলা করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ১২ জুন প্রাণের ঘিসহ কয়েকটি কোম্পানির পণ্যের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। রোববার প্রাণের শুধু গুঁড়া হলুদ এবং অন্য ব্র্যান্ডের বেশ কিছু পণ্যের বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি হয়।

ভেজাল রোধে গত রমজানে বাজার থেকে পণ্য নিয়ে পরীক্ষা করে বিএসটিআই। দুই দফায় এতে প্রাণের চারটি পণ্যেই ভেজাল পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে- প্রাণের গুঁড়া হলুদ, কারি পাউডার, লাচ্ছা সেমাই ও প্রিমিয়াম ঘি। পরে এসব পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। এর পর পণ্যগুলোর লাইসেন্স স্থগিত করে বিএসটিআই। এ ছাড়া উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। নিষেধাজ্ঞাও সত্ত্বেও প্রাণের পণ্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ছাই ও রঙ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রাণের গুঁড়া হলুদ। এর পর চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তা বাজারে ছাড়া হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পণ্য ব্যবহার মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক।

বিএসটিআই থেকে জানানো হয়, প্রথম দফায় মে মাসের শুরুতে কোম্পানির সঙ্গে প্রাণের তিনটি পণ্যে ভেজাল পাওয়া যায়। এগুলো হলো- গুঁড়া হলুদ, কারি পাউডার ও লাচ্ছা সেমাই। ওই সময়ে এসব পণ্যের লাইসেন্স স্থগিত করে পণ্যগুলো নিষিদ্ধ করা হয়। এর পর দ্বিতীয় দফায় ১২ জুন প্রাণের ‘প্রিমিয়াম ঘি’সহ কয়েকটি কোম্পানির পণ্যের লাইসেন্স স্থগিত করে বিএসটিআই। একই সঙ্গে এসব পণ্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোম্পানিগুলোকে। সে হিসাবে ১৪ জুনের মধ্যে ওই পণ্য তুলে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিষয়টি আমলে নেয়নি প্রাণ।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech