ফিরে দেখা ৭১-রণাঙ্গনের দিন গুলি (৯)

  08-12-2014 07:10PM

পিএনএস ( কামাল পাশা দোজা ) : মহান বিজয়ের মাসের নবম দিন। সাত ডিসেম্বর রাত ১০টায় আকাশবাণী থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মানেকশ পাকিস্তানের প্রতি আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। হিন্দি, উর্দু ও পশতু ভাষায় তার ওই ভাষণ প্রচার করা হয়।

৮ ডিসেম্বর সকালেও আকাশবাণী এটি প্রচার করে। বিভিন্ন ভাষায় এদিন লিফলেট আকারে এটি ছড়িয়ে দেয়া হয়। আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে জেনারেল মানেকশ বলেন, ‘তোমাদের যুদ্ধ করার ক্ষমতা ও যুদ্ধাস্ত্রের শক্তি অকেজো হয়ে গেছে। এমনকি বাইরে থেকে বিমানের সাহায্য আসার সম্ভাবনাও নেই। অতএব তোমরা অস্ত্র ত্যাগ কর। তোমাদের বাঁচার কোনো পথ নেই। একমাত্র পথ হচ্ছে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমপর্ণ করা।’

সাত ডিসেম্বর রাত ১০টায় আকাশবাণী থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মানেকশ পাকিস্তানের প্রতি আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। হিন্দি, উর্দু ও পশতু ভাষায় তার ওই ভাষণ প্রচার করা হয়। ৮ ডিসেম্বর সকালেও আকাশবাণী এটি প্রচার করে। বিভিন্ন ভাষায় এদিন লিফলেট আকারে এটি ছড়িয়ে দেয়া হয়।



আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে জেনারেল মানেকশ বলেন, ‘তোমাদের যুদ্ধ করার ক্ষমতা ও যুদ্ধাস্ত্রের শক্তি অকেজো হয়ে গেছে। এমনকি বাইরে থেকে বিমানের সাহায্য আসার সম্ভাবনাও নেই। অতএব তোমরা অস্ত্র ত্যাগ কর। তোমাদের বাঁচার কোনো পথ নেই। একমাত্র পথ হচ্ছে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমপর্ণ করা।’

সামগ্রিক যুদ্ধপরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মিত্রবাহিনী তিনটি ব্যবস্থা নেয়। প্রথম ব্যবস্থায় পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। দ্বিতীয় ব্যবস্থায় জেনারেল জগৎ সিংকে বলা হয় দ্রুত ঢাকার দিকে এগিয়ে যেতে। তৃতীয় ব্যবস্থায় একটি ব্রিগেডকে হালুয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে আসা হয়।

পূর্ব সীমান্ত থেকে সব ক’টি ডিভিশন ঢাকার দিকে এগিয়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া দখল করে একটি দল এগিয়ে যায় আশুগঞ্জের দিকে। অন্য দিকে পাকবাহিনী পিরোজপুর ছেড়ে চলে যায়। এদিন শত্রুমুক্ত হয় চাঁদপুর ও কুমিল্লা। পাক বাহিনী আশ্রয় নেয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে। মানচিত্রখচিত বাংলাদেশের পতাকা উড়তে শুরু করে কুমিল্লায়। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে মিত্রবাহিনী বিমান হামলা চালায়।



বিভিন্ন রণাঙ্গনে সম্মিলিত বাহিনীর অগ্রাভিযান অব্যাহত থাকে। হিলি, সুনামগঞ্জ, ছাতক, জয়ন্তিয়াপুর, লালমনিরহাট, দুর্গাপুর, হালুয়াঘাট ও আখাউড়ায় তীব্র সংঘর্ষ চলে। ঢাকায় মিত্রবাহিনী ১০ বার বিমান হামলা চালায় আজকের এই দিনে। হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনাগুলো। ঢাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সারাদেশেই পাক হানাদাররা বিচ্ছিন্ন ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। আকাশ ও স্থলে শাণিত আক্রমণে দিশাহারা পাক সৈন্যরা। লাখো প্রাণ আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে একটি নতুন রাষ্ট্রের আলো ছড়াতে শুরু করে। স্বাধীন হয়ে উঠতে শুরু করে বাংলার অবারিত প্রান্তর। পূর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ নিতে মরিয়া মুক্তিপাগল বাংলার দামাল ছেলেরা।

লেখকঃ সাংবাদিক, কলামিস্ট


পিএনএস/দোজা/শাবী

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন