মুরাদনগরে ৪শ’ বছরের প্রাচীন মন্দিরের মামলার রায়

  



পিএনএস ডেস্ক: কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ৪শ’ বছরের প্রাচীন শ্রীকাইল বরদেশ্বরী কালি মন্দির সংক্রান্ত কুমিল্লার যুগ্ম জেলা জজ আদালতের একটি রায় সেবায়েতের হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রদান করেছেন।

মন্দিরের প্রয়াত সেবায়েত হরিপদ চক্রবর্তীর ছেলে পবিত্র কুমার চক্রবর্তীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ৯ মার্চ বিচারপতি মামুন রহমান এবং বিচারপতি খিজির হায়াৎ যৌথ বেঞ্চ এ স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

জানা যায়, ২০১৩ সালে শ্রীকাইল গ্রামের জীতেন মল্লিক বাদী হয়ে বরদেশ্বরী মন্দিরের প্রয়াত সেবায়েত হরিপদ চক্রবর্তীর ছেলে পবিত্র কুমার চক্রবর্তীদের নামে দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন।

এ মামলার রায় গত বছরের ১২ মার্চ কুমিল্লা জেলা যুগ্ম জজ ২য় আদালতের বিচারক সেলিনা আক্তার রায় প্রদান করেন।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, বাদীপক্ষ মন্দিরটি যে কমিটি দ্বারা পরিচালনা করেছিলো তা আদালতের কাছে প্রমাণ করতে ব্যার্থ হয়। এবং স্থানীয় লোকজন দ্বারা কমিটি করে মন্দির পরিচালিত হয়েছে তার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এবং হরিপদ চক্রবর্তীর পরিবার যুগ যুগ ধরে মন্দিরের সেবায়েত ও পরিচালনা করে আসছে তা প্রমাণিত হয়েছে বলে পবিত্র কুমার চক্রবর্তী দাবি করেন।

মামলার রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, এসএ খতিয়ানে হরিপদ চক্রবর্তীর নামে রেকর্ডকৃত ২ একর ৪৭ শতক ভূমি এবং মন্দিরের নামে বিএস খতিয়ানে ৯ শতক জায়গাসহ মোট ২.৫৬ একর ভূমি শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালী মন্দিরের নামে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত হয়।

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের ফলে মন্দির পুনঃনির্মাণ সম্পর্কে সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিষেক দাশ বলেন, বিবাদী কর্তৃক হাইকোর্টের ৬ মাসের স্থগিতাদেশের উকিল প্রেরিত কপি পেয়েছি, তবে মাননীয় বিচারকগণের স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ আদেশের কপি এখনও পাইনি।

উল্লেখ্য, ৯ মার্চ হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ প্রদানের দিন দুপুর বেলায় শ্রীকাইল গ্রামের বিশ্বজিৎ সরকার বিষুর সভাপতিত্বে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মন্দির পুনঃনির্মাণ কাজের নামফলক উদ্বোধন করা হয়। এ বিষয়ে পবিত্র কুমার চক্রবর্তী বলেন, হাইকোর্টে আপিল চলা অবস্থায় এবং স্থগিতাদেশ জারির পরেও কিছুদিন আগে সম্মানিত অতিথিদের ভুল তথ্য বুঝিয়ে তরিঘরি করে মন্দির পুনঃনির্মান কাজের উদ্বোধনের আয়োজন করেন বিশ্বজিৎ সরকার। ইতিমধ্যে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ কপি প্রশাসনের বিভিন্ন অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে।

শ্রীকাইল বরদেশ্বরী কালী বিগ্রহ আমাদের বংশানুক্রমিক কুল দেবতা এবং আমাদের ১৫তম প্রজন্ম যাহা শুরু থেকেই পূজা, অর্চনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছি সম্পূর্ণ আমাদের পারিবারিক নিজ ব্যয়ে। তিনি মন্দিরটি একটি প্রাইভেট দেবোত্তর মন্দির বলে দাবি করেন।

পিএনএস/হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন