জাকাতের নামে দরিদ্রদের জীবন নিয়ে চরম তামাশা চলছে

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : জাকাত আরবি শব্দ। জাকাতের আভিধানিক অর্থ : পূত-পবিত্রতা, পরিশুদ্ধি-পরিচ্ছন্নতা, সুচিন্তা এবং প্রবৃদ্ধি ক্রমবৃদ্ধি। যে ব্যক্তি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা সাড়ে সাত তোলা সোনা কিংবা এ পরিমাণ টাকার মালিক হয় এবং তার কাছে ওই পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক বছর স্থায়ী থাকে, তার উপর জাকাত ফরজ।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার সম্পদের জাকাত দেয়, সে তার সম্পদের দোষ দূর করে।’ মহানবী অন্য আরেক জায়গায় বলেছেন, ‘জাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধন’। শান্তির ধর্ম ইসলামে জাকাতের গুরুত্ব অত্যধিক। জাকাতের নামে আজ আমাদের দেশ ও সমাজে একধরনের অরাজকতা চলছে আর ঘটছে, তা জাকাতের মূল চেতনার পরিপন্থী।

জাকাতের নামে মানুষ হত্যার মিছিল চলছে। জাকাত দেওয়ার নামে কবছর পর পর হত্যাকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে এক মহল। ঘটা করে কাপড় বিতরণের নামে এসব করা হচ্ছে। আমাদের দেশে ও সমাজে দরিদ্র কতটা প্রকট, এসব জায়গায় একটি কাপড়ের জন্য গিয়ে জীবন হারানোর ঘটনা তার বড় প্রমাণ। মানুষ হত্যার মতো ঘটনা অবসানে কার্যকর উদ্যোগ নেই।

জাকাতের নামে মুই কী অনুরে প্রমাণে ব্যক্তিবিশেষ ঘটা করে কিছু শাড়ি, লুঙ্গি বা টাকা বিতরণের নামে অবাধে মানুষ হত্যা করে আসছে। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় সমাজে জীবনহানির মতো দুঃখজনক ঘটনা বাড়ছে। সর্বশেষ চট্টগ্রামে ১১ জনের প্রাণহানির পর ঘটনার মূল নায়ক অর্থাৎ জাকাতদাতাকে দূরে রেখে একটি মামলা হয়েছে। যেখানে আগাছা-পরগাছাদের আসামী করা হয়েছে। এভাবে মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

জাকাত নিয়ে উপহাসের মতো একটি ঘটনা প্রায়ই বিবেকবানদের দৃষ্টি কাড়ে। আর সেটি হলো জাকাতের শাড়ি, লুঙ্গি। জাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি হিসেবে বিভিন্ন মার্কেটে যে কাপড়গুলো বিক্রির জন্য আনা হয়, সেগুলো খুবই নিম্নমানের। অনেকটা মশারির মতো। এ কাপড়গুলো সমাজের কথিত জাকাতদাতার রুচির পরিচয় বহন করে বৈকি।

যে বা যারা এমন কাপড় জাকাত হিসেবে দেয়, তারা দরিদ্র মোছনের পরিবর্তে দরিদ্রদের সঙ্গে উপহাস করে বৈকি। জাকাত মূলত দারিদ্র্য বিমোছনের জন্য দেওয়া। শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে তো দারিদ্র্য বিমোছন করা যাবে না। এটা দিতে হবে দেখে দেখে, বেছে বেছে ওইসব মানুষকে, যারা এর প্রকৃত হকদার। যারা তা পেয়ে নিজের অভাব ও দারিদ্র্য সর্বোপরি ঋণ পরিশোধে সক্ষম হবেন।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সূরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘জাকাত তো শুধু (১) দরিদ্র, (২) অক্ষম, (৩) যাকাত ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মচারী, (৪) যাদের মন জয় করা প্রয়োজন, (৫) মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্যে, (৬) ঋণে জর্জরিত অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্যে, (৭) আল্লাহর পথে (জনকল্যাণমূলক কাজ, ধর্মপ্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে) এবং (৮) মুসাফিরদের জন্যে ব্যয় করা যাবে। (যাকাতের অর্থ ব্যয়ে) এটাই আল্লাহর বিধান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’

জাকাত নিজ ইচ্ছেমতো যাকে-তাকে যা-তা দিলে আদায় হবে না। উল্লিখিতদের মধ্যে জানত হবে, তার কী মূল সমস্যা- সে আলোকে বস্তু, সম্পদ বা অর্থ দেওয়া উত্তম। আর সেটা প্রকাশ্যে না হয়ে গোপনে হওয়াই অধিক শ্রেয়। জাকাত দেওয়ার নামে সমাজে নিজের প্রতিপত্তি জাহির করতে গিয়ে অপরিণামদর্শীরা দরিদ্র মানুষের জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে ছিনিমিনি খেলে পার পেয়ে যাচ্ছে। যারা এটা করছে, তারা মূলত সম্পদের দোষ-ত্রুটি দূর করার নামে দুনিয়া-আখেরাতে নিজেদের মহাপাপির তালিকাভুক্ত করছে।

লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএসএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech